logo

FX.co ★ ৭ মে কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

৭ মে কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

৭ মে কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবার EUR/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছিল, তবে আবারও সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। গত দুই সপ্তাহ ধরে ইউরোর মূল্য বেড়েছে, কিন্তু উপরের চিত্রে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে এই বৃদ্ধি কতটা দুর্বল ছিল। ইউরোর মূল্যের খুবই দুর্বল উর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে। তবে মার্কিন ডলারের মূল্যও বাড়েনি, কারণ মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির ব্যাপারে ইতিবাচক সংকেত পাওয়া যাচ্ছে—যেগুলো নিশ্চিত নয়। উদাহরণস্বরূপ, গতকাল জানা গেছে যে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত, কিন্তু "ন্যায্য শর্তে"। ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন যে তেহরানের সঙ্গে একটি "কাঠামোগত চুক্তি" শীঘ্রই স্বাক্ষরিত হতে পারে, যার ফলে পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। তাই আমরা জানি না উভয়পক্ষ চুক্তির কতটা কাছাকাছি পৌঁছেছে, অথবা তারা সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলো সমাধানের ব্যাপারে আপোস করতে ইচ্ছুক কি না। তবু ইতিবাচক সংকেত আসছেই। ট্রেডাররা আবারও সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করছে।

EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

৭ মে কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটিমাত্র বাই সিগন্যাল গঠিত হয়। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.1745-1.1754 এরিয়া অতিক্রম করেছিল, তবে ইউরোর মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্বল্পস্থায়ী প্রমাণিত হয়। কয়েক ঘণ্টা পরেই এই পেয়ারের মূল্য 1.1745-1.1754 রেঞ্জে ফিরে আসে এবং দিনের শেষ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে।

বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের উর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় আছে, তবে গত দুই সপ্তাহ ধরে ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক ট্রেডিং পরিলক্ষিত হচ্ছে। সময়ের সাথে সাথে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনোরকম উন্নতি হচ্ছে না এবং এ সপ্তাহে আরও নেতিবাচক হতে পারে। বিশ্ব ক্রমান্বয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে খুব বেশি প্রত্যাশা ছাড়াই জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজছে। অতএব এই পর্যায়ে মার্কিন ডলারের উল্লেখযোগ্য দর বৃদ্ধির আশা করা যৌক্তিক নয়। সর্বোচ্চ আমরা প্রায় এক মাস ধরে চলা কারেকশনের ধারাবাহিকতার প্রত্যাশা করতে পারি।

বৃহস্পতিবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1745-1.1754 রেঞ্জের নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1655-1.1666 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1745-1.1754 এরিয়ার ওপরে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন বাই পজিশন বিবেচনা করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1830-1.1837 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1899-1.1908। বৃহস্পতিবার ইউরোজোনে রিটেইল সেলস বা খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, আর যুক্তরাষ্ট্রে জবলেস ক্লেইমস সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রেডাররা সম্ভবত এই প্রতিবেদনগুলো দিকে তেমন কোনো মনোযোগ দেবেন না।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account