গত শুক্রবার মার্কিন ইক্যুইটি সূচকগুলোতে নিম্নমুখী প্রবণতার সাথে লেনদেন শেষ হয়েছে। S&P 500 সূচক 1.24% বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং নাসডাক 100 সূচক 1.54% বৃদ্ধি পেয়েছিল, যেখানে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক 1.07% হ্রাস পেয়েছে।

মার্কেটে ট্রেডিং সেশন শুরুর পর থেকেই S&P 500 সূচক এবং নাসডাক সূচকের ফিউচার্স ইতোমধ্যে ০.৫%-এর বেশি দরপতনের শিকার হয়েছে। ইউরোপীয় স্টক মার্কেটেও নিম্নমুখী প্রবণতার সাথে সেশন শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মতো এই ধরনের পরিস্থিতির মূল কারণ হচ্ছে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সৃষ্ট অচলাবস্থা, যে কারণে জ্বালানি তেলের দর ব্যারেল প্রতি ১১১ ডলারের উপরে উঠে গেছে এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে।
৩০-বছর মেয়াদী মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাপানের পরিস্থিতি আরও নাটকীয়: দেশটির ১০-বছর মেয়াদী বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ ১০ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ১৯৯৬ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ৩০-বছর মেয়াদী জেজিবি বন্ড ১৯৯৯ সালে চালু হওয়ার পর থেকে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। উদীয়মান বাজারগুলো যেমন—ইন্দোনেশিয়া, ভারতের—স্টক মার্কেটে দরপতন শুরু হয়েছে, যা এটাই প্রমাণ করে যে এই দরপতন কোনো স্থানীয় ঘটনার কারণে ঘটছে না, বরং মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে ঘটছে।
ট্রেডাররা এখন ফেডের সুদের হার বৃদ্ধিকে অনিবার্য বলে মনে করছেন। ফেডের অবস্থান ১৮০-ডিগ্রি মোড় নিয়েছে: ফেব্রুয়ারিতে ট্রেডাররা ২০২৬ সালে দুইবার সুদের হার কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছিল, কিন্তু ফেড যদি কঠোর অবস্থান গ্রহণ না করে, তবে বিনিয়োগকারীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতির নিয়ন্ত্রণে পিছিয়ে পড়ছে এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে মার্কিন ডলারভিত্তিক অ্যাসেট হোল্ড করে বিনিয়োগকারীদের চড়া মূল্য দিতে হবে।
ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা থমকে গেছে। মেহর সংবাদ সংস্থার মতে, ওয়াশিংটন তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য ছাড় দেয়নি, বরং এমন শর্তের জন্য চাপ দিচ্ছিল যা সামরিকভাবে অর্জন করা সম্ভব নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার খবর প্রকাশের পর উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, "সময় ফুরিয়ে আসছে।"
এই সপ্তাহে ট্রেডাররা এনভিডিয়ার আয়ের প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখবে — যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সেই ধারণার শেষ বড় পরীক্ষা, যা সামষ্টিক অর্থনৈতিক উদ্বেগ সত্ত্বেও প্রযুক্তি খাতে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় রয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী S&P 500 সূচকের তালিকাভুক্ত ৮০ শতাংশেরও বেশি কোম্পানির আয়ের ফলাফল প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে, কিন্তু এনভিডিয়ার যেকোনো হতাশাজনক ফলাফল পুরো প্রযুক্তি খাতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, এমন এক সময়ে যখন মার্কেট এমনিতেই চাপের মধ্যে রয়েছে।
কমোডিটি খাঁতে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলার ছাড়িয়ে গেছে এবং ডব্লিউটিআই-এর দর প্রায় ১০৭ ডলারে অবস্থান করছে। স্বর্ণের ক্রমাগত দরপতন হচ্ছে, কারণ সুদের হার বৃদ্ধির ঝুঁকি এই সুদ না দেয়া ধাতুটির ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

টেকনিক্যাল চার্ট অনুযায়ী, S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রাথমিক কাজ হল $7,381-এর রেজিস্ট্যান্স লেভেল অতিক্রম করা। তাহলে সূচকটির মূল্যের আরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সৃষ্টি হবে এবং $7,404-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। সূচকটির দর $7,427-এর ওপরে বজায় রাখতে পারলে ক্রেতাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি, নিম্নমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে সূচকটির দর $7,355 এরিয়ায় থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। ঐ লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির দর সম্ভবত $7,339-এ নেমে যাবে এবং $7,319-এর দিকে দরপতনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে।
