logo

FX.co ★ ৩১ মার্চ কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

৩১ মার্চ কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

সোমবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

৩১ মার্চ কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

সোমবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যেরও নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। গতকাল মার্কেটে সামষ্টিক-অর্থনৈতিক পটভূমির প্রভাব অনুপস্থিত ছিল; অতএব ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য অথবা সেরকম বক্তব্যের অনুপস্থিতিতেই এই পেয়ারের সাম্প্রতিক দরপতনটি ঘটে থাকতে পারে, কারণ বর্তমানে মার্কেটে ডলার ক্রয়ের জন্য কোনো জোরালো কারণের প্রয়োজন পড়ছে না। ট্রেডাররা খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রত্যাশায় করছেন যেখানে ইরানের তেলের 90% রপ্তানি করা হয়, সেইসাথে তাঁরা বাব-আল-মান্ডাব প্রণালী বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনার অপেক্ষায় আছেন, এবং যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে অন্য কিছুর প্রত্যাশা করছেন। সুতরাং ডলারের দর স্থিতিশীলভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ট্রেডাররা অন্যান্য বিষয় ব্যাপকভাবে উপেক্ষা করায় এতে আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছু নেই। প্রযুক্তিগতভাবে, গত শুক্রবার এই পেয়ারের মূল্য অ্যাসেন্ডিং ট্রেন্ড লাইন ব্রেক করে নিম্নমুখী হয়েছিল, তাই বর্তমান দরপতন পুরোপুরি যৌক্তিক ছিল। সমস্যা হল আমরা এখনও ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের কোনো উল্লেখযোগ্য উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখতে পাইনি। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড আগামী মাসে মূল্য হার বাড়ানোর জন্য প্রস্তুত থাকলেও মার্কিন সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল এখনও বেশ দুর্বল রয়ে গেছে।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

৩১ মার্চ কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ


সোমবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে তিনটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। প্রথমে এই পেয়ারের মূল্য 1.3259-1.3267 এরিয়াকে ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হয়, কিন্তু বাই সিগন্যালটি ভুল প্রমাণিত হয় এবং এই পেয়ার দরপতনের সম্মুখীন হয়। পরে একই এরিয়ায় একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়, যার ফলে এই পেয়ারের মূল্য প্রথমে 1.3203-1.3212 রেঞ্জে নেমে যায় এবং তারপর এই লেভেলটি ব্রেক করে নিম্নমুখী হয়। অতএব দ্বিতীয় সিগন্যালের মাধ্যমে নতুন ট্রেডাররা প্রায় 60 পিপস মুনাফা করতে পারত।


মঙ্গলবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের সাম্প্রতিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতার সমাপ্তি ঘটেছে। মধ্যমেয়াদে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো কারণ নেই, তাই ২০২৬ সালে আমরা ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া এই পেয়ারের মূল্য বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় চালু হওয়ার প্রত্যাশা করছি। তবে এজন্য বিশ্বব্যাপী চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস পেতে শুরু হওয়া প্রয়োজন, কারণ বর্তমানে মূলত ভূ-রাজনৈতিক কারণেই মার্কিন ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মঙ্গলবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3203-1.3212 এরিয়ার কাছ থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার কথা ভাবতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3096-1.3107 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3203-1.3212 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেট করে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করে মূল্যের 1.3259-1.3267-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3096-1.3107, 1.3203-1.3212, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। আজ যুক্তরাজ্যে গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের জিডিপির তৃতীয় অনুমান প্রকাশ করা হবে, এবং যুক্তরাষ্ট্রে JOLTs থেকে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। যদিও এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল বেশ গুরুত্বপূর্ণ, তবুও ট্রেডাররা হয়তো এগুলো উপেক্ষা করবে। এবং এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল নিশ্চিতভাবেই এই পেয়ারের মূল্যের সামগ্রিক প্রবণতাকে প্রভাবিত করবে না।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account