logo

FX.co ★ ৩ আগস্ট কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

৩ আগস্ট কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

শুক্রবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:

GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

৩ আগস্ট কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

শুক্রবার GBP/USD পেয়াররের মূল্যের কারেকশন ও প্রবণতাভিত্তিক বৃদ্ধি উভয়ই পরিলক্ষিত হয়েছে। ওই দিন যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট নির্ধারিত ছিল না, এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন আর মার্কিন ডলারকে দৃঢ়ভাবে সহায়তা প্রদান করছে না। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ক্লাসিক মেক্সিকান সোপ অপেরার স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে; এই "মার্লবোরো ব্যালেটের" পরিচালক হিসেবে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন ফাটা বাশের মাঝখানে আটকে গেছেন এবং ইরানের ব্যাপারে এরপর কী পদক্ষেপ নিতে হবে তা তিনি জানেন না। সামরিক অভিযান কোনো ফলাফল দিচ্ছে না, এবং ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরে যেতে আগ্রহী নয়। তেহরান অবশ্যই ট্রাম্পের আল্টিমেটাম গ্রহণ করবে না বা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো অনুকূল নয় এমন কোনো বিপজ্জনক চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না। তাই ট্রাম্পের সামনে কোনো বিকল্প থাকায় না; তিনি ইরানের ওপর নতুন আঘাত ও সময়ে সময়ে সমঝোতামুখী বক্তব্য — এই দুইয়ের মধ্যে পালাবদল করছেন, সেইসাথে আসন্ন চুক্তি সম্পর্কে বিবৃতি দিচ্ছেন। এই নাটকটি এখন ট্রেডারদের জন্য একরকম বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি ফেডারেল রিজার্ভও বর্তমানে মার্কিন কারেন্সিকে সহায়তা করতে পারছে না, কারণ সবাই বুঝতে পেরেছে যে আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার বিষয়টি অনিশ্চিত। মুদ্রানীতি কঠোর করার দিক দিয়ে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তুলনায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ডই অনেক বেশি এগিয়ে আছে।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

৩ আগস্ট কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

শুক্রবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। প্রথমে এই পেয়ারের মূক্ল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, যা শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ করে দেয়। তবে এই পেয়ারের মূল্য লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি। মার্কিন ট্রেডিং সেশনের সময় পাউন্ডের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া ব্রেক করে এবং নতুন সপ্তাহকে সামনে রেখে লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ মিলেছে।

সোমবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নতুন একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়ে। আমাদের মতে, স্থানীয় কারণগুলো পাউন্ডকে সহায়তা না করলেও এটির মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে গত মাস থেকেই এই পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে আপার বাউন্ডারির দিকে উঠতে শুরু করেছে এবং এই মুভমেন্ট এখনও সম্পন্ন হয়নি। সর্বশেষ বৈঠকে ফেডের গৃহীত সিদ্ধান্ত মার্কিন ডলারকে সহায়তা করেনি, এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে এটির মূল্য চিরকাল ধরে বাড়তে পারবে না, তাই আমেরিকান কারেন্সির আরও দর বৃদ্ধির জন্য আমরা যুক্তিযুক্ত কোনো কারণ দেখছি না।

সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3380-1.3386-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে লং পজিশন বিবেচনা করা যেতে পারে; যেখানে মূল্যের 1.3587-1.3598-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3096-1.3107, 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, এবং 1.3695। সোমবার যুক্তরাজ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য ইভেন্ট নির্ধারিত নেই, আর যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ ISM ম্যানুফ্যাকচারিং ইনডেক্স প্রকাশিত হবে—যেটির ফলাফল মার্কেটে লক্ষণীয় মুভমেন্ট সৃষ্টি করতে পারে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account