ইউরো, পাউন্ড স্টারলিং এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলো মার্কিন ডলারের বিপরীতে দরপতন কিছুটা পুষিয়ে নিয়েছে—তবুও আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করেছেন যে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য একটি পরীক্ষা হবে এবং বিভিন্ন ধরনের ও মাত্রার নতুন অস্থিরতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

জর্জিয়েভা জোর দিয়ে বলেছেন যে আধুনিক বাজার, সরবরাহ শৃঙ্খল ও আর্থিক ব্যবস্থার আন্তঃসংযোগ একটি স্থানীয় সংকটকে বৈশ্বিক অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত করেছে। পূর্ববর্তী অস্থিরতার পরে যে স্থিতিশীলতার কথা বারবার বলা হত, এবার তা বাস্তবে "অগ্নিরূপ" ধারণ করেছে। তার বক্তব্যের সবচেয়ে উদ্বেগজনক অংশ ছিল ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ম্লান পূর্বাভাস—বিশ্বকে চলমান অস্থিরতার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই অস্থিরতার রূপ পরিবর্তনশীল হতে পারে—গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সাইবার আক্রমণ থেকে শুরু করে প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থার আর্থিক নীতিমালার হঠাৎ পরিবর্তন, দারিদ্রপীড়িত অঞ্চলে খাদ্য সংকট থেকে নতুন সমস্যা হিসেবে জোরপূর্বক অভিবাসন পুরো মহাদেশকে অস্থির করে তুলতে পারে।
তার এই সতর্কবাণী কেবল ঝুঁকিপূর্ণ বিবৃতি ছিল না—এটি সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান ছিল। জর্জিয়েভা মানবিক সংকটের ব্যাপারেও উদ্বেগ প্রকাশ করে উল্লেখ করেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি মূল্য, বাজার পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতিকে প্রভাবিত করবে এবং বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারকদের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি সম্মেলনে বলেন, "আমরা এমন একটি বিশ্বে বাস করছি যেখানে ক্রমবর্ধমানভাবে অপ্রত্যাশিত অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা সেগুলো কেমন হবে সঠিকভাবে সেই পূর্বাভাস দিতে পারি না। তবে আমরা সবসময় তাদের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত থাকার চেষ্টা করতে পারি।"
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ হরমুজ প্রণালীতে পরিবহন ও তেল প্রবাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি মুদ্রাস্ফীতি উসকে দিয়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আরেকটি বিষয় হলো শুল্ক সংক্রান্ত অস্থিরতা, যে ব্যাপারে জর্জিয়েভা গত মাসে সতর্ক করেছেন যে এমনকি এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকেও ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
এ পর্যন্ত জানুয়ারিতে আইএমএফ ২০২৬ সালের জন্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস 3.3% ও পরবর্তী বছরের জন্য 3.2% পর্যন্ত বাড়িয়েছিল।
EUR/USD-এর টেকনিক্যাল পূর্বাভাস
ক্রেতাদের এখন এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1635 লেভেলে নিয়ে যেতে হবে। কেবল তা হলে 1.1670 লেভেল টেস্ট করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। সেখান থেকে এই পেয়ারের মূল্য 1.1710 পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, কিন্তু বড় ট্রেডারদের সহায়তা ছাড়া তা করা কঠিন হবে। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.1745 লেভেল নির্ধারণ করা যায়। নিম্নমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে, সম্ভবত কেবল মূল্য 1.1590-এর কাছাকাছি থাকা অবস্থায় ক্রেতারা সক্রিয় হতে পারে। যদি সেখানে ক্রেতারা সক্রিয় না হয়, তবে 1.1550-এ নতুন করে দরপতনের জন্য অপেক্ষা করা যুক্তিযুক্ত হবে অথবা 1.1525 থেকে লং পজিশন ওপেন করা যায়।
GBP/USD-এর টেকনিক্যাল পূর্বাভাস
পাউন্ড ক্রেতাদের এটির মূল্যকে নিকটতম রেজিস্টেন্স 1.3350-এ নিয়ে যেতে হবে। কেবল তাহলেই 1.3380-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যাবে; যা অতিক্রম করা আরও কঠিন হবে। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3420 লেভেল নির্ধারণ করা যায়। নিম্নমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে এই পেয়ারের মূল্য 1.3300 লেভেলে থাকা অবস্থায়ব বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে ওই রেঞ্জ ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3255 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে 1.3215 পর্যন্ত আরও দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।
