গতকাল, প্রত্যাশা অনুযায়ী মার্কিন ইকুইটি সূচকগুলোর তীব্র দরপতন ঘটেছে। S&P 500 সূচক 0.45% হ্রাস পেয়েছে, এবং নাসডাক 100 সূচক 1.16% হ্রাস পেয়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক 0.25% হ্রাস পেয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্টক মার্কেটগুলোতে চিরাচরিতভাবে ঝুঁকি গ্রহণ না করার প্রবণতা দেখা যায়—যদিও ট্রেডাররা পুরোপুরিভাবে আতঙ্কিত হয়নি। হরমুজ প্রণালীতে একাধিক জাহাজের ওপর হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলা শুরু করলে এবং বিশ্বজুড়ে ইরানি তেল কেনার অনুমোদন প্রত্যাহার করে নিলে ব্রেন্ট ক্রুডের দর 3%-এর বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি $76 ছাড়িয়ে যায়।
মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়া ছিল ব্যাপক। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে যে, মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর ধারাবাহিকভাবে আগ্রাসী হামলা চালিয়েছে এবং ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এটি কোনো সাধারণ পাল্টা পদক্ষেপ ছিল না, বরং একটি বিস্তৃত অভিযান যা এই সংঘাতে ঝুঁকির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে যতটা আশা করা হয়েছিল, স্টক মার্কেটে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়া তার চেয়ে লক্ষণীয়ভাবে কম ছিল। এমএসসিআই এশিয়া সূচক মাত্র 0.4% হ্রাস পেয়েছে, S&P 500 এবং নাসডাক 100 সূচকের ফিউচার প্রায় 0.2% হ্রাস পেয়েছে এবং ইউরোপীয় কন্ট্রাক্টগুলো প্রায় 0.3% হ্রাস পেয়েছে। এটি যুদ্ধের শুরুতে সৃষ্ট আতঙ্কের পূর্ববর্তী পর্বগুলোর সম্পূর্ণ বিপরীত। যতক্ষণ পর্যন্ত কাঠামোবদ্ধ চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর থাকবে এবং জাহাজ চলাচলের পরিমাণ ব্যাপকভাবে হ্রাস না পেয়ে পুনরুদ্ধার হতে থাকবে, ততক্ষণ ট্রেডারদের প্রতিক্রিয়া সীমিত থাকবে। উল্লেখ্য, ট্যাংকারগুলোর ওপর হামলা সত্ত্বেও বুধবার ভোরে বেশ কয়েকটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।
বিশেষ করে এশিয়ার কিছু স্টক মার্কেটে তীব্র প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কস্পি সূচক টেকনিক্যাল কারণে বিয়ারিশ বা নিম্নমুখী প্রবণতার শিকার হয়ে 6% এরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। শুধুমাত্র ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণেই এই দরপতন ঘটছে, বরং এটি চলমান মূলধনের প্রবাহকেও প্রতিফলিত করে: বিনিয়োগকারীরা অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া মেমরি-চিপ কোম্পানিগুলো থেকে মূলধন উত্তোলন করছে এবং পিছিয়ে থাকা প্রযুক্তিভিত্তিক কোম্পানিগুলোতে পুনরায় বিনিয়োগ বরাদ্দ করছে — উদাহরণস্বরূপ, হংকংয়ে আলিবাবার স্টকের 10%-এর বেশি বেড়েছে৷ ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কা AI সেক্টরের ইতোমধ্যেই চলমান পুনরায় মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে আচ্ছন্ন করে তুলেছে, যা সবচেয়ে বেশি মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া স্টকগুলো থেকে মুনাফা গ্রহণের প্রবণতা ত্বরান্বিত করেছে।
অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং নিউজিল্যান্ডে ১০-বছর মেয়াদী সরকারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ বেড়েছে, কারণ দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী সুদের হার বৃদ্ধি করেছে। মঙ্গলবার ব্যাপক বিক্রির পর মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের দর স্থিতিশীল হয়েছে। আগের দিন 0.2% বৃদ্ধির পর মার্কিন ডলার সূচক স্থির ছিল। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে না ছুটে, ফেডের কাছ থেকে নীতিগত বিষয়ে আরও স্পষ্ট সংকেতের অপেক্ষায় থাকায় স্বর্ণের মূল্য প্রতি আউন্স $4,100 উপরে একটি সীমিত রেঞ্জে অবস্থান করছে। বিটকয়েনের মূল্য প্রায় 1.5% কমেছে।

টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির মূল্যের $7,518-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এটি আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করবে এবং $7,544-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। সূচকটির দর $7,574-এর উপর ধরে রাখাও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যদি ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে গিয়ে দরপতন হয়, তাহলে সূচকটির দর $7,494-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। এই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য দ্রুত $7,474 -এ নেমে যেতে পারে এবং $7,451 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।
