বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:
GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

বৃহস্পতিবার GBP/USD পেয়ারের দর বৃদ্ধিও পেয়েছে আবার দরপতনেরও শিকার হয়েছে, তবে ইউরোর সঙ্গে তুলনা করলে এই সপ্তাহে পাউন্ডের মূল্যের আরও বেশি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিরাজ করেছে। আমাদের মতে, এর কারণ হচ্ছে গত সপ্তাহে ব্রিটিশ পাউন্ড ব্যাপক দরপতন, যেখানে এতটা দরপতন হওয়া উচিত ছিল না। গত সপ্তাহে মার্কেটের ট্রেডাররা যুক্তরাজ্যে মুদ্রাস্ফীতির পতন, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতি কঠোর করা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত এবং অতিরিক্ত হিসেবে রাজনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলার সম্ভাব্যতা বিবেচনায় আনতে শুরু করেছিল, যদিও এ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের রাজনীতি, সমাজ বা অর্থনীতিতে তেমন কোনো গুরুতর ঘটনার ইঙ্গিত নেই। ফলে এই সপ্তাহে প্রকাশিত বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সূচকের দুর্বল ফলাফল সত্ত্বেও পাউন্ড যে অন্যায্য দরপতনের শিকার হয়েছিল তা থেকে পুনরুদ্ধার করছে। পাশাপাশি এই সপ্তাহে কয়েক দফায় ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকেও পাউন্ড সমর্থন পেয়েছে। এখনও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া না গেলেও মার্কিন-ইরান কর্তৃপক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যার মানে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা অক্ষুন্ন রয়েছে।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

বৃহস্পতিবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। এই পেয়ারের মূল্য দুইবার গুরুত্বপূর্ণ এরিয়াগুলোর কাছে গিয়েছিল কিন্তু কোনো ট্রেডিংয়ের সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়নি। এটা হতাশাজনক, ফলে গতকাল নতুন ট্রেডারদের মার্কেটে এন্ট্রি করার জন্য কার্যকর কোনো কারণ ছিল না।
শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, তবে এই সপ্তাহে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হওয়ায় ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের যথেষ্ট উত্থান দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু না হলে মার্কিন ডলারের দর ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মতো বৃদ্ধি পাওয়ার প্রত্যাশা করা কঠিন। পৃথক ঘটনার ভিত্তিতে এখনও মার্কিন ডলারের দর কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে আমরা মনে করি না যে মার্কেটে নতুন করে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা সৃষ্টি হবে।
শুক্রবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3380-1.3386 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেশন করে তাহলে নতুন লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3587-1.3598 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, 1.3741-1.3751। আজকে যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা তুলনামূলকভাবে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কনজিউমার সেনটিমেন্ট ইনডেক্স বা ভোক্তা মনোভাব সূচকের মে মাসের দ্বিতীয় অনুমান প্রকাশিত হবে। আমরা মনে করি এই প্রতিবেদনগুলোর প্রভাবে মার্কেটে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে না।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
