
বিটকয়েন এবং ইথেরিয়াম এখনও কারেকশনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা বেশ দীর্ঘ সময় ধরে চলমান থাকতে পারে। গত দেড় মাসে ইথেরিয়াম এবং বিটকয়েন কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হলেও, গত বছর শুরু হওয়া নিম্নমুখী প্রবণতা শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা এখনও দেখা যাচ্ছে না। ক্রিপ্টো খাতের মৌলিক প্রেক্ষাপট দুর্বলই রয়ে গেছে, যা মূলত স্পট মার্কেটে স্বল্প চাহিদা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে মূলধন প্রবাহ এবং মুদ্রাস্ফীতি ২%-এ নামিয়ে আনার জন্য ফেডের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কঠোর মুদ্রানীতির ইঙ্গিত দেয়। অতএব, আমরা এখনও বিটকয়েন বা ইথেরিয়ামের টেকসইভাবে মূল্য বৃদ্ধির জন্য কোনো ভিত্তি দেখতে পাচ্ছি না।
ইতোমধ্যে, বিশ্লেষকরা 'স্ট্র্যাটেজি'-র মালিকানাধীন ওয়ালেটগুলো থেকে নতুন করে বিটকয়েনের ট্রান্সফার লক্ষ্য করেছেন, যা এই "ডিজিটাল স্বর্ণ" বিক্রির আসন্ন সম্ভাবনার ইঙ্গিত হতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মাইকেল সেইলরের কোম্পানিটি ইতিমধ্যে দুইবার বিটকয়েন বিক্রি করেছে। প্রথমবার বিক্রির পরিমাণ ছিল নগণ্য, তবে দ্বিতীয়বার তা ১,৫০০ কয়েন ছাড়িয়ে গেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাইকেল সেইলার এখন আর কোম্পানির প্রধান নন এবং নতুন ব্যবস্থাপনা পর্ষদ তাঁর "সবসময় ক্রয় এবং কখনোই বিটকয়েন বিক্রি না করার" নীতি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্ট্র্যাটেজি এখন প্রয়োজনে তাদের হাতে থাকা বিটকয়েন বিক্রি করবে—যেমন, ডলারের নগদ অর্থভাণ্ডার বা ক্যাশ রিজার্ভ পুনরায় পূরণ করার জন্য। কমন ও প্রেফার্ড শেয়ারের লভ্যাংশ প্রদানের জন্য এই অর্থের প্রয়োজন হয়, আর সেই শেয়ার বিক্রির অর্থ দিয়েই মূলত বিটকয়েন কেনা হয়েছিল।
আমাদের ধারণা, স্ট্র্যাটেজির প্রতিটি নতুন বিটকয়েন বিক্রির ঘটনা ক্রিপ্টো ট্রেডারদের কাছে এই বার্তা দেবে যে, বিটকয়েনের বৃহত্তম পাবলিক হোল্ডার ভবিষ্যতে এটির আরও মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে আর আস্থা রাখতে পারছে না। পাশাপাশি, স্ট্র্যাটেজির এই বিক্রির ফলে এক্সচেঞ্জগুলোতে বিটকয়েনের সরবরাহ বেড়ে যায়, অথচ আমরা জানি যে এর চাহিদা এখনও কম। জনাব সেইলার সম্প্রতি বলেছেন যে, বিটকয়েন কখনোই বিক্রি না করার বিষয়ে তাঁর আহ্বান স্ট্র্যাটেজির আনুষ্ঠানিক দর্শনের অংশ ছিল না; বরং তা ছিল ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া পরামর্শ। এটি একটি সুবিধাজনক ব্যাখ্যা। আমাদের দৃষ্টিতে, স্ট্র্যাটেজি লোকসানের সম্মুখীন এই অ্যাসেটটির বিক্রি অব্যাহত রাখবে—পুরোপুরিভাবে বেরিয়ে না এলেও, তারা তাদের মালিকানাধীন বিটকয়েনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে। কোম্পানিটি বিটকয়েনে বিনিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে এমন সম্ভাবনা কম, তবে এটি স্পষ্ট যে তাদের বর্তমান বিনিয়োগের পরিমাণ অত্যধিক। সংক্ষেপে বলতে গেলে, কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ এখন বিটকয়েনের মূল্যের ওপরই নির্ভর করছে।
BTC/USD-এর ট্রেডিংয়ের পরামর্শ
