সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা:

মঙ্গলবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন হলো মার্কিন খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন। পাশাপাশি ADP শ্রমবাজার সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তবে ট্রেডারদের মনে করিয়ে দিতে চাই যে সম্প্রতি প্রতিবেদনটি সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত মাসিক ADP প্রতিবেদনে অত্যন্ত দুর্বল ফলাফল পরিলক্ষিত হয়। ফলে বুধবার প্রকাশিতব্য ননফার্ম পেরোল এবং বেকারত্বের হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:

মঙ্গলবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভের কয়েকজন কর্মকর্তার বক্তব্য উল্লেখযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায়। তবে আমাদের মতামত অনুসারে, মুদ্রাস্ফীতি, শ্রমবাজার ও বেকারত্ব সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ফেডের অবস্থানের পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফেড বর্তমানে মূল সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে চাচ্ছে, যাতে তিনবার সুদের হার কমানোর প্রভাবগুলো পুরোপুরিভাবে বাস্তবে প্রতিফলিত হতে পারে। ফলে শুধুমাত্র শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হলে বা মুদ্রাস্ফীতির হার হ্রাস পেলে ফেড সম্ভবত নতুন করে আর্থিক নীতিমালা নমনীয় করার ইঙ্গিত দিতে পারে। ফেড নীতিমালা নমনীয় না করলেও মার্কিন ডলারের পরিস্থিতি বেশ চ্যালেঞ্জিং রয়েছে।
উপসংহার:
সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারেরই খুব শান্তভাবে ট্রেড করা হতে পারে, কারণ আজ তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট নেই। ইউরো 1.1899-1.1908 রেঞ্জে ট্রেড করা যেতে পারে, এবং পাউন্ড স্টার্লিং 1.3643-1.3652 রেঞ্জে ট্রেড করা পারে। সারাদিন জুড়ে উভয় পেয়ারের মূল্যের দুর্বল উত্থান-পতন দেখা যেতে পারে, তবে এই সপ্তাহে উভয় পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
