গত শুক্রবার, মার্কিন ইকুইটি সূচকগুলোতে দৃঢ় প্রবৃদ্ধির সাথে লেনদেন শেষ হয়েছে। S&P 500 সূচক 0.42% বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং নাসডাক 100 সূচক 0.29% বৃদ্ধি পেয়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক 0.29% বৃদ্ধি পেয়েছে।

আজ এশিয়ার স্টক মার্কেটগুলোতে বিশেষভাবে বেদনাদায়ক দরপতন পরিলক্ষিত হয়েছে। এমএসসিআই এশিয়া প্যাসিফিক সূচক প্রায় 1.6% পেয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক প্রায় 7% হ্রাস পেয়েছে। প্রযুক্তি খাত আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল: এসকে হাইনিক্সের স্টকের প্রায় 12% দরপতন ঘটেছে। নাসডাক 100 ফিউচার 1.1% হ্রাস পেয়েছে এবং ইউরোপীয় স্টকগুলো প্রায় 1% হ্রাসের সাথে সেশন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্টক মার্কেটের ট্রেডারদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সপ্তাহ শুরু হতে যাচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং বিনিয়োগকারীদের একই সাথে তিনটি প্রধান ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনা করতে হবে: আয় প্রতিবেদন পেশের মৌসুমের সূচনা, মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের প্রকাশনা, এবং কংগ্রেসে ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের প্রথম সাক্ষ্যদান। নোমুরা ইন্টারন্যাশনাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের বিশ্লেষকগণ আশা করছে যে, প্রধানত মুদ্রাস্ফীতি এবং সুদের হার বৃদ্ধির উদ্বেগের কারণে জুলাই মাস স্টক মার্কেটের জন্য একটি অস্থিরতাপূর্ণ মাস হবে। ইরানের সাথে পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়ায় এই ঝুঁকি আরও বেড়ে গিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাই আজ স্টক মার্কেটে এই ব্যাপক নিম্নমুখী প্রবণতার মূল কারণ। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, রবিবার মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রমণের সক্ষমতা হ্রাস করার লক্ষ্যে ইরানের ওপর আরেকটি হামলা চালিয়েছে। কুয়েত, জর্ডান এবং কাতারসহ মার্কিন মিত্রদের ওপর ইরানের ড্রোন ও রকেট হামলার পর এটি চতুর্থ দফা হামলা ছিল। এর প্রতিশোধ হিসেবে, আইআরজিসি জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমান ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ও জ্বালানি ডিপো পুড়িয়ে দিয়েছে। এই পাল্টা হামলার মাত্রা আগের সংঘর্ষগুলোর তুলনায় লক্ষণীয়ভাবে বেশি ছিল।
স্টক মার্কেটে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মূল কারণ হিসেবে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সার্বিক অবস্থাকে বিবেচনা করা হচ্ছে, এবং উভয় পক্ষ পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে। ইরান বলছে যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন সামরিক ও সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলছে যে হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণের পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
কমোডিটি ও ফরেক্স মার্কেটে তীব্র ও সুনিশ্চিতভাবে প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়ে পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদন এবং তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার নতুন গুঞ্জনের মধ্যে ব্রেন্ট গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য 4% বেড়ে ব্যারেলপ্রতি $79 ছাড়িয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকালে ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ বিনিয়োগস্থল হিসেবে পরিচিত মার্কিন ডলার, জি১০-ভুক্ত দেশগুলোর কারেন্সিগুলোর বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে, কারণ জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেড়েছে। এই পরিস্থিতি মূল্যবান ধাতুগুলোর মূল্যকে প্রভাবিত করেছে, কারণ এগুলো কোনো সুদ প্রদান করে না: স্বর্ণের মূল্য 1.4% কমে আউন্স প্রতি প্রায় $4,060-এ পৌঁছেছে এবং রুপার মূল্য প্রায় 3% কমে প্রায় $58.10-এ নেমে এসেছে।

সার্বিকভাবে ট্রেজারি বন্ডের দরপতন হয়েছে এবং সুদের হারের প্রতি সংবেদনশীল দুই বছরের বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ বেড়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির মূল্যের $7,544-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এটি আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করবে এবং $7,574-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। সূচকটির দর $7,600-এর উপর ধরে রাখাও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যদি ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে গিয়ে দরপতন হয়, তাহলে সূচকটির দর $7,518-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। এই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য দ্রুত $7,494-এ নেমে যেতে পারে এবং $7,474 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।
