logo

FX.co ★ স্ট্র্যাটেজি বিটকয়েন বিক্রি করেই চলেছে

স্ট্র্যাটেজি বিটকয়েন বিক্রি করেই চলেছে

বিটকয়েন এবং ইথেরিয়াম এখনও কারেকশনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা বেশ দীর্ঘ সময় ধরে চলমান থাকতে পারে। গত দেড় মাসে ইথেরিয়াম এবং বিটকয়েন কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হলেও, গত বছর শুরু হওয়া নিম্নমুখী প্রবণতা শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা এখনও দেখা যাচ্ছে না। ক্রিপ্টো খাতের মৌলিক প্রেক্ষাপট দুর্বলই রয়ে গেছে, যা মূলত স্পট মার্কেটে স্বল্প চাহিদা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে মূলধন প্রবাহ এবং মুদ্রাস্ফীতি ২%-এ নামিয়ে আনার জন্য ফেডের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় থাকার ইঙ্গিত দেয়। অতএব, আমরা এখনও বিটকয়েন বা ইথেরিয়ামের টেকসইভাবে মূল্য বৃদ্ধির জন্য কোনো ভিত্তি দেখতে পাচ্ছি না।

ইতোমধ্যে জানা গেছে যে স্ট্র্যাটেজি আরেকবার বিটকয়েন বিক্রয় করেছে, যার মূল্য মোটামুটি $109 মিলিয়ন। এই অর্থ কোম্পানিটির প্রেফার্ড শেয়ার পুনঃক্রয় করতে এবং ডলারের রিজার্ভ পূরণ করতে ব্যবহার করা হয়েছিল। মজার বিষয় হল, "কখনও বিটকয়েন বিক্রি করবেন না" নীতি মেনে চলার পর স্ট্র্যাটেজি চতুর্থবারের মতো বিটকয়েন বিক্রয় করেছে। সময় বদলায়, এবং স্ট্র্যাটেজি ছয় বছর ধরে অনুসরণ করা কৌশল দিয়ে আর সফলতার মুখ দেখছে না. প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানিটির নতুন ম্যানেজমেন্ট প্রেফার্ড শেয়ারের মূল্য বাড়ানোর জন্য একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা কয়েক দফা বিটকয়েন বিক্রির পরেও দৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছে।

একই সাথে, মাইকেল সেইলর এখনও দৃঢ়ভাবে বলছেন যে বিটকয়েন বিক্রি করা একটি ক্ষতিকর কৌশল এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে কখনোই এমনটা করবেন না। তবে তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে 'স্ট্র্যাটেজি' তাঁর ব্যক্তিগত কোনো কোম্পানি নয়, তাই এটি তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্তের চেয়ে ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। অন্য কথায়, সেইলরের অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছে। ব্যক্তিগতভাবে তিনি "বিটকয়েন কিনে রাখা এবং কখনোই বিক্রি না করার" কৌশলটি ত্যাগ করতে না পারলেও, তাঁর কোম্পানি আর সেই নীতি মেনে চলছে না; বরং তারা এই কৌশলের অকার্যকারিতাকে স্বীকার করে নিয়েছে। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে 'স্ট্র্যাটেজি' কর্তৃক বিটকয়েনে করা সকল বিনিয়োগই লোকসানের মুখে (অর্থাৎ ক্রয়মূল্যের চেয়ে বর্তমান বাজারমূল্য কম) রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে "ডিজিটাল স্বর্ণ" বা বিটকয়েনের ব্যাপক মূল্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও কোম্পানিটি নির্বিচারে যেকোনো দামেই এটি কিনেছে—যা আমাদের দৃষ্টিতে তাদের প্রধান ভুল। 'স্ট্র্যাটেজি' যদি বিটকয়েনের মূল্য কম থাকার সময় এটি কিনত এবং মূল্য বাড়লে বিক্রি করত (যা একটি প্রচলিত ও পরীক্ষিত পদ্ধতি), তবে ছয় বছর বিনিয়োগের পরেও তাদের হয়তো লোকসান বা মুনাফাহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।

