logo

FX.co ★ মার্কিন ডলারের ব্যাপক দরপতন হয়েছে — এবং এর কারণগুলো জেনে নিন

মার্কিন ডলারের ব্যাপক দরপতন হয়েছে — এবং এর কারণগুলো জেনে নিন

আজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর মার্কিন ডলার তীব্র দরপতনের শিকার হয়। অনিশ্চিত কিন্তু সফল এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলশ্রুতিতে সারা বিশ্বের ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটে তৎক্ষণাৎ এই প্রভাব প্রতিফলিত হয়। কারেন্সি ট্রেডার ও বিনিয়োগকারীরা এই ঘটনাবলী ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং যুদ্ধবিরতির সংবাদটি তীব্র মুভমেন্ট সৃষ্টির অনুঘটকের ভূমিকা পালন করছে।

মার্কিন ডলারের ব্যাপক দরপতন হয়েছে — এবং এর কারণগুলো জেনে নিন

এরপর ইরান জানায় যে যুদ্ধবিরতির চুক্তির ফলে দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের যোগান বাড়াতে সহায়ক হবে। এই আশ্বাস মার্কিন ডলারের দরপতনের একটি মূল কারণ হিসেবে কাজ করে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনার কারণে তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর দিকে ঘনিষ্ঠ নজর ছিল।

আশানুরূপভাবে তেল সরবরাহ বাড়লে জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল হওয়ার ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমার প্রত্যাশা তৈরি হয়, যা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত কারেন্সিগুলো—যেমন মার্কিন ডলারের—উপর চাপ সৃষ্টি করে। ঝুঁকি গ্রহণ ও উচ্চ রিটার্নের প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা এখন তুলনামূলকভাবে স্বল্প ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত অ্যাসেটের প্রতি আস্থা দেখাচ্ছেন, ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পুঁজি বেরিয়ে অন্য মার্কেটে যাচ্ছে।

মার্কিন ডলার সূচক 0.9% কমে চার সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে, কারণ যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলে ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ডেরও পতন ঘটে এবং মার্কিন ডলারের চাহিদা আরও কমে যায়। মার্কিন ডলার সেই কারেন্সিগুলোর বিপরীতে সবচেয়ে বেশী দুর্বল হয় যা ঝুঁকির প্রতি সংবেদনশীল—উদাহরণস্বরূপ ইউরো এবং ব্রিটিশ পাউন্ড। যুদ্ধবিরতির খবরের পর চীনের ইউয়ানের দর মার্কিন ডলারের বিপরীতে তিন বছরের উচ্চতায় উঠে আসে। নিউজিল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবারের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর আলোচনা করছে—এই খবরের পর নিউজিল্যান্ড ডলারের দর আরও বৃদ্ধি পায়।

বর্তমানে মার্কেটে ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে—যা মার্কিন ডলারের উপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের দর বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে। বাস্তবিক অর্থেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ কি না এবং কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি হলেও বাস্তবে এই চুক্তি কতটা টেকসই হবে তার উপর মার্কেটের সার্বিক পরিস্থিতি নির্ভর করবে।

তারপরও, চুক্তির ইতিবাচক স্বরূপ থাকা সত্ত্বেও এর দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি অস্পষ্ট রয়ে গেছে। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুধুমাত্র সাময়িক বিশ্রামও হতে পারে, সংঘাতের পূর্ণ সমাধান নাও হতে পারে। অস্থিরতা বৃদ্ধির যেকোনো লক্ষণ দেখা গেলেই সংবেদনশীল ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটে দ্রুত তার প্রভাব পড়বে পরিস্থিতি, এবং নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি মার্কিন ডলারের দর দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

EUR/USD-এর বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1705 লেভেলে ফিরিয়ে নেওয়ার দিকে মনোযোগ উচিত। কেবল সেখানে পৌঁছালে এই পেয়ারের মূল্যের 1.1745 লেভেলে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এরপর এই পেয়ারের মূল্য সম্ভাব্যভাবে 1.1780 পর্যন্ত বাড়তে পারে, কিন্তু বড় ট্রেডারদের সমর্থন ছাড়া সেটি করা কঠিন হবে। সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.1810-এর লেভেল নির্ধারণ করা যায়। যদি ইনস্ট্রুমেন্টটির মূল্য প্রায় 1.1670-এ নেমে আসে, আমি আশা করছি বড় ক্রেতারা পদক্ষেপ নেবেন। সেখানে কেউ সক্রিয় না হলে এই পেয়ারের মূল্য 1.1635 পর্যন্ত নেমে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে অথবা 1.1600 থেকে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে।

GBP/USD-এর বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, পাউন্ড ক্রেতাদের এই পেয়ারের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স 1.3450 অতিক্রম করাতে হবে। কেবল তখনই এই পেয়ারের মূল্যের 1.3475 লেভেলে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে, যার ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে। সবচেয়ে দূরস্থ সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3520-এর লেভেল নির্ধারণ করা যায়। যদি এই পেয়ারের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য 1.3420-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবেন; তাঁরা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর মারাত্নক আঘাত হবে এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3390 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে এবং সম্ভাব্যভাবে 1.3370 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account