ক্রিপ্টো মার্কেটে বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামের মূল্যের স্থিতিশীলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। গতকাল এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে, 'ক্ল্যারিটি অ্যাক্ট'-এর ওপর কোনো পদ্ধতিগত ভোট প্রদান ছাড়াই সিনেট যখন পাঁচ সপ্তাহের অবকাশে ওয়াশিংটন ত্যাগ করল, তার ঠিক কয়েক দিনের মধ্যেই মার্কিন সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন নিজস্ব উদ্যোগে ক্রিপ্টো-সংক্রান্ত বিধিমালার খসড়া তৈরির পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এই সময়টি ১৪ আগস্ট অনুষ্ঠেয় এসইসি-এর আসন্ন বৈঠকটিকে কেবল একটি সাধারণ বৈঠকের চেয়েও বেশি কিছুতে পরিণত