শুক্রবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:
EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

EUR/USD পেয়ার বৃহস্পতিবারের উর্ধ্বমুখী প্রবণতা প্রসারিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। লক্ষ্যণীয় যে বৃহস্পতিবার ইরানের ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান তীব্রভাবে পরিবর্তিত হয়েছিল, সপ্তাহান্তে তিনি "চুক্তি" সম্পর্কিত বিবৃতি দিয়েছিলেন এবং আলোচনায় বিলম্ব ঘটার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার আদেশ বাতিল করেন। ফলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটে; তবে দেখা যাচ্ছে শুক্রবার এই মুভমেন্ট অব্যাহত থাকেনি। সোমবার ভোররাতে ট্রাম্প পুনরায় ঘোষণা দিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তা স্বাক্ষর করা হবে, এবং আজ থেকেই হরমুজ প্রণালী খোলা থাকবে। আমরা এখনও এই বিবৃতির উপর আস্থা রাখতে পারছি না, কারণ প্রথমে চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে হবে, তারপর সেই চুক্তির শর্ত বাস্তবায়িত হবে—অন্যভাবে নয়। তেহরান থেকে এখনো কোনো নিশ্চিত বার্তা পাওয়া যায়নি, এবং রবিবার তেহরান চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাই গতরাতে মার্কেটে আবার কিছুটা আশাবাদ দেখা গিয়েছিল, কিন্তু তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। যদি চুক্তি আসলেই স্বাক্ষরিত হয়ে থাকে, মার্কিন ডলারের আরও দরপতন ঘটবে এবং ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তি ঘটবে।
EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

শুক্রবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে তিনটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1584-1.1594 এরিয়া থেকে তিনবার বাউন্স করেছে, যা প্রতিবারই নতুন ট্রেডারদের শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ দিয়েছে। তবে সারাদিন জুড়ে এই পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতার মাত্রা আবারও বেশ কম ছিল এবং সাইডওয়েজ রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট অব্যাহত রয়েছে। ফলে ট্রেডাররা শর্ট পজিশন থেকে কোনো লাভ করতে পারেনি, তবে কোনো লোকসানও হয়নি। রাতভর একটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল এবং সোমবারে এটি কাজে লাগানো যেতে পারে।
সোমবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্টের সমাপ্তি ঘটেছে, এবং তিন সপ্তাহের স্থবিরতার পরে নিম্নমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হয়েছে, কিন্তু মার্কিন ডলারের আরও মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পূর্ণরূপে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে বিকশিত হয় তার ওপর নির্ভর করবে। যদি মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে মার্কিন ডলারের দর বাড়তে থাকবে। আর যদি তেহরান ও ওয়াশিংটন শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করে, তাহলে ঝুঁকিপূর্ণ কারেন্সিগুলোর মূল্য বৃদ্ধি পাবে।
সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1584-1.1594 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল হয় তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1527-1.1531 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1584-1.1594 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করে তাহলে বাই ট্রেড বিবেচনা করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1655-1.1666 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1899-1.1908। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে মার্কেটে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে না এবং মার্কেটে কোনো তীব্র প্রতিক্রিয়ারও প্রত্যাশা করা হচ্ছে না। আজ ট্রেডাররা মার্কিন-ইরান চুক্তি স্বাক্ষর ও হরমুজ প্রণালী খোলার নিশ্চয়তার ব্যাপারে তেহরান থেকে নিশ্চিত তথ্যের অপেক্ষায় থাকবে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
