আসন্ন সপ্তাহটিও আগের সপ্তাহের মতোই বেশ অস্থিতিশীল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সপ্তাহে ট্রেডাররা যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিতব্য মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন—জুলাই মাসের ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) ও উৎপাদক মূল্য সূচকের (PPI) জন্য অপেক্ষা করছে। এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল কারেন্সি মার্কেটের অস্থিরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে—বিশেষ করে জুলাই মাসে 'নন-ফার্ম পেরোল' প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফলের কারণে ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত প্রত্যাশার পুনর্বিবেচনা শুরু হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে। মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক নতুন এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফলের প্রভাবে হয়তো ফেড কর্তৃক 'ডোভিশ' বা নমনীয় আর্থিক নীতিমালা প্রণয়নের প্রত্যাশা দৃঢ় হতে পারে (যার ফলে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ বাড়বে), অথবা এর ঠিক উল্টোটা ঘটিয়ে মার্কিন ডলারের কিছুটা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে।
অন্য কথায়, আসন্ন প্রতিবেদনগুলো কেবল আগামী দিনগুলোর জন্যই নয়, বরং পরবর্তী সপ্তাহগুলোর জন্যও EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিংয়ের গতিপথ নির্ধারণের সক্ষমতা রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) সংক্রান্ত জুলাই মাসের প্রতিবেদনটি (যা বুধবার, ১২ আগস্ট প্রকাশিত হবে) মার্কিন ডলারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এর ঠিক আগেই দেশটির শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের অপ্রত্যাশিতভাবে দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশটিতে সামগ্রিক সিপিআই (CPI) বার্ষিক ভিত্তিতে জুন মাসের 3.5% থেকে কমে 3.4%-এ নেমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাসিক ভিত্তিতে, আগের মাসে সূচকটি ঋণাত্মক পর্যায়ে (-0.4%) নেমে যাওয়ার পর এবার এতে সামান্য বৃদ্ধি (+0.1%) দেখা যেতে পারে। এছাড়া, জুন মাসে বার্ষিক 'কোর' কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্সে বড় ধরনের হ্রাসের (2.9% থেকে 2.6%) পর, এবার তা কমে 2.5%-এ দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
জুলাই মাসে সংঘটিত ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এই পূর্বাভাসগুলোর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গত এক মাসে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের মূল্যের ব্যাপক ঊর্ধ্বগতির ফলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমনকি জুলাই মাসের বৈঠকের পর ফেডারেল রিজার্ভও উচ্চচ মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে "অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার অন্যতম উৎস" হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাই, বাহ্যিক এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সিপিআই (CPI)-এর পতনের পূর্বাভাস বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। এমন সম্ভাব্য ফলাফল দৃঢ়ভাবে এই ইঙ্গিত দেয় যে, জ্বালানি তেলের মূল্য নতুন করে বৃদ্ধি পেলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায়নি।
পাশাপাশি, জুলাই মাসের সিপিআই (CPI)-কে ইতোমধ্যে প্রকাশিত জুলাইয়ের এনএফপি-র প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা উচিত। যদি মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনটির ফলাফল অন্তত পূর্বাভাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয় (আর যদি তা 'রেড জোন' বা সতর্ক সীমার মধ্যে পৌঁছায়, তাহলে তো কথাই নেই), তাহলে সিপিআই-এর সম্ভাব্য হ্রাস শ্রমবাজার পরিস্থিতি দুর্বল হয়ে আসার প্রক্রিয়ার সাথেই মিলে যাবে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, জুলাই মাসের 'নন-ফার্ম পেরোল' প্রতিবেদনের ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দুর্বল ছিল: মার্কিন অর্থনীতিতে 23,000 কর্মসংস্থান কমেছে এবং মজুরি বৃদ্ধির হার কমে বার্ষিক ভিত্তিতে 3.2%-এ নেমে এসেছে (যা জুনে বেড়ে 3.5%-এ পৌঁছেছিল)। এছাড়া, মে ও