logo

FX.co ★ EUR/USD পেয়ারের বিশ্লেষণ। ২৪শে জুলাই। ইসিবির বৈঠক: সবকিছু অপরিবর্তিত রয়েছে, কিন্তু মার্কেটে আতঙ্ক বিরাজ করছে

EUR/USD পেয়ারের বিশ্লেষণ। ২৪শে জুলাই। ইসিবির বৈঠক: সবকিছু অপরিবর্তিত রয়েছে, কিন্তু মার্কেটে আতঙ্ক বিরাজ করছে

EUR/USD পেয়ারের বিশ্লেষণ। ২৪শে জুলাই। ইসিবির বৈঠক: সবকিছু অপরিবর্তিত রয়েছে, কিন্তু মার্কেটে আতঙ্ক বিরাজ করছে

লাগার্ড উল্লেখ করেছেন যে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বেশ দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকতে পারে। অন্য কথায়, তেলের মূল্যের নির্দিষ্ট বৃদ্ধির ফলে মুদ্রাস্ফীতি হয়তো এক মাসের মধ্যেই পুরোপুরিভাবে বৃদ্ধি পাবে না। এর জন্য আরও সময় লাগবে। যদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় (যদিও তা আর কতদিন চলতে পারে?), তাহলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে থাকবে এবং এর প্রভাব পরিষেবা ও খাদ্যপণ্যের দামসহ অর্থনীতির সকল খাতে ছড়িয়ে পড়বে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে যে, ইইউ-তে মুদ্রাস্ফীতি ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধের আগে কমতে শুরু করবে না এবং তা কেবল মুদ্রানীতি কঠোর করার মাধ্যমেই কমানো সম্ভব।

অর্থনীতি প্রসঙ্গে লাগার্ডে মাঝারি মাত্রায় আশাবাদী অবস্থান বজায় রেখেছেন। তিনি মনে করেন যে ইউরোপীয় অর্থনীতিতে মাঝারি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত প্রবৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিতে পারে। তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে ইউরোপীয় নাগরিকদের আয় কমে যেতে পারে, যার ফলে ভোক্তা ব্যয় হ্রাস পাবে এবং বিনিয়োগও কমে যাবে।

সংক্ষেপে, ইসিবির বৈঠকের আগে আমি যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলাম, এখনও সেই একই সিদ্ধান্তে আসতে পারি। প্রথমত, ইসিবির মুদ্রানীতি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, হরমুজ ও বাব-এল-মান্দেব প্রণালীর পরিস্থিতি এবং তেলের মূল্যের উপর নির্ভর করবে। দ্বিতীয়ত, মুদ্রাস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক কার্যকলাপের সর্বশেষ প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তৃতীয়ত, ইসিবি কোনো পদক্ষেপ নিতে তাড়াহুড়ো করবে না, কারণ এটি ইউরোপীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিশীলতা কমিয়ে দেবে। চতুর্থত, প্রয়োজনে ইসিবি সুদের হার বাড়াতে প্রস্তুত। পঞ্চমত, এই তথ্য ট্রেডারদের কাছে খুব একটা আকর্ষণীয় হিসেবে বিবেচিত হয়নি।

আমার দৃষ্টিতে, ইসিবির বৈঠকের ফলাফলকে "ডোভিশ বা নমনীয়" হিসেবে গণ্য করা যায় না। ফলস্বরূপ, বৃহস্পতিবার মার্কেটে ইউরো বিক্রি করার কোন কারণ ছিল না। তবুও, আমরা ইউরোর দরপতন হতে দেখেছি, যা সম্পূর্ণরূপে ওয়েভ চিত্রের সাথে মিলে যায়। এই ক্ষেত্রে, C-তে ওয়েভ 5 সম্পন হওয়ার পরে, আমরা যৌক্তিকভাবে EUR/USD পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি।

