মঙ্গলবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:
GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

মঙ্গলবার GBP/USD পেয়ারেরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সাথে ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে, কিন্তু তা কেবল স্বল্প সময়ের জন্য। সকালে যুক্তরাজ্যে বেকারত্ব, প্রাথমিক বেকারভাতার আবেদন এবং বেতন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফলকে নেতিবাচক বলা যাবে না, তবে সেগুলো ইতিবাচকও ছিল না। আমাদের মতে, এই প্রতিবেদনগুলোর প্রভাবে পাউন্ডের দর বৃদ্ধির প্রবণতা সীমিত হয়েছে। ইউরোর ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি, তাই EUR/USD পেয়ারের মূল্য অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য যে, নভেম্বর মাসে যুক্তরাজ্যের বেকারত্ব হার অপরিবর্তিত থেকে ৫.১%-এ রয়ে গেছে। নতুন বেকার ব্যক্তির সংখ্যা ছিল 18,000, যা পূর্বাভাসের চেয়েও কম। বেতন বৃদ্ধির হার ৪.৭% ছিল, যা পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি। সামগ্রিকভাবে দেশটির শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল পাউন্ডের ক্রেতাদের নিরুৎসাহিত করেছিল, তবু পাউন্ডের মূল্য ডিসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইন ব্রেক করে সার্বিক প্রবণতাকে বুলিশে রূপান্তরিত করেছে। এখন মূল বিষয় হচ্ছে ইউরো পেয়ারের মূল্য সাত মাসব্যাপী দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জ থেকে বেরিয়ে আসবে কিনা। যদি ইউরো মূল্যের 2025 সালে পরিলক্ষিত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হয়, তাহলে পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়াও অনেক সহজ হবে।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

5-মিনিটের টাইমফ্রেমে তিনটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। সকালে এই পেয়ারের মূল্য 1.3437–1.3446 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করেছিল, কিন্তু সেই সিগন্যাল ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং তখন ট্রেড করা উচিত ছিল না, কারণ ঐ সময় যুক্তরাজ্যের বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর একটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, এবং মার্কিন সেশন শুরুতে আরেকটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়। উভয় ক্ষেত্রেই এই পেয়ারের মূল্য কয়েক ডজন পিপস বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই এই ট্রেডগুলোতে লোকসান হওয়ার কথা নয়, এবং কেবলমাত্র যদি ট্রেডগুলো ম্যানুয়ালি ক্লোজ করা হতো তখনই মুনাফা করা যেত।
বুধবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, তাই আগামী কয়েক সপ্তাহে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যেতে পারে। মধ্যমেয়াদে ডলারের শক্তিশালী হওয়ার জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না, তাই 2026 সালে আমরা কেবল এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রত্যাশা করছি। সামগ্রিকভাবে, আমরা 2025 সালে পরিলক্ষিত বৈশ্বিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হবে বলে আশা করছি, যা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই পেয়ারের মূল্যকে 1.4000 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত নীতিমালাই মার্কিন ডলারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বুধবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3437–1.3446 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3319–1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। 1.3437–1.3446 এরিয়ার ওপরে কনসোলিডেশন নতুন লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ পাওয়া যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3529–1.3543-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য গুরত্বপূর্ণ লেভেলসমূহ: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3203–1.3212, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3437–1.3446, 1.3529–1.3543, 1.3574–1.3590, 1.3643–1.3652, 1.3682, 1.3763। বুধবার যুক্তরাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা ইউরোপীয় সেশনের সময় পাউন্ডের মূল্যের মুভমেন্ট নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। দুপুরের পর থেকে তেমন কোনো বড় ইভেন্ট নির্ধারিত নেই, তবে গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত যেকোনো সংবাদ নতুন করে ডলার বিক্রির প্রবণতা সৃষ্টি করতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
