আজ আবার স্বর্ণের মূল্য বেড়েছে এবং এটির মূল্য আউন্স প্রতি প্রায় $4,460-এ অবস্থান করছে, যা গতকালের দরপতন থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে পুনরুদ্ধার করেছে। এই পুনরুদ্ধারের অনুঘটক ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকাড় যুদ্ধবিরতি চুক্তি। ট্রেডাররা এটিকে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের বৃহত্তর সমাধানের দিকে পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে, যা ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে রেখেছে।

এবার স্বর্ণের মূল্যের প্রতিক্রিয়া সাম্প্রতিক মাসগুলোর মতোই রয়েছে, তবে বিপরীত দিকে। লেবাননে যুদ্ধবিরতির ফলে স্বল্পমেয়াদে বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ এবং মার্কিন ডলারের ওপর চাপ কমেছে—এবং এর ফলেই দরপতনের সময় ক্রেতারা মার্কেটে ফিরে এসেছেন, যারা দীর্ঘমেয়াদী ট্রেন্ডলাইনের দিকে স্বর্ণের মূল্যের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। টানা তিন দিন বৃদ্ধির পর চুক্তির খবরে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে—তেলের দাম কমলে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির উদ্বেগ কমে যায়, যা স্বর্ণের ওপর থেকে কিছুটা চাপ কমিয়েছে।
তবে, চলমান সংঘাতের সমাধান না হলে স্বর্ণের মূল্যের বড় ধরনের পুনরুদ্ধার আশা করা যায় না। ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা অন্তত ২০২৭ সালের শুরু পর্যন্ত ইতোমধ্যেই স্বর্ণের মূল্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে, এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমছে না। ডালাস ফেডের প্রেসিডেন্ট লরি লোগান গতকাল নিশ্চিত করেছেন যে মুদ্রাস্ফীতিকে লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে আনতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সম্ভবত এই বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার বাড়াতে হবে।
উল্লেখ্য যে, লেবাননের চুক্তিটি শর্তসাপেক্ষ। এটি হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ গোলাবর্ষণ বন্ধের উপর নির্ভরশীল, এবং এই শর্তটিই এটিকে ভঙ্গুর করে তুলেছে। আরও একটি মৌলিক বিষয় হচ্ছে হরমুজ প্রণালীর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে এখনও কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ট্রাম্প বলেছেন যে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হওয়ার সাথে সাথেই প্রণালীটি খুলে দেওয়া হবে, কিন্তু তেহরান আমেরিকার শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। চুক্তির কাঠামো নিয়ে সাধারণভাবে মতৈক্য বজায় থাকলেও এর বিস্তারিত বিষয়গুলোতে মতভেদ রয়েছে। এটি এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে যেখানে স্বর্ণের মূল্য হয়তো সাময়িকভাবে কিছুটা বাড়বে, কিন্তু টেকসইভাবে তা আবার ঊর্ধ্বমুখী হবে না।
রূপার দর 0.8% বেড়ে $73.34-এ পৌঁছেছে। প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমান টেকনিক্যাল পরিস্থিতি অনুযায়ী, ক্রেতাদের স্বর্ণের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $4,481-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে করে স্বর্ণের মূল্যের $4,546-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $4,607 লেভেল নির্ধারণ করা যায়। দরপতনের ক্ষেত্রে, মূল্য $4,432-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে মূল্য ওই রেঞ্জ ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং স্বর্ণের মূল্য $4,372 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, এবং পরবর্তীতে $4,304 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।
