logo

FX.co ★ মার্কিন কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদন কি মার্কিন ডলারকে সহায়তা করবে? (#SPX এবং #USDX-এর দরপতনের ঝুঁকি রয়েছে)

মার্কিন কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদন কি মার্কিন ডলারকে সহায়তা করবে? (#SPX এবং #USDX-এর দরপতনের ঝুঁকি রয়েছে)

ট্রেডাররা কি আজ মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলি থেকে তাদের মনোযোগ সরিয়ে নিতে পারে? মার্কিন কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগে এটাই মূল প্রশ্ন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আলোচনার স্থবিরতা নিরসনের ব্যর্থতা ইতোমধ্যেই আরও একটি অচলাবস্থার জন্ম দিয়েছে, যা ফিন্যান্সিয়াল মার্কেট জুড়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

মার্চ মাসে যখন এই সংঘাত শুরু হয়েছিল, তখন ট্রেডারদের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট ছিল। একটি সুস্পষ্ট প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, যেখানে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্য মার্কিন ডলারকে সমর্থন যুগিয়েছিল এবং মূল্যবান ধাতুগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। যদিও এই সম্পর্কটি এখনও বিদ্যমান, তবে এটি আগের মতো আর ধারাবাহিক নয়। উদাহরণস্বরূপ, তেলের দাম কমলে এখন স্বর্ণের দাম বাড়বেই এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। সম্প্রতি, মার্কেটে অসংগতিপূর্ণ কিছু মুভমেন্ট দেখা গেছে, যেখানে তেল এবং স্বর্ণ উভয়ই একইসাথে দরপতনের শিকার হয়েছে।

ফরেক্স মার্কেটে, মার্কিন ডলার সূচক গত দুই সপ্তাহ ধরে অত্যন্ত সংকীর্ণ একটি রেঞ্জের মধ্যে অবস্থান করছে—যা গত এক বছরে পরিলক্ষিত সবচেয়ে সংকীর্ণ রেঞ্জ। EUR/USD এবং GBP/USD তুলনায় AUD/USD এবং NZD/USD মতো কিছু নির্দিষ্ট কারেন্সি পেয়ারের মূল্য সাম্প্রতিক দিনগুলিতে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবে, মার্কিন ডলার সূচকের উপর এগুলোর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিতই রয়েছে।

মার্কেটের এই প্রবণতা পেছনের মূল কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংকট, যার কোনো সুস্পষ্ট সমাধানের সম্ভাবনা এখনও দেখা যাচ্ছে না। এই সংঘাত জ্বালানির মূল্যের উপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছে, যা উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি বজায় রাখতে অবদান রাখছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তারা বুঝতে পারছে যে, যদি এই সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে মুদ্রাস্ফীতি মোকাবেলায় তারা সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হতে পারে, যা ইতোমধ্যেই ভঙ্গুর অর্থনীতিগুলোর উপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

প্রতিদিন সংবাদ শিরোনামগুলো ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার খবরেই ভরে থাকে, যার পরেই আসে আলোচনা স্থগিত হওয়ার খবর, এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আবার আলোচনা শুরু হওয়ার খবর। ট্রেডারদের মার্কিন প্রশাসন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যও বিবেচনায় রাখতে হবে, যিনি ক্রমাগত আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করছেন যে আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে। ট্রেডাররা এই বিবৃতিগুলোর প্রতি ক্রমবর্ধমানভাবে সন্দিহান বলে মনে হচ্ছে, যা অনেক অ্যাসেটের ক্ষেত্রে মূল্যের নির্দিষ্ট মুভমেন্টের উল্লেখযোগ্য হ্রাসের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। মার্চ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত মার্কেটে ব্যাপক ওঠানামা বজায় থাকলেও, গত দুই সপ্তাহে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। একই সাথে, অস্থিরতার মাত্রা এখনও বেশি রয়েছে। এই অস্থিরতার কারণ হলো দিনের মধ্যে মূল্যের অনিয়মিত মুভমেন্ট, যেখানে প্রায়শই সেশন চলাকালীন সময়ে অ্যাসেটগুলোর মূল্য বাড়ার পর আবার আগের দিনের ক্লোজিং লেভেলের কাছাকাছি নেমে আসে।

এমনকি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদনও মার্কেটের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে পারেনি। অতীতে, ট্রেডাররা এই ধরনের প্রতিবেদনের ফলাফলের প্রতি প্রতিক্রিয়ায় অ্যাসেট, বিশেষ করে মার্কিন ডলার-ভিত্তিক কারেন্সি পেয়ারগুলো ক্রয় বা বিক্রয়ের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে সাড়া দিত।

আজ, মার্কিন শ্রমবাজার সংক্রান্ত একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন বেকারত্বের হার, ননফার্ম পেরোল এবং আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। অর্থনীতিবিদরা আশা করছেন যে মার্কিন অর্থনীতিতে মে মাসে ৮৫,০০০ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা এপ্রিলের ১,২৩,০০০ থেকে কম।

এতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ওঠে: ট্রেডাররা কি এই প্রতিবেদন প্রতি অর্থপূর্ণভাবে সাড়া দেবে?

এর উত্তর নির্ধারণ করা কঠিন। এপ্রিল মাস থেকে, যখন সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ হতে শুরু করে, তখন থেকেই ট্রেডাররা মূলত শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপেক্ষা করে আসছে। আজকেও একই ঘটনা ঘটতে পারে। ট্রেডাররা মূলত হরমুজ প্রণালী, লেবানন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনাকে ঘিরে ঘটে চলা ঘটনাবলির দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। ফলস্বরূপ, ননফার্ম পে-রোল প্রতিবেদনের প্রভাবে আবারও সামান্য প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলেও, তা স্বাভাবিক পরিস্থিতির তুলনায় কম জোরালো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আজ মার্কেট থেকে কী আশা করা যায়?

আমার মতে, এই অনিশ্চিত পরিস্থিতি ততক্ষণ পর্যন্ত বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যতক্ষণ না হয় সংঘাতের অবসান ঘটছে, অথবা এর সমাধানের পথে এগোনোর কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, কিংবা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে শুরু করছে। এই ঘটনাগুলোর যেকোনোটিই মার্কেটে আরও সুনিশ্চিত ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে, বিশেষ করে কারেন্সি মার্কেটে।

দৈনিক পূর্বাভাস:

মার্কিন কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদন কি মার্কিন ডলারকে সহায়তা করবে? (#SPX এবং #USDX-এর দরপতনের ঝুঁকি রয়েছে)

মার্কিন কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদন কি মার্কিন ডলারকে সহায়তা করবে? (#SPX এবং #USDX-এর দরপতনের ঝুঁকি রয়েছে)

#SPX

S&P 500 সূচকের ফিউচারস সিএফডি 7550.65 লেভেলে ট্রেড করা হচ্ছে। মার্কেটে চলমান অনিশ্চয়তা এবং মার্কিন কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সম্ভাব্য দুর্বল ফলাফলের প্রেক্ষাপটে, সূচকটির দর 7494.00-এ নেমে আসতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, 7526.37-এর কাছাকাছি শর্ট পজিশন ওপেন করার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।

#USDX

98.90–99.40-এর একটি সাইডওয়েজ রেঞ্জের মধ্যে মার্কিন ডলার সূচকের ট্রেডিং অব্যাহত রয়েছে। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তার কারণে সূচকটি 98.00-এর কাছাকাছি রেঞ্জে নেমে যেতে পারে। সম্ভাব্য সেলিং পয়েন্ট হিসেবে 99.17-এর কাছাকাছি লেভেল বিবেচনা করা যেতে পারে।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account