উল্লেখযোগ্য একটি কারেকশনের পরে স্বর্ণের মূল্য আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে, কারণ ট্রেডাররা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের সংবাদকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা আংশিকভাবে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি কমিয়েছে।

স্বর্ণের প্রতি আগ্রহের পুনরুদ্ধার নির্দেশ করে যে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের রক্ষণশীল বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করতে তৎপর নয়। দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হচ্ছে প্রবণতা, সেইসাথে জ্বালানি সংকট ও আর্থিক নীতিমালা নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত আছে, যা মূল্য ধরে রাখার মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
স্বর্ণের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের দ্বৈত মনোভাব প্রতিফলিত করছে। একদিকে ঝুঁকি হ্রাস পাওয়ায় উচ্চ রিটার্নের আশায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটে বিনিয়োগ করছে, যা স্বর্ণের দরপতন ঘটাচ্ছে; অন্যদিকে স্থায়ী মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি প্রত্যাশা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সম্ভাব্য অনিশ্চয়তার কারণে নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ বজায় রয়েছে।
আজ স্বর্ণের মূল্য আউন্স প্রতি $4,741-এ পৌঁছেছে, যা বুধবারের তুলনায় 3% বেশি। জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় বন্ডের লভ্যাংশে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, এবং মার্কিন ডলারের দর যুদ্ধ-পূর্ব স্তরে নেমে এসেছে, যা মার্কিন ডলারে মূল্যায়িত ও সুদ না দেয়া স্বর্ণের মূল্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন প্রস্তাব বিবেচনা করছে। এ চুক্তি সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়া আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া যাবে আশা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংঘাত চলাকালীন সময়ে বারবার জানিয়েছেন যে খুব শীঘ্রই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, যদিও তা এখনও বাস্তবে পরিণত হয়নি। বুধবার তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন যে, যদি ইরান নির্ধারিত চুক্তিগুলো মেনে চলে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শেষ করবে এবং হরমুজ প্রণালীর অবরোধ তুলে নেবে। তবে চুক্তির মূল শর্ত হলো ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে সরে আসতে হবে, যে প্রস্তাব তেহরান বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে।
উল্লেখযোগ্য যে, গত ফেব্রুয়ারির শেষে সংঘাত শুরুর পর থেকে স্বর্ণের মূল্য প্রায় 11% কমেছে, কারণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় ও পরবর্তী জ্বালানি মূল্যের অস্থিতিশীলতার কারণে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির উদ্বেগ বেড়েছে এবং সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনাও বেড়েছে।

টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের স্বর্ণের মূল্যের নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $4,771 অতিক্রম করাতে হবে। এতে সফল হলে স্বর্ণের মূল্যের $4,835-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বেশ কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে প্রায় $4,893 লেভেল নির্ধারণ করা যায়। অন্যদিকে, দরপতনের ক্ষেত্রে মূল্য $4,708-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইবে। যদি তাঁরা সফল হয়, তাহলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং স্বর্ণের মূল্য $4,656-এ নেমে যেতে পারে, ও সেইসাথে $4,607 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