স্ট্র্যাটেজি বিটকয়েন বিক্রি করেই চলেছে

BTC/USD-এর ট্রেডিংয়ের পরামর্শ

বিটকয়েনের মূল্যের পূর্ণাঙ্গ নিম্নমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। আমরা এখনও $57,500-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে দরপতনের প্রত্যাশা করছি (তিন বছরের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার 61.8% ফিবোনাচ্চি লেভেল), যদিও এই লেভেলে মূল্য ইতোমধ্যেই পৌঁছেছে। তবে আমাদের ধারণা, নিম্নমুখী প্রবণতা এখানেই শেষ হবে না। দৈনিক টাইমফ্রেমে $68,000 থেকে $70,700 রেঞ্জে সর্বশেষ বিয়ারিশ FVG প্যাটার্ন গঠিত হয়েছে, যা এই রেঞ্জটিকে আসন্ন কয়েক সপ্তাহে শর্ট পজিশনের পয়েন্ট অব ইন্টারেস্টে (POI) পরিণত করেছে। 4-ঘণ্টার টাইমফ্রেমে বিটকয়েনের দরপতনের সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে এবং এটির মূল্যের ব্যাপক অস্থিরতা ও ওঠানামা বজায় থাকবে।

স্ট্র্যাটেজি বিটকয়েন বিক্রি করেই চলেছে

ETH/USD-এর ট্রেডিংয়ের পরামর্শ

দৈনিক টাইমফ্রেমে ইথেরিয়ামের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার গঠন অব্যাহত রয়েছে, যা গত বছরের আগস্টে শুরু হয়েছিল। মূল সেল প্যাটার্ন হিসেবে সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমের বিয়ারিশ অর্ডার ব্লক অপরিবর্তিত রয়েছে। আমরা মনে করি না যে চলমান নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তি ঘটেছে, কারণ বিটকয়েন বা ইথেরিয়ামের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তির কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে ক্রিপ্টো মার্কেটে দ্বিতীয় ধাপে কারেকশন চলছে, যা শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্টে পরিণত হয়েছে। ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্টের সময় আপনি শুধুমাত্র এই রেঞ্জের বাউন্ডারি থেকেই ট্রেড করতে পারবেন। ইথেরিয়ামের মূল্যের পরবর্তী মুভমেন্ট এই ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্টের সমাপ্তির উপর নির্ভর করবে। বর্তমানে ইথেরিয়ামের মূল্যের $1,800 ও 1,942-এর সাইডওয়েজ চ্যানেলের আপার ব্যান্ডের কাছাকাছি কোনো ডেভিয়েশন বা প্যাটার্ন গঠিত হয়নি, তাই কোনো ট্রেডিং সিগন্যালও পাওয়া যায়নি।

চার্টের ব্যাখা

  • CHOCH — চেঞ্জ অব ক্যারেকটার / ট্রেন্ড স্ট্রাকচারের ব্রেক।
  • লিকুইডিটি — লিকুইডিটি, ট্রেডারদের স্টপ‑লস যা মার্কেট‑মেকাররা তাদের পজিশন ওপেন করতে ব্যবহার করে।
  • FVG — ফেয়ার ভ্যালু গ্যাপ। মূল্য প্রায়ই এমন এরিয়াগুলো দ্রুত অতিক্রম করে, যা মার্কেটে ক্রেতা বা বিক্রেতা যেকোনো একপক্ষের অনুপস্থিতি নির্দেশ করে; পরে এই জোনগুলোতে ফিরে এসে মূল্যের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
  • IFVG — ইনভার্টেড ফেয়ার ভ্যালু গ্যাপ। এমন জোনে ফেরার পর মূল্যের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয়ে ব্রেকআউট হয় এবং পরে উল্টো দিক থেকে টেস্ট করে।
  • OB — অর্ডার ব্লক। এমন একটি ক্যান্ডেল যা কাজে লাগিয়ে মার্কেট‑মেকাররা লিকুইডিটি ঘটাতে পজিশন ওপেন করেন এবং পরে বিপরীত দিকে নিজের পজিশন ওপেন করেন।
* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account