logo

FX.co ★ ১০ আগস্ট কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

১০ আগস্ট কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

শুক্রবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

১০ আগস্ট কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

শুক্রবারের ট্রেডিংয়ে EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য শক্তিশালী না হলেও বেশ আত্মবিশ্বাসী উত্থান প্রদর্শন করেছে। নতুন ট্রেডারদের জন্য দিনটি একই সাথে তুলনামূলকভাবে সহজ ও জটিল ছিল। শুরু থেকেই এই বিষয়টি স্পষ্ট ছিল যে সবকিছু নন-ফার্ম পে-রোল প্রতিবেদনের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে, যেটির জন্য ট্রেডাররা সপ্তাহের শুরু থেকেই অপেক্ষা করে আসছিল এবং যার ওপর ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি নির্ভর করে। তবে এই প্রতিবেদনের ফলাফলের ব্যাপারে আগেভাগে পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব ছিল না। আনুষ্ঠানিক পূর্বাভাসে জুলাই মাসের নন-ফার্ম পে-রোলে প্রায় 80,000 কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল; বাস্তবে প্রতিবেদনে কর্মসংস্থান -20,000 হ্রাস পেয়েছে। পূর্বাভাস ও প্রকৃত ফলাফলের মধ্যে ব্যবধান প্রায় 100,000। সেইসাথে, আগের দুই মাসের ফলাফল সংশোধন করে আরও 100,000 কমানো হয়েছে। ফলে কার্যত শুক্রবারই মার্কিন শ্রমবাজারে 200,000 কর্মসংস্থানের ঘাটতি দেখা গেল। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতি মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটিয়েছে। এবং আমাদের মতে এই দরপতনটি খুবই যুক্তিসঙ্গত ছিল। মার্কিন ডলারের সম্ভবত আরও দরপতন হবে, কারণ সেপ্টেম্বরে ফেডের আর্থিক নীতিমালা কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা এখন ন্যূনতম।

EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

১০ আগস্ট কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

শুক্রবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ঠিক একটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়। মার্কিন ট্রেডিং সেশনের শুরুতে এই পেয়ারের মূল্য 1.1527–1.1531 এরিয়া ব্রেক করে উপরে উঠে লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ করে দেয়। তবে ওই সিগন্যাল কাজে লাগিয়ে ট্রেড করা বেশ কঠিন ছিল কারণ 5 মিনিটের মধ্যে এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্তিমিত হয়ে এসেছিল।

সোমবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেলটি থেকে বের হয়ে এসেছে, যেখানে মূল্য এক মাস অবস্থান করেছে এবং এখন একটি নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। গত কয়েক মাসের বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা মনে করি ইউরোপীয় কারেন্সির মূল্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। সম্প্রতি মার্কেটের ট্রেডাররা ইউরোর পক্ষে থাকা প্রায় সব ইতিবাচক কারণ উপেক্ষা করেছে, তাই এখন একটি কারেকশন এবং এই পেয়ারের এক্সচেঞ্জ রেট ন্যায্য মূল্যে ফিরে আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1527–1.1531 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1461–1.1474-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1527–1.1531 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1584–1.1594-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1666, 1.1745–1.1754। সোমবার ইইউ বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই; দিনের মধ্যে মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির মতো কিছু থাকবে না, সুতরাং মার্কেটে সম্ভবত স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকবে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account