logo

FX.co ★ জ্বালানি তেলের সক্রিয়ভাবে দরপতন ঘটছে

জ্বালানি তেলের সক্রিয়ভাবে দরপতন ঘটছে

জ্বালানি তেলের দর তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে—ব্রেন্ট গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি প্রায় $79-এ স্থিতিশীল রয়েছে, অন্যদিকে ডব্লিউটিআই গ্রেডের দর ব্যারেল প্রতি $75-এ পৌঁছেছে। স্পষ্টতই, ট্রেডাররা শুক্রবার জেনেভায় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে একটি সম্পন্ন ঘটনা হিসেবেই ধরে নিচ্ছে, যদিও কিছু শর্তের বিস্তারিত বিবরণ এখনও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। আফ্রিকার দিকে রওনা হওয়া দুটি ট্যাঙ্কার ইতোমধ্যেই ভারত মহাসাগরে যাত্রাপথ বদল করেছে এবং এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে—এটিই প্রথম সুস্পষ্ট সংকেত যে জাহাজ শিল্প নতুন বাস্তবতার সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে শুরু করেছে।

জ্বালানি তেলের সক্রিয়ভাবে দরপতন ঘটছে


জ্বালানি তেলের দরপতনের গতি বেশ লক্ষণীয়। এপ্রিলের শুরুতে, নিকটতম দুটি ব্রেন্ট ফিউচার কন্ট্রাক্টের মধ্যে স্প্রেড বা ব্যবধান ছিল $9.65। এখন, এই স্প্রেড বা ব্যবধান কমে 14 সেন্টে দাঁড়িয়েছে। মার্কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে; তবে, এর তীব্রতা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।

তথাপি, শিল্প বিশেষজ্ঞরা দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ব্যাপারে সতর্ক করছেন। আমরা এক্ষেত্রে সার্বিক পরিস্থিতি অবিলম্বে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার পরিবর্তে ধীরগতির পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা করছি। কোম্পানিগুলো তাদের জাহাজের দিক পরিবর্তন করতে দুই মাস সময় ব্যয় করতে নারাজ, কারণ এরপর হয়তো তারা দেখবে পরিস্থিতি আবার বদলে গেছে। বেশিরভাগ ব্যবসায়ীই আশা করছেন যে প্রথম কয়েক সপ্তাহে জাহাজগুলোর সাথে মার্কিন নৌবাহিনী থাকবে এবং মাইন অপসারণ কার্যক্রমের কারণে পানির প্রবাহকে ধীর হয়ে যাবে—ফলে জ্বালানি তেলের সরবরাহের হার পুনরুদ্ধারের গতি সীমিত থাকবে।

একই সাথে, কাঠামোগত ঘাটতি দূর হয়নি। গত সপ্তাহে মার্কিন তেলের মজুত ৮৩ লক্ষ ব্যারেল কমেছে, যার মধ্যে কুশিংয়ের প্রধান কেন্দ্রে মজুতের উল্লেখযোগ্য পতন পরিলক্ষিত হয়েছে। এটি টানা বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যাপকভাবে মজুত হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়—এবং হরমুজ প্রণালী খুলে গেলেও, মজুত পূরণে সময় লাগবে। অন্য কথায়, হরমুজ প্রণালী সফলভাবে অবরোধমুক্ত হলেও, আগামী মাসগুলোতে জ্বালানি তেলের দর ব্যারেল প্রতি $75-এর নিচে নামার সম্ভাবনা কম বলে মনে হচ্ছে।

আজ ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে তেলের দরপতনের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি তেলের দর এখন $80-এর নিচে রয়েছে, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দাম ইতোমধ্যেই ৪ ডলারে নেমে এসেছে, যা মে মাসে ৪.৫৬ ডলারের সর্বোচ্চ মূল্য থেকে কম। এই ধারা অব্যাহত থাকলে, আজ সন্ধ্যায় অনুষ্ঠেয় প্রথম সংবাদ সম্মেলনে কেভিন ওয়ার্শ কর্তৃক আরও ডোভিশ বা নমনীয় অবস্থান গ্রহণের পক্ষে জোরালো যৌক্তিকতা থাকবে—কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ ছাড়াই মুদ্রাস্ফীতির চাপ নিজে থেকেই কমতে শুরু করেছে। একমাত্র প্রশ্ন হলো ইরানের সাথে প্রণীত চুক্তিটি কতটা টেকসই হবে—এবং ট্রেডাররা বেশ কয়েক মাস ধরেই এই বিষয়টি নিয়েই অনিশ্চয়তায় ভুগছে।

জ্বালানি তেলের সক্রিয়ভাবে দরপতন ঘটছে

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেসিস্ট্যান্স $81.40-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $86.67-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $92.54. এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $74.85-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $67.77 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $59.90 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account