EUR/USD পেয়ারের বিশ্লেষণ। ২৪শে জুলাই। ইসিবির বৈঠক: সবকিছু অপরিবর্তিত রয়েছে, কিন্তু মার্কেটে আতঙ্ক বিরাজ করছে

অবশ্য, মুদ্রানীতির ব্যাপারে ফেডারেল রিজার্ভের অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তবে, আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই যে, গত বৈঠকে ফেড কমিটি সম্ভাব্য সুদের হার বৃদ্ধির কোনো ইঙ্গিত দেওয়ার আগেই ট্রেডাররা মার্কিন ডলার কিনতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সুতরাং, আর্থিক নীতিমালা অন্তত এক দফায় কঠোর করার বিষয়টি ইতিমধ্যেই মূল্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে, ডলারের মূল্য বাড়তে থাকলেও এটি সহায়ক শক্তিগুলো হারাচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মার্কিন ডলারকে সহায়তা করছে, কিন্তু শুধুমাত্র ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ওপর ভিত্তি করে মার্কিন ডলারের চাহিদা আর কতদিন বজায় থাকবে? আমার মতে, ট্রেডারদের অনেক আগেই এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত ছিল।

EUR/USD-এর ওয়েভের চিত্র:

EUR/USD-এর পরিচালিত বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করে, আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে ইন্সট্রুমেন্টটির মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে, যদিও স্বল্পমেয়াদে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আমার মতে, লং পজিশন ওপেন করার জন্য এখন একটি ভালো সময়, কিন্তু ইন্সট্রুমেন্টটির মূল্য C-এর ওয়েভ 5-এর মধ্যে 1.13 ফিগার পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। ওয়েভ বিশ্লেষণ প্রায়শই অপ্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে আসে, তাই আমি এখনই এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করার কথা বিবেচনা করছি।

GBP/USD-এর ওয়েভের চিত্র:

GBP/USD-এর ওয়েভ চিত্রটি বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। বর্তমানে, এই ইন্সট্রুমেন্টটিতে তিনটি নিম্নমুখী ওয়েভ গঠিত হয়েছে, যেখানে EUR/USD-এর ক্ষেত্রে পাঁচটি ওয়েভ সম্পন্ন হয়ে থাকতে পারে। ফলস্বরূপ, ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য ইউরোর মতোই আরেকটি নিম্নমুখী ওয়েভ তৈরি করতে পারে, কিন্তু এই ওয়েভটি ট্রেন্ডের একটি নতুন ঊর্ধ্বমুখী সেগমেন্টের মধ্যে দ্বিতীয় ওয়েভ হিসেবে কাজ করতে পারে। সুতরাং, ইউরো এবং পাউন্ডের ওয়েভ প্যাটার্নে ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু তা হবে নগণ্য এবং সামান্য। এর উপর ভিত্তি করে, আমি শীঘ্রই একটি নিম্নমুখী পুলব্যাকের প্রত্যাশা করছি, যার পরে 1.37-38 ফিগারের কাছাকাছি যাওয়ার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা সহ একটি নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হবে।

আমার বিশ্লেষণের মূল নীতিমালা:

  1. ওয়েভ স্ট্রাকচার সহজ এবং স্পষ্ট হওয়া উচিত। জটিল স্ট্রাকচারে ট্রেড করা কঠিন এবং এগুলো প্রায়শই পরিবর্তিত হয়।
  2. মার্কেটে যা ঘটছে সে সম্পর্কে যদি ধারণা না থাকে, তবে ট্রেডে এন্ট্রি না করাই ভালো।
  3. মার্কেটের মুভমেন্টের দিক সম্পর্কে কখনোই শতভাগ নিশ্চয়তা থাকে না। সুরক্ষিত থাকতে সর্বদা স্টপ-লস অর্ডার ব্যবহার করবেন।
  4. ওয়েভ বিশ্লেষণকে অন্যান্য ধরনের বিশ্লেষণ এবং ট্রেডিং কৌশলের সাথে সমন্বয় করা যেতে পারে।
* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account