বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:
EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

বৃহস্পতিবার EUR/USD পেয়ারের মূল্যের দুর্বল মাত্রার নিম্নমুখী কারেকশন অব্যাহত ছিল, যা গত কয়েক সপ্তাহের তীব্র মূল্য বৃদ্ধির পর ঘটেছে। গতকাল মার্কেটে মৌলিক অর্থনৈতিক পটভূমির প্রভাব খুব একটা পরিলক্ষিত হয়নি, এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছুদিন পর প্রথমবারের মতো নতুন কোনো শুল্ক আরোপ করেননি, কোনো সামরিক অভিযান শুরু করেননি বা কাউকে হুমকি-ধামকিও দেননি। ফলশ্রুতিতে, গত পরশু ফেডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত মার্কেটে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে ফেড কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়নি বা ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতিতে কোনো পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেয়নি, তাই ট্রেডারদের প্রতিক্রিয়া জানানোর মতো কিছুই ছিল না। তবুও আগামী ২৪–৪৮ ঘন্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালাতে পারে। বর্তমানে ইরানের উপকূলের কাছে একটি বড় মার্কিন বিমানবাহী নৌবহর অবস্থান করছে, যা একবারে প্রায় 300 টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে সক্ষম। সম্ভবত ইরান পারমাণবিক চুক্তি চূড়ান্ত করতে অস্বীকৃতি জানানোয় ওয়াশিংটন শীঘ্রই তেহরান ও অন্যান্য শহরের ওপর হামলা চালাবে। সেই কারণে মার্কেটের স্থিতিশীল পরিস্থিতি স্পষ্টতই অস্থায়ী হতে পারে।
EUR/USD 5M পেয়ারের চার্ট

বৃহস্পতিবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে বেশ কয়েকটি কার্যকর ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1970-1.1980 এরিয়া থেকে তিনবার বাউন্স করেছে এবং শেষ পর্যন্ত নিকটতম লক্ষ্যমাত্রা 1.1908-এ পৌঁছায়। এই তিনটির মধ্যে শেষ দুইটি বাউন্সের ফলে গঠিত সিগন্যাল নতুন ট্রেডাররাও কাজে লাগাতে পারত। 1.1908 লেভেল থেকে সংঘটিত বাউন্সটি নিখুঁত ছিল, যা লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ করে দিয়েছিল। দিনের শেষে এই পেয়ারের মূল্য আবার 1.1970-1.1980 এরিয়ায় ফিরে আসে এবং তৎক্ষণাৎ পুনরায় বাউন্স করে।
শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। সোমবার রাতে এই পেয়ারের মূল্য 1.1800-1.1830 এরিয়ার উপরে এবং মূলত 1.1400-1.1830 রেঞ্জের উপরে কনসোলিডেট করায় সাত মাসব্যাপী দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জ থেকে বেরিয়ে এসেছে বলে ধরা হচ্ছে। মার্কিন ডলারের জন্য সামগ্রিক মৌলিক এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পটভূমি এখনও বেশ নেতিবাচক রয়ে গেছে, তাই আমরা ইউরোর আরও দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি।
শুক্রবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1908 লেভেল থেকে বাউন্স করলে নতুন ট্রেডাররা নতুন লং পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1970-1.1980 এবং 1.2044-1.2056-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1908-এর নিচে কনসোলিডেট করে তাহলে শর্ট পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানের মূল্যের 1.1830-1.1837-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলসমূহ বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1550, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1908, 1.1970-1.1988, 1.2044-1.2056, 1.2092-1.2104। আজ জার্মানিতে বেকারত্বের হার, গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। ইউরোজোনে গত বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিক প্রান্তিকের জিডিপি সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদক মূল্য সূচক (PPI) প্রকাশিত হবে। এসব প্রতিবেদনের প্রভাবে মার্কেটে তুলনামূলকভাবে সংযত প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। একইসাথে রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
