গতকালের তীব্র দরপতন কাটিয়ে তেলের মূল্য আবার বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ব্যাপ্তি বাড়তে পারে এমন নতুন উদ্বেগের পর এই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তেলের বাজারদরকে প্রভাবিত করে চলেছে। বিনিয়োগকারীরা সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার ও সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাতের আশঙ্কায় আবারও তাঁদের পোর্টফোলিও সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করছেন, যার ফলে কাঁচামাল—বিশেষত তেলের—চাহিদা বাড়ছে।

গতকালের দরপতনকে একটি অস্থায়ী কারেকশন হিসেবে বিবেচনা করা যায়, যা ইরান নিয়ে ট্রাম্পের বিবৃতির কারণে ঘটেছে—যা মূলত জ্বালানির দাম কমানোর উদ্দেশ্যে দেয়া হয়েছে বলে মনে হয়, এবং এটি প্রকৃত মৌলিক কারণ নয়। লক্ষ্যণীয় যে এসব মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার কথা ইরান এখনও স্বীকার করেনি। আজ তেলের মূল্যের উত্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে যে সরবরাহ নিরাপত্তা সংক্রান্ত মৌলিক কারণগুলো স্বল্পমেয়াদে তেলের বাজারদরের ওঠা-নামা নিয়ন্ত্রণ করছে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো যদি অন্যান্য অভিজাত উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে—বিশেষত যারা বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে বড় ভূমিকা পালন করে—তবে তেল উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে, যা মার্কেটে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে ও তেলের মূল্যের ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি ঘটাতে পারে।
সোমবার 11% দরপতনের পর বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেল প্রতি প্রায় $103 লেভেলের কাছে অবস্থান করছে। আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েড (WTI) তেলের দর প্রায় 3% বেড়েছে।
আমি আগেও উল্লেখ করেছি যে যেসব দেশ চলমান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হতে পারে তার মধ্যে সৌদি আরবও রয়েছে, যেখানে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যদি অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোও যদি সংঘাতে লিপ্ত হয়, তাহলে তা চলমান উত্তেজনার আরও বৃদ্ধির ইঙ্গিত হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েয়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ থেকে উদ্ভূত আশঙ্কার মধ্যে এই মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দর 40%-এর বেশি বাড়েছে—যা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে উদ্দীপিত করছে এবং মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত করতে পারে। চলমান যুদ্ধ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনকে জটিল করে তুলেছে, ফলে উপসাগরীয় উৎপাদনকারী দেশগুলো দৈনিক মিলিয়ন ব্যারেল করে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। ডিজেল ও এভিয়েশন ফুয়েলের মতো তেলজাত পণ্যগুলোর মূল্য কাঁচা তেলের চেয়েও বেশি বেড়েছে, যা ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে ও সরকারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

টেকনিক্যাল দিক থেকে, বর্তমানে ক্রেতাদের এই ইন্সট্রুমেন্টের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $92.54-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এটি $100.40-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করে দেবে—যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে। সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে প্রায় $106.83-এর আশেপাশের লেভেল বিবেচনা করা যায়। তেলের দরপতনের ক্ষেত্রে মূল্য $86.67-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে; যদি তারা সফল হয় এবং ওই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হয়, তাহলে এটি বুলিশ পজিশনগুলোর জন্য গুরুতর আঘাত হয়ে তেলের মূল্য $81.38 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে এবং সম্ভাব্যভাবে $74.85 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।
