গতকাল কমোডিটি মার্কেটে জ্বালানি তেলের আরও দরপতন পরিলক্ষিত হয়েছে—যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় শান্তি আলোচনা আয়োজনে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক অগ্রগতির সরাসরি ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই কূটনৈতিক সফলতা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস করার প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে, যা পূর্বে তেলের মূল্য বৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি ছিল। মঙ্গলবার 4.6%-এর লক্ষণীয় দরপতনের পর বেরেন্ট ক্রুডের দর প্রতি ব্যারেল $95-এর ওপরে স্থিতিশীল হয়েছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (WTI) মূল্যেরও একই রকম প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে এটির মূল্য প্রতি ব্যারেল $91-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে।

চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ আগামী সপ্তাহে শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পুনরায় আলোচনা শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্রুতই এই আলোচনার সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদী সমাধান অর্জনের আগ্রহ প্রতিফলিত করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শীঘ্রই পুনরায় আলোচনা শুরু হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, বলেছেন যে কয়েক দিনের মধ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের সমাধান প্রায় হয়ে গিয়েছে—ফলে তাঁর মতে জ্বালানি তেলের মূল্য আরও নিম্নমুখী হতে পারে।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির এই পরিবর্তন বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তেলের মূল্য হ্রাস —যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের একটি প্রধান সূচক—বেশ কয়েকটি ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। প্রথমত, এটি ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় কমাবে, ফলস্বরূপ ভোক্তা ব্যয় ও উৎপাদন কার্যক্রম ত্বরান্বিত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত হলে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি কমবে, ফলে জ্বালানি খাত স্থিতিশীল হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রবণতা সম্পর্কে আরও সঠিকভাবে পূর্বাভাস দেয়া যাবে।
অতঃপর যুক্তরাষ্ট্র ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান থেকে তেল রফতানি সীমিত করতে হরমুজ প্রণালীর অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে, ইরান মার্কিন বাঁধা এড়াতে এই সমুদ্রপথে তেলের চালান স্থগিত করার চিন্তা করছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পারস্য উপসাগরকে বৃহত্তর বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ইরান প্রায় সব ধরনের নৌযানের চলাচল বাধাগ্রস্থ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধটি বৈশ্বিক জ্বালানি খাতকে ব্যাপকভাবে অস্থিতিশীল করেছে এবং অভূতপূর্ব সরবরাহ বিভ্রাট সৃষ্টি হয়েছে। তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের—যেমন গ্যাসোলিনের—তীব্র মূল্য বৃদ্ধি ইতোমধ্যেই ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে এবং চাহিদা হ্রাস করছে; আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) এ বছর ভোগ্যপণ্য চাহিদার আরও পতনের পূর্বাভাস দিচ্ছে। যদিও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও ভৌত সরবরাহে কোনো উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধার বিলম্বিত হতে, ফলে তেলের দর দীর্ঘ সময় উচ্চ স্তরে থাকতে পারে।

যদি ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ঝুঁকি কমে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ধীরে ধীরে পুনরায় স্বাভাবিক হতে পারে—প্রাথমিকভাবে চার সপ্তাহে দৈনিক উৎপাদন স্তর প্রায় 2 থেকে 3 মিলিয়ন ব্যারেল পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা অনুমান করা হচ্ছে।
বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী—ক্রেতাদের তেলের মূল্যের নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $92.54 অতিক্রম করাতে হবে। এতে তেলের মূল্যের $100.40-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $106.83 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। তেলের দরপতনের ক্ষেত্রে মূল্য $86.67-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করবে। তাঁরা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $81.38 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে এবং পরবর্তীতে $74.85 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।
