তেলের মূল্য মৌলিক প্রেক্ষাপটের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল রয়ে গেছে, যেখানে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি ও সরকারি পদক্ষেপ তেলের মূল্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে। গত মঙ্গলবার তেলের দর ব্যারেলপ্রতি $90 লেভেলের নিচে নেমে যায়। প্রধানত কৌশলগত মজুদ থেকে তেল ছাড়ার সম্ভাবনার প্রতিবেদনের প্রভাবে এই দরপতন ঘটেছিল। মূল্যস্ফীতির বৃদ্ধি রোধ করছে এবং সাম্প্রতিক অস্থিরতায় ক্লান্ত মার্কেটের ট্রেডারদের শান্ত করার লক্ষ্যে গৃহীত এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তেলের মূল্যের তীব্র ওঠানামা থামিয়ে স্থিতিশীলতা নিয়ে আসা।

আন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সি (IEA) কৌশলগত মজুদ থেকে 2022 সালে থেকে সঞ্চিত থাকা প্রায় 182 মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল বাজারে ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল।
তবে এই দরপতন দীর্ঘস্থায়ী ছিল না। গতরাতে ইরানের সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আচমকা বদলে যায়। তেল পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন করার পরিলক্ষিত সম্পর্কে বিবৃতির ফলে মার্কেটে আবার অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয় এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায়। মনে রাখতে হবে হরমুজ প্রণালী কেবল কোনো সমুদ্রপথ নয়; এটি বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এবং এটি বন্ধ হলে বা যেকোনো নিরাপত্তা হুমকি সরবরাহ বিঘ্নতার আশঙ্কায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে তেলের দাম বাড়ায়।
এই বিষয়টি আধুনিক জ্বালানি খাতের ভঙ্গুর ভারসাম্যকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে। একদিকে জ্বালানি মূল্য স্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে মার্কেট বা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় মজুদ থেকে তেল ছাড়ার মতো প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে, যে পদক্ষেপ বাড়তি চাহিদা মেটানো এবং মুদ্রাস্ফীতি রোধের উদ্দেশ্যে নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সবসময়েই অনিশ্চিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে যা হঠাৎ করেই পরিস্থিতিকে স্থিতিশীলও করার প্রচেষ্টাকে বিফল করে দিতে পারে।
তবে মনে রাখা উচিত যে জ্বালানি মূল্যের তীব্র বৃদ্ধির প্রধান কারণ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের ওপর করা হামলা। যদি নিকট ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের মাত্রা যুদ্ধ-পূর্ব স্তরে দ্রুত ফিরিয়ে না আনা যায়, তেলের মূল্য উচ্চস্তরেরি থাকবে এবং পুনরায় বাড়তেও পারে। কৌশলগত মজুদ থেকে তেল ছাড়ের মাধ্যমে মূল্যকে স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা কেবল সাময়িকভাবে ফল দিতে পারে, যদি না মূল্যের ওঠানামার মূল কারণগুলোর — ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরবরাহ বিঘ্নতা — সমাধান করা হয়।

বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $86.67 অতিক্রম করাতে হবে। এতে তারা মূল্যকে $92.54-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে নিয়ে যেতে পারবে, যার অতিক্রম করানো যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হবে। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে তেলের মূল্যের ব্যারেল প্রতি $100.40-এর এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। তেলের দরপতনের ক্ষেত্রে, মূল্য $81.38-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের লিকুইডেশনের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং তেলের মূল্য $74.85 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, এমনকি $67.77 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
