গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরেকবার ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটে অনিশ্চয়তার একটি উপাদান যোগ করায় এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতের দ্রুত সমাপ্তির বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করায় মার্কিন ডলারের দর তীব্রভাবে হ্রাস পায়। তিনি এই সংঘাতের সমাপ্তির বিষয়ে বললেও এখনও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি এবং চলমান অভিযান নির্ধারণ সময়সূচির আগেই ঘটছে বলে উল্লেখ করেছেন।

মার্কেটে এটি ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাসের সংকেত হিসেবে গ্রহণ করা হলেও, মার্কিন প্রশাসনের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্পর্কিত অনিশ্চয়তা অস্থিরতাও সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের হঠকারি বিবৃতিতে অভ্যস্ত ট্রেডাররা তাঁর কথার প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন করতে গিয়ে ঝামেলার মধ্যে পড়ে। সম্ভাব্য বাণিজ্য সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ ও ঝুঁকি হ্রাসের প্রত্যাশায় ডলারের দরপতন ঘটেছে, যা ঐতিহ্যগতভাবে অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের মূল্য বৃদ্ধি প্রবণতাকে প্ররোচিত করে।
তবে হোয়াইট হাউস থেকে স্পষ্ট বিবরণ বা নির্দিষ্ট পদক্ষেপের অভাব বিভিন্ন ব্যাখ্যার সুযোগ রেখে যায়। এই পরিস্থিতিতে কারেন্সি মার্কেটের ট্রেডাররা স্পষ্টভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। ট্রেডাররা এমন দেশগুলোর কারেন্সিগুলোর দিকে মনোযোগী হচ্ছে যাদের অর্থনীতি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা হ্রাসে উপকৃত হতে পারে, যেমন ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ড। এটি বেশ পূর্বাভাসযোগ্য ও স্থিতিশীল বিনিয়োগ পরিবেশের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে, যা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
তেলের দর অবিলম্বে প্রভাবিত হয়েছে এবং ব্যারেলপ্রতি $90-এর নিচে নেমে যায়। এটি এমন সময় ঘটেছে যখন ব্রেন্টের দর গতকাল সকালে $119.50-এ পৌঁছেছিল। আগেই G7 জোটভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রীরা জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছিল—সম্ভাব্যভাবে কৌশলগত মজুদ থেকে তেল ছাড়ার ধারণাও আলোচিত হয়েছে—তবে তারা তা অবিলম্বে প্রয়োগের জন্য এখনও তৈরি নয় বলে উল্লেখ করেছিল।
সেইসাথে, চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকার পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক প্রেস কনফারেন্সে আলোচনা করেছেন যে মার্কিন নেভি জাহাজগুলো তেলের ট্যাঙ্কারগুলোকে সঙ্গ দেয়ার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। এই প্রস্তাবের লক্ষ্য হচ্ছে তেল সরবরাহে আরোপিত সীমাবদ্ধতা কিছুটা শিথিল করা।
EUR/USD-এর বর্তমান টেকনিকাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদেরকে এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1630 লেভেলে নিয়ে যেতে হবে। কেবল তাহলে তারা এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1670-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে নিয়ে যেঁতে পারবে। সেখান থেকে 1.1705 পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে, তবে বড় ট্রেডারদের সহায়তা ছাড়া এটি করা যথেষ্ট কঠিন হবে। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.1745-এর লেভেল নির্ধারণ করা যায়। যদি এই ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্টের মূল্য প্রায় 1.1590-এ নেমে আসে, তাহলে আমি বড় ক্রেতাদের সক্রিয় হওয়ার প্রত্যাশা করছি। তারা সক্রিয় না হলে এই পেয়ারেরম ঊল্য 1.1550-এ নেমে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা বা 1.1510 থেকে লং পজিশন ওপেন করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
GBP/USD-এর বর্তমান টেকনিকাল চিত্র অনুযায়ী, পাউন্ডের ক্রেতাদের এটির মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স লেভেল 1.3440-এ নিয়ে যেঁতে হবে। তবেই তারা এই পেয়ারের মূল্যকে 1.3480-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে নিয়ে যেতে পারবে; যা ব্রেকআউট করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হবে। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3520 এরিয়া নির্ধারণ করা যায়। নিম্নমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে সম্ভবত মূল্য 1.3406-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের জন্য বড় ধরনের আঘাত হবে এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3374-এ নেমে যেঁতে পারে, যার ফলে 1.3340 পর্যন্ত দরপতন হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