বিটকয়েনের মূল্যের পূর্ণাঙ্গ নিম্নমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। আমরা এখনও $57,500-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে দরপতনের প্রত্যাশা করছি (তিন বছরের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার 61.8% ফিবোনাচ্চি লেভেল), যদিও এই লেভেলে মূল্য ইতোমধ্যেই পৌঁছেছে। তবে আমাদের ধারণা, নিম্নমুখী প্রবণতা এখানেই শেষ হবে না। দৈনিক টাইমফ্রেমে $68,000 থেকে $70,700 রেঞ্জে সর্বশেষ বিয়ারিশ FVG প্যাটার্ন গঠিত হয়েছে, যা এই রেঞ্জটিকে আসন্ন কয়েক সপ্তাহে শর্ট পজিশনের পয়েন্ট অব ইন্টারেস্টে (POI) পরিণত করেছে। 4-ঘণ্টার টাইমফ্রেমে বিটকয়েনের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে এবং ব্যাপক অস্থিরতা ও ওঠানামা বজায় থাকবে।
ETH/USD-এর ট্রেডিংয়ের পরামর্শ
দৈনিক টাইমফ্রেমে ইথেরিয়ামের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার গঠন অব্যাহত রয়েছে, যা গত বছরের আগস্টে শুরু হয়েছিল। মূল সেল প্যাটার্ন হিসেবে সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমের বিয়ারিশ অর্ডার ব্লক অপরিবর্তিত রয়েছে। আমরা মনে করি না যে চলমান নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তি ঘটেছে, কারণ বিটকয়েন বা ইথেরিয়ামের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তির কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে ক্রিপ্টো মার্কেটে দ্বিতীয় ধাপে কারেকশন চলছে। যেহেতু একটি 'বুলিশ অর্ডার-ব্লক' গঠিত হয়েছে এবং 'বাই-সাইড লিকুইডিটি' সংগ্রহ করা হয়েছে, তাই শীঘ্রই পুনরায় ইথেরিয়ামের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হতে পারে। তবে একই সময়ে বিটকয়েনের মূল্যের আবার নিম্নমুখী প্রবণতার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে, ফলে আবারও দরপতন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই অর্ডার-ব্লকটি শেষ পর্যন্ত একটি 'বাই সিগন্যাল' গঠন করেছিল এবং ইথেরিয়ামের মূল্য সেই প্যাটার্ন অনুযায়ী প্রতিক্রিয়াও দেখিয়েছিল। কিন্তু বিটকয়েনের দরপতন অব্যাহত থাকলে ইথেরিয়ামের মূল্যই কমতে থাকবে, কারণ বিটকয়েন ডমিন্যান্স ইনডেক্স এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং "অল্টকয়েন সিজন" এখনই শুরু হচ্ছে না।
চার্টের ব্যাখা
- CHOCH — চেঞ্জ অব ক্যারেকটার / ট্রেন্ড স্ট্রাকচারের ব্রেক।
- লিকুইডিটি — লিকুইডিটি, ট্রেডারদের স্টপ‑লস যা মার্কেট‑মেকাররা তাদের পজিশন ওপেন করতে ব্যবহার করে।
- FVG — ফেয়ার ভ্যালু গ্যাপ। মূল্য প্রায়ই এমন এরিয়াগুলো দ্রুত অতিক্রম করে, যা মার্কেটে ক্রেতা বা বিক্রেতা যেকোনো একপক্ষের অনুপস্থিতি নির্দেশ করে; পরে এই জোনগুলোতে ফিরে এসে মূল্যের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
- IFVG — ইনভার্টেড ফেয়ার ভ্যালু গ্যাপ। এমন জোনে ফেরার পর মূল্যের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয়ে ব্রেকআউট হয় এবং পরে উল্টো দিক থেকে টেস্ট করে।
- OB — অর্ডার ব্লক। এমন একটি ক্যান্ডেল যা কাজে লাগিয়ে মার্কেট‑মেকাররা লিকুইডিটি ঘটাতে পজিশন ওপেন করেন এবং পরে বিপরীত দিকে নিজের পজিশন ওপেন করেন।

