logo

FX.co ★ ১৫ জুলাই কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

১৫ জুলাই কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

মঙ্গলবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

১৫ জুলাই কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

মঙ্গলবার EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.1377 এবং 1.1461-এর সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যে অবস্থান করেছে। ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে এই পেয়ারের মূল্য গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই দুই লেভেলের মধ্যেই অবস্থান করছে। অতএব আমরা একেবারে ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট দেখতে পাচ্ছি। গতকাল ইউরোর টেকনিক্যাল চিত্র বদলায়নি। মার্কেটে কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্যের প্রভাব আশ্চর্যজনকভাবে বেশ স্বাভাবিক ছিল; মূলত ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কংগ্রেস বা ট্রেডারদের নতুন কিছু জানাতে পারেননি। মার্কেটে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের প্রভাবেই কিছুটা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল, যা ট্রেডারদের প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল। মুদ্রাস্ফীতি পূর্বাভাসের তুলনায় কম আসার পরও মার্কিন ডলারের ইতিবাচক পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। দেশটির ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) 3.5%-এ নেমে এসেছে, যার ফলে কয়েক মাসের মধ্যে ফেড আর্থিক নীতিমালা কঠোর করবে কিনা, সে ব্যাপারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তবু সার্বিক পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাপ্রবাহের উপর নির্ভর করবে — সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে মুদ্রাস্ফীতি পুনরায় বাড়তে পারে।

EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

১৫ জুলাই কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

মঙ্গলবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে কেবল একটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়। মার্কিন ট্রেডিং সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.1461-1.1466 এরিয়ায় পৌঁছায় এবং বাউন্স করে আগের এরিয়ায় ফিরে আসে; ফলে একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল যা কাজে লাগিয়ে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশনে ওপেন করতে পারতেন। আজ সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারির দিকে এই পেয়ারের দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে।

বুধবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে দুই মাসব্যাপী এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে, এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আমরা কেবল দুর্বল একটি ঊর্ধ্বমুখী কারেকশন দেখতে পেয়েছি। বর্তমানে এই পেয়ারের মূল্য উভয় ট্রেন্ডলাইনই ব্রেক করেছে এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কেটে ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক ট্রেডিং দেখা যাচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে মার্কিন ডলার সহায়তা পেতে পারে।

বুধবার, নতুন ট্রেডাররা গতকাল ওপেন করা শর্ট পজিশনগুলো হোল্ড করে রাখতে পারেন এবং মূল্যের 1.1354-1.1363-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে পারেন—কারণ এই পেয়ারের মূল্য 1.1461-1.1466 এরিয়া থেকে বাউন্স করেছে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1451-1.1466 এরিয়ার উপরে কনসলিডেট করে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানের মূল্যের 1.1527-1.1531 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267-1.1275, 1.1363-1.1377, 1.1420-1.1432, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1666, এবং 1.1745-1.1754। বুধবার ইউরোজোনে শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, এবং যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদক মূল্য সূচক (PPI) প্রকাশিত হবে। সেইসাথে ওয়ার্শ কংগ্রেসে দ্বিতীয়বারের মতো বক্তব্য দেবেন। আমরা এই প্রতিবেদন দুটির ফলাফল ও ওয়ার্শের বক্তব্যকে স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচনা করছি এবং এগুলোর প্রভাবে মার্কেটে কোনো শক্তিশালী প্রতিক্রিয়ার প্রত্যাশা করছি না।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account