logo

FX.co ★ হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন অপসারণ করতে ছয় মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে

হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন অপসারণ করতে ছয় মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে

তেহরান ও ওয়াশিংটন নতুন করে শান্তি আলোচনায় বসতে ব্যর্থ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ চলার ফলে জ্বালানি তেলের দর চারদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন অপসারণ করতে ছয় মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে

গত তিন ট্রেডিং সেশনে ব্রেন্ট ক্রুডের দর প্রায় 13% বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি $103-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে, আর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দর ব্যারেল প্রতি প্রায় $94-এর আশেপাশে অবস্থান করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বলেছিলেন যে 7 এপ্রিল যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে তা অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং ওয়াশিংটন ইরানের কাছ থেকে নতুন শান্তি প্রস্তাবের অপেক্ষায় রয়েছে।

ফেব্রুয়ারির শেষদিক থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জ্বালানি খাত ব্যাপকভাবে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীর প্রায় পুরোপুরিভাবে বন্ধ থাকায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর তেলের সরবরাহে তীব্র পতন ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগামী ও বন্দর ছেড়ে আসা জাহাজগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে, যা জ্বালানি তেলের মূল্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

এদিকে পেন্টাগনের এক নতুন মূল্যায়নে, যা হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটিতে ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থাপিত হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে সম্ভাব্য পরিণতির ব্যাপারে উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন অপসারণ কার্যক্রম শুরু হতে হলে তা সম্পন্ন করতে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে এবং যুদ্ধাবস্থা বন্ধ হওয়ার পরেই কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—এর মানে বিশ্ব বাণিজ্য প্রবাহ ও জ্বালানি খাতের অস্থিতিশীলতা এক থেকে দেড় বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর মাধ্যমে ইরান কার্যত বিশ্ব সম্প্রদায়কে একটি চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার সঙ্গে মাইন অপসারণ কাজ শুরু করার শর্ত একটি বিপজ্জনক প্রথা নিয়ে আসছে, যা এই কৌশলগত সমুদ্রপথটিকে আঞ্চলিক সংঘাতের বন্দী হিসেবে রূপান্তরিত করেছে। বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দের ঘটনার ফলে ইরানের এই অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকে, প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের, জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ সমাধান খুঁজতে বাধ্য করছে।

প্রযুক্তিগত কাজ শুরু করার বিষয়টি সরাসরি সংঘাত সমাধনের উপর নির্ভর করবে, যা ঘটতে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত সময় নিতে পারে। সুতরাং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি খাত দীর্ঘকাল অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি থাকবে, এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও ব্যবসায়ীদের নমনীয় ও এই পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।

হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন অপসারণ করতে ছয় মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে

বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $100.40-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে তেলের মূল্যের $106.80-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $113.30-এর এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে তেলের দরপতন হলে মূল্য $92.50-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করবে; যদি তারা সফল হয় এবং ওই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হয়, তাহলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর উপর গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $86.67 পর্যন্ত নামতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $81.37-এ পৌঁছানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account