গতকাল, মার্কিন ইকুইটি সূচকগুলোতে নিম্নমুখী প্রবণতার সাথে লেনদেন শেষ হয়েছে। S&P 500 সূচক 1.01% হ্রাস পেয়েছে, যখন নাসডাক 100 সূচক 0.06% হ্রাস পেয়েছে। তবে, ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক 0.85% হ্রাস পেয়েছে।
এই সপ্তাহের শুরুর দিকে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দরপতনের জেরে আজ S&P 500 সূচকে ফিউচার্সে খুব একটা পরিবর্তন দেখা যায়নি। সর্বকালের সর্বোচ্চ লেভেলে থাকা অবস্থায় ট্রেডিং সেশন শেষ হওয়ার পর ইউরোপীয় স্টক মার্কেটে সামান্য দরপতনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, অন্যদিকে এশীয় স্টক মার্কেটগুলো মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল।

জ্বালানি তেলের দর বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বন্ড মার্কেটে প্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় ফেডারেল রিজার্ভ দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে বজায় রাখতে পারে—এমন আশঙ্কা পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় ট্রেজারি ফিউচারের দর কিছুটা কমেছে। মার্কিন ট্রেডিং সেশন চলাকালীন সময়ে ১০ বছর মেয়াদী ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ ৭ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৪.৬৮ শতাংশে স্থির হয়; একই সময়ে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সম-মেয়াদী সরকারি বন্ডের দরও হ্রাস পায়।
জ্বালানি তেলের দর নিয়ে উদ্বেগের মূল কারণ হলো চলমান সমঝোতা চুক্তির এমন কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয় উঠে এসেছে, যা স্থানীয় গণমাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। এসব প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে চায় এবং যেসব দেশকে তারা 'বৈরী' বলে মনে করে, তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দেওয়ার আগে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে চায়। ইরানের এই অবস্থানের হরমুজ প্রণালী পুরোপুরিভাবে অবরোধমুক্ত হওয়ার বিষয়ে ট্রেডারদের প্রত্যাশা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষ থেকেই যখন চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছিল, ঠিক তখনই জ্বালানি তেলের দর কেন উল্টো বেড়ে গেল, তার কারণটি বেশ স্পষ্ট।
এই সপ্তাহে জাপানি ইয়েনকে ঘিরে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে; কারেন্সি মার্কেটে সরকারি হস্তক্ষেপের ফলে অর্জিত প্রবৃদ্ধির প্রায় অর্ধেকই এখন ইয়েন হারিয়ে বসেছে। সপ্তাহের শুরুর দিকে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েনের এক্সচেঞ্জ রেট 155.23-এ উঠে এলেও, পরবর্তীতে তা 158.35-এর কাছাকাছি স্থিতিশীল অবস্থানে ছিল। এটি আমাদের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসকেই নিশ্চিত করে যে, মৌলিক বিষয়গুলো—বিশেষ করে সুদের হারের পার্থক্য—যদি অপরিবর্তিত থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের আর্থিক কর্তৃপক্ষের সমন্বিত হস্তক্ষেপও কেবল সাময়িক প্রভাবই ফেলতে পারবে।
আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জুলাই মাসের কর্মসংস্থান বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে; আর এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ট্রেডাররা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য 'অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের' অবস্থান গ্রহণ করেছে। অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন যে, জুন মাসে প্রত্যাশার চেয়ে কম—অর্থাৎ 57,000—নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পর এবার 80,000 নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বৃহস্পতিবারে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমেই আসন্ন প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়ে গেছে। গতকালকের পরিসংখ্যানে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের দৃঢ়তাকেই প্রতিফলিত হয়েছে: টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো নতুন করে বেকার ভাতার আবেদনের সংখ্যা 200,000-এর নিচে রয়েছে। এর ফলে, ফেডারেল রিজার্ভের সেপ্টেম্বর মাসের বৈঠকের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের পরিবর্তে মুদ্রাস্ফীতিই এখন মূল বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির মূল্যের $7,718-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এটি আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করবে এবং $7,737-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। সূচকটির দর $7,756-এর উপর ধরে রাখাও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যদি ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে গিয়ে দরপতন হয়, তাহলে সূচকটির দর $7,698-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। এই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য দ্রুত $7,679-এ নেমে যেতে পারে এবং $7,667 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।
