logo

FX.co ★ ৯ এপ্রিল কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

৯ এপ্রিল কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

৯ এপ্রিল কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবার EUR/USD পেয়ারের মূল্যের শক্তিশালী উর্ধ্বমুখী মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে, তবে বেশিরভাগ ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্ট এশীয় ট্রেডিং সেশনে ঘটেছে। গতকাল ডোনাল্ড ট্রাম্প আকস্মিকভাবে ইরানের সাথে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়ার পর মার্কিন ডলার ও তেল তীব্র দরপতনের শিকার হয়। কিন্তু দিনেরবেলা ইসরায়েল লেবাননে শতশত রকেট ছোড়ে এবং ইরানও বাহরাইন ও কুয়েতে হামলা—ফলে যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ট্রাম্পের পক্ষ থেকেও নতুন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই আজ ট্রেডাররা নতুন করে মার্কিন ডলার বিক্রির আগে দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় থাকতে পারেন, কারণ বর্তমান যুদ্ধবিরতি সাময়িক হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে। তবু ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের একটি জটিল উর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হতে শুরু করেছে, তবে ভবিষ্যতে এই পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা পুরোপুরিভাবে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করবে। যদি আজ দেখা যায় যে যুদ্ধবিরতি পন্ড হয়ে গিয়েছে, তাহলে এই পেয়ারের মূল্য ট্রেন্ড লাইনে ফিরে যেতে পারে।

EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

৯ এপ্রিল কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ


৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে সবগুলো ট্রেডিং সিগন্যাল বুধবার রাতের মধ্যে গঠিত হয়েছে। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনের শুরুর ঠিক আগে 1.1655-1.1666 এরিয়ার কাছ থেকে বাউন্সের ফলে শেষ বাই সিগন্যালটি গঠিত হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে উর্ধ্বমুখী মুভমেন্ট ম্লান হয়ে যায় এবং এই পেয়ারের মূল্য 1.1745-এর লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি। দিনের শেষে এই পেয়ারের মূল্য পুনরায় 1.1655-1.1666 রেঞ্জের মধ্যে ফিরে আসে।

বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে আবারও এই পেয়ারের মূল্যের উর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে, এবং পরবর্তী সকল মুভমেন্ট ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে। তবে মার্কেটের ট্রেডাররা এখনও কেবল মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও আবেগের ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করছে। সুতরাং মার্কেটের এই "রোলারকোস্টার" রাইড বা ব্যাপক ওঠানামা দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত থাকতে পারে, যেখানে সামষ্টিক, টেকনিক্যাল ও ফান্ডামেন্টাল বিষয়গুলোর গুরুত্ব সীমিত থাকবে। ট্রাম্প ক্রমাগত মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি বা দরপতন উভয়ই উস্কে দিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1655-1.1666 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1584-1.1591 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1655-1.1666 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.1745-1.1754 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267-1.1292, 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1899-1.1908। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র চতুর্থ প্রান্তিকের জিডিপির তৃতীয় আনুমানিক এবং কোর পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেনডিচার (PCE) সূচক প্রকাশিত হবে; সেইসাথে জার্মানিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন বা শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। আমরা ধারণা করছি মার্কেটের ট্রেডাররা আবারও ট্রাম্পের কাছ থেকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সম্পর্কিত যেকোনো খবরের জন্য অপেক্ষায় থাকবে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account