logo

FX.co ★ ১৬ জুলাই কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

১৬ জুলাই কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

১৬ জুলাই কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

মঙ্গলবার EUR/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে, ফলে এই পেয়ারের মূল্য তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবার 1.1377-1.1461 সাইডওয়েজ চ্যানেল থেকে বের হতে পেরেছে। অতএব ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্টের সমাপ্তি ঘটতে পারে এবং দীর্ঘ বিরতির পর এখন ইউরোর মূল্যের নির্দিষ্ট প্রবণতা স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্মরণীয় যে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য গত তিন সপ্তাহ ধরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আমরা সম্পূর্ণরূপে যৌক্তিক মনে করি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রেডাররা মৌলিক, ভূ-রাজনৈতিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের দিকে মনোযোগ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে অন্যায্যভাবে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এমনটি সারাজীবন ধরে চলতে পারে না। দীর্ঘমেয়াদে ইউরো এবং পাউন্ড উভয়ের মূল্যেরই বুলিশ প্রবণতা প্রাসঙ্গিক রয়েছে, তাই যেকোনো দরপতনকে হায়ার টাইমফ্রেমে কারেকশন হিসেবে দেখা হবে। ইউরোর মূল্য এখনো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রাখতে সংগ্রাম করছে, তবে বড় পরিবর্তনগুলো ছোট থেকে শুরু হয়। 1.1461 লেভেলটি বর্তমানে ইউরোর জন্য সাপোর্ট লেভেল হিসেবে কাজ করছে। গতকাল প্রকাশিত মার্কিন উৎপাদক মূল্য সূচকে (PPI) সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির মন্থরতা নিশ্চিত হয়েছে, ফলে নিকট ভবিষ্যতে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে গেছে।

EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

১৬ জুলাই কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে কেবল একটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, দুর্ভাগ্যবশত চলমান মুভমেন্টের শেষের দিকে এই সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। দিনের শেষে এই পেয়ারের মূল্য 1.1461-1.1466 এরিয়া ব্রেক করে যা সাইডওয়েজ চ্যানেলের আপার বাউন্ডারি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অতএব আজ এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে এবং ট্রেডাররা লং ও শর্ট—দুটো পজিশনই ট্রেড করার জন্য উপযুক্ত এরিয়া খুঁজে পাবে।

বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য উভয় ট্রেন্ডলাইনই ব্রেক করেছে এবং এখন আর সেগুলো প্রাসঙ্গিক নেই। এই পেয়ারের মূল্য 1.1461 অতিক্রম করেছে, তাই ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট শেষ হয়েছে বলাই যেতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কেটের সার্বিক পরিস্থিতি ও মুভমেন্ট বিবেচনা করে আমাদের ধারণা ইউরোর মূল্যের উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে; দীর্ঘমেয়াদেও আমরা এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতারই প্রত্যাশা করছি।

বৃহস্পতিবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1461-1.1466 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1363-1.1377-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1461-1.1466 এরিয়ার উপরে কনসলিডেট করে, তাহলে লং পজিশন হোল্ড করে রাখা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1527-1.1531-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267-1.1275, 1.1363-1.1377, 1.1461-1.1466, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1666, এবং 1.1745-1.1754।বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না, আর যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা বিক্রয় ও আনএমপ্লয়মেন্ট ক্লেইমস সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। আমরা এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফলের প্রভাবে মার্কেটে কোনো তীব্র প্রতিক্রিয়ার প্রত্যাশা করছি না।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account