জুন মাসের প্রতিবেদনেও সংশোধনী এনে কর্মসংস্থানের সংখ্যা মোট 103,000 কমিয়ে দেখানো হয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস এবং মজুরি বৃদ্ধির হারও হ্রাস—এই দুটি প্রবণতার সংমিশ্রণ ফেডারেল রিজার্ভের অবস্থানকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দিতে পারে; অন্তত তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ক্ষেত্রে তো বটেই। আমরা জানি যে, মজুরি বৃদ্ধির হার কমে গেলে ভোক্তা চাহিদার মাধ্যমে সৃষ্ট 'দ্বিতীয় পর্যায়ের' মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি কমায়; অন্যদিকে সিপিআই (CPI)-এর নিম্নমুখী প্রবণতা ইঙ্গিত দেয় যে, মূল্যজনিত আকস্মিক ধাক্কাগুলো (আপাতত) দীর্ঘস্থায়ী মুদ্রাস্ফীতির ধারাবাহিকতায় পরিণত হচ্ছে না।
অন্য কথায়, ফেডারেল রিজার্ভের হকিশ বা কঠোর মুদ্রানীতির প্রেক্ষাপটে জুলাই মাসের সিপিআই (CPI) বা ভোক্তা মূল্য সূচক সংক্রান্ত প্রতিবেদন কারেন্সি মার্কেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ 'পরীক্ষা' হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নন ফার্ম পেরোল প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল এবং মজুরি বৃদ্ধির হার দুর্বল হওয়ার ফলে যদি ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি সত্যিই কমে আসে, তাহলে মার্কেটে আবারও আগামী প্রান্তিকগুলোতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির সামগ্রিক চিত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে জুলাই মাসের 'প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স' (PPI) বা উৎপাদক মূল্য সূচক প্রতিবেদনটিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ; এটি ১৩ আগস্ট, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হবে। ভোক্তা মূল্যস্ফীতি হ্রাসের যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, তা কতটা টেকসই হতে পারে—সেই বিষয়টি যাচাই করার ক্ষেত্রে এই প্রতিবেদনটি একটি নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।
উৎপাদক পর্যায়ের মূল্যকে সাধারণত ভোক্তা পর্যায়ের মূল্যের ওপর ভবিষ্যতের চাপের একটি সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই জুলাই মাসে পিপিআই (PPI) সামান্য বৃদ্ধি পেলে—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলীর মধ্যেও—এই আস্থা আরও জোরালো হবে যে, মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সত্যিই স্তিমিত হয়ে আসছে।
সর্বসম্মত পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুন মাসে 0.3% হ্রাসের পর মাসিক ভিত্তিতে পিপিআই (PPI) সূচকের মোটামুটি 0.2%-এর মতো পুনরুদ্ধার দেখা যেতে পারে। বার্ষিক ভিত্তিতে এই হার 5.5 থেকে 5.6%-এর মধ্যে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার অর্থ হলো জুনের 5.5% হারের তুলনায় সূচকটিতে উল্লেখযোগ্য কোনো বৃদ্ধি দেখা যাবে না।
উৎপাদক পর্যায়ে পণ্যের দামে বড় ধরনের কোনো উল্লম্ফন ছাড়াই ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি কমে আসার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধীরে ধীরে শিথিল হওয়ার বিষয়ে আলোচনার সুযোগ করে দেবে। বিশেষ করে শ্রমবাজারের দুর্বল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, এমন ফলাফল (বা ফলাফলের এই সমন্বয়) মার্কিন ডলারের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করবে।
টেকনিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে, H4 চার্টে EUR/USD পেয়ারের মূল্য বলিঙ্গার ব্যান্ডস ইন্ডিকেটরের মিডল ও আপার লাইনের মাঝখানে এবং ইচিমোকু ইন্ডিকেটরের সবগুলো লাইনের উপরে অবস্থান করছে, যা একটি বুলিশ "প্যারেড অফ লাইনস" সিগন্যাল গঠন করেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, H4 চার্টে বলিঙ্গার ব্যান্ডের আপার রেঞ্জের দিকে—বিশেষ করে 1.1560 এবং পরবর্তীতে 1.1580 (ডেইলি চার্টে বলিঙ্গার ব্যান্ডের আপার রেঞ্জ) লেভেল পর্যন্ত—এই পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। যদি EUR/USD-এর ক্রেতারা মূল্যের সর্বশেষ রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করাতে সক্ষম হন, তবে তা 1.16-এর দিকে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করবে, যেখানে পরবর্তী রেজিস্ট্যান্স লেভেল হিসেবে 1.1630 (উইকলি চার্টে কিজুন-সেন লাইন) বিবেচনা করা যেতে পারে।
