logo

FX.co ★ ২১ জুলাই কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত? নতুন ট্রেডারদের জন্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ

২১ জুলাই কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত? নতুন ট্রেডারদের জন্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ

সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা:

২১ জুলাই কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত? নতুন ট্রেডারদের জন্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ

মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যার মধ্যে যুক্তরাজ্যে প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনগুলো সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। যুক্তরাজ্যে আজ মে মাসের বেকারত্বের হার, বেকার ব্যক্তির সংখ্যায় পরিবর্তন এবং গড় মজুরি হার পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। আমাদের মতে, এই প্রতিবেদনগুলো অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, কারণ বর্তমানে মার্কেটের মুভমেন্ট মূলত মুদ্রানীতি এবং বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ দ্বারা বেশি প্রভাবিত হচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতির হার মুদ্রানীতিকে প্রভাবিত করে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতও মুদ্রাস্ফীতিকে প্রভাবিত করে। তাই, আমরা ব্রিটিশ প্রতিবেদনের ফলাফলের প্রতি ট্রেডারদের জোরালো কোনো প্রতিক্রিয়ার আশা করছি না। ইউরোজোনে আজ ZEW ইকোনোমিক সেন্টিমেন্ট সূচক প্রকাশিত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে সাপ্তাহিক ADP কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এই প্রতিবেদনগুলোও ট্রেডারদের উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করবে বলে মনে হয় না।

ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:

২১ জুলাই কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত? নতুন ট্রেডারদের জন্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ

মঙ্গলবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে বুন্দেসব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জোয়াকিম নাগেলের বক্তব্য বেশ উল্লেখযোগ্য। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকের আগে নাগেল ট্রেডারদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাবেন এমন সম্ভাবনা কম, এবং যাই হোক না কেন, সুদের হারের বিষয়ে ইসিবির আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে, জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান নন। ট্রেডাররা প্রায় নিশ্চিত যে ইসিবি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে, কারণ সর্বশেষ মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবেদনে হ্রাস পরিলক্ষিত হয়েছে। মুদ্রানীতি কঠোর করার জন্য তাড়াহুড়ো করার কোনো প্রয়োজনই নেই।

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আবারও অনাকাঙ্ক্ষিত দিকে মোড় নিচ্ছে। যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী ভঙ্গ করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পুনরায় সংঘাতে জড়িয়েছে। এই মুহূর্তে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অন্যদিকে তেহরানও যেকোনো মুহূর্তে বাব-এল-মান্দেব প্রণালী অবরোধ করে পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। গতকাল, ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে, সম্ভবত লোহিত সাগর অবরোধ করার উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে, যা নতুন করে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে।


উপসংহার:

চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে, উভয় কারেন্সি পেয়ারেরই আবার মন্থর মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে, কারণ আজ কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই। ইউরো 1.1363-1.1377 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যেতে পারে, অন্যদিকে ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যেতে পারে। আজ ইউরোর মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে না এবং এটি নতুন করে দঢ়পতনের দিকে ঝুঁকছে; তিন সপ্তাহ ধরে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলেও আজ এটির মূল্যের কারেকশন অব্যাহত থাকতে পারে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account