logo

FX.co ★ ১৯ জুন কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

১৯ জুন কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:

GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

১৯ জুন কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বৃহস্পতিবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের সামান্য উর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর তীব্র দরপতন অব্যাহত ছিল। ট্রেডাররা অব্যাহতভাবে ফেডের "হকিশ বা কঠোর" অবস্থান গ্রহণের প্রতি প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেছে, যা তুলনামূলকভাবে আনুষ্ঠানিক অর্থে হকিশ বা কঠোর অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা যায়। লক্ষণীয় যে ফেডের আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির সদস্যদের মনোভাব সত্যিই আরও কঠোর হয়ে উঠেছে। এখন, ফেডারেল রিজার্ভের অর্ধেক কর্মকর্তা বছরের শেষ নাগাদ অন্তত একবার সুদের হার বৃদ্ধি প্রত্যাশা করছেন, যখন প্রায় এক তৃতীয়াংশ দুই বা ততোধিক ধাপে নীতিমালা কঠোরকরণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই যে ফেডের বৈঠকের আগে ট্রেডাররা ঠিক এটিই—চলতি বছর শেষের মধ্যে অন্তত একবার সুদের হার বৃদ্ধির—প্রত্যাশা করছিল।

তদুপরি, উল্লেখযোগ্য যে গতকাল ব্যাংক অফ ইঙ্গল্যান্ড বৈঠকের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে এবং তা "ডোভিশ বা নমনীয়" হিসেবে বিবেচনা করা যায় না, যার ফলে ব্রিটিশ পাউন্ড একদিনে আরও 100 পিপস দরপতনের শিকার হয়েছে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করেছে। যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনগুলোতে ভোক্তা মূল্যস্ফীতির মন্থরতার ইঙ্গিত পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হলে এই অবস্থান বেশ যুক্তিযুক্ত। তবু ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বৈঠকের ফলাফলকে "শর্তসাপেক্ষে হকিশ বা কঠোর" হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে, কারণ দুজন কর্মকর্তা সুদের হার বৃদ্ধির পক্ষে ভোট দিয়েছেন, যদিও ট্রেডাররা কেবল একজন হকিশপন্থী সদস্যের প্রত্যাশা করেছিল। ফলে নিশ্চিতভাবেই ব্রিটিশ পাউন্ডের এত তীব্র দরপতনের জন্য কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

১৯ জুন কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বৃহস্পতিবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি সেল ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনের শুরুতে এই পেয়ারের মূল্য 1.3319-1.3331 এরিয়া থেকে বাউন্স করে নিম্নমুখী হয়, ফলে নতুন ট্রেডাররা সহজেই শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কয়েক ঘন্টার মধ্যে এই পেয়ারের মূল্য 1.3259-1.3267 এরিয়া ব্রেক করে নিম্নমুখী হয়। দিনের শেষে ট্রেডটি প্রায় 80 পিপস মুনাফার সাথে ক্লোজ করা যেত।

শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেল থেকে বের হয়ে নিম্নমুখী হয়েছে, তবে আমরা সন্দিহান যে এই দরপতন অব্যাহত থাকবে কিনা। অবশ্য, মার্কিন ডলারের আরও দর বৃদ্ধির জন্য যদি গুরত্বপূর্ণ কোনো কারণ দেখা যায়, তাহলে এমনটা ঘটতে পারে—কিন্তু বর্তমানে এমন কোনো কারণ দেখা যায় না। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের বিষয়টি সমাধান হয়েছে এবং ফেড কেবল চলতি বছরের শেষদিকে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে; এই বিষয়টি ইতোমধ্যেই মার্কেটে মূল্যায়িত হয়েছে। এই মুহূর্তে, মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির সম্ভাবনা অযৌক্তিক বলেই মনে হচ্ছে।

শুক্রবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3175-1.3180 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3096-1.3107 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3175-1.3180 এরিয়া থেকে বাউন্স করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3259-1.3267 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। শুক্রবার যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে, যা সম্ভবত ট্রেডারদের খুব বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করবে না। যুক্তরাষ্ট্রে আজ কোনো অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account