সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা:

শুক্রবার মাত্র একটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। আজ সকালে যুক্তরাজ্যে মে মাসের খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এই সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাজ্যে মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্বের হার সংক্রান্ত আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু ট্রেডাররা সেদিকে কোনো মনোযোগ দেয়নি। তাই, ৯০% সম্ভাবনা রয়েছে যে খুচরা বিক্রয় প্রতিবেদনটিও উপেক্ষিত হবে। আমরা আজ একটি কারেকশনের অংশ হিসেবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা প্রত্যাশা করছি। আমরা মার্কিন ডলারের মূল্যের সাম্প্রতিক উত্থানকে অযৌক্তিক এবং মৌলিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করছি।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:

শুক্রবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধিদের, বিশেষ করে সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ ফিলিপ লেনের বক্তব্য বেশ উল্লেখযোগ্য। তবে, এটা মনে রাখা উচিত যে গত সপ্তাহে ইসিবি গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো আর্থিক নীতিমালা কঠোর করেছে, এবং ক্রিস্টিন লাগার্ড স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সুদের হার আরও বৃদ্ধি করা হতে পারে। সুতরাং, এই মুহূর্তে আর্থিক নীতিমালার ব্যাপারে ইসিবির অবস্থান সম্পূর্ণ স্পষ্ট, তবুও ট্রেডাররা এটিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করছে, কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা কঠোর করার ফলে জাতীয় মুদ্রার শক্তিশালী হওয়ার কথা ছিল, যা আমরা ইউরোর ক্ষেত্রে তেমনটা ঘটতে দেখিনি।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট "শর্তসাপেক্ষে ইতিবাচক" রয়েছে। ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারিত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে; তবে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বিশেষ করে, চুক্তির বর্তমান খসড়ায় "পারমাণবিক কর্মসূচীর" ব্যাপারে কোনো কিছুরই উল্লেখই নেই। ঠিক এই সমস্যাটিই যুদ্ধের সূত্রপাত করেছিল এবং যেকোনো মুহূর্তে এর ফলে পুনরায় সংঘাত শুরু হতে পারে। একই সাথে, চুক্তি তো চুক্তিই, এবং যুদ্ধবিরতি তো যুদ্ধবিরতিই। তবে, বর্তমানে মার্কিন ডলারের দর এমনভাবে বাড়ছে যেন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ০.৫% বাড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তীব্র যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
উপসংহার:
চলতি সপ্তাহের শেষ দিনের ট্রেডিংয়ে, দুই দিনের দরপতনের পর উভয় কারেন্সি পেয়ারেরই কারেকশন শুরু হতে পারে। আজ ইউরো 1.1455-1.1474 এরিয়া থেকে এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3175-1.3180 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যেতে পারে। মার্কেটের সাম্প্রতিক মুভমেন্ট বিবেচনা করলে, ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব এখন কমে এসেছে এবং ট্রেডাররা অন্যায্যভাবে মার্কিন ডলার ক্রয়ের, যা বিয়ার বা বিক্রেতাদের জন্য মার্কেট মেকারদের সাজানো একটি ফাঁদ হতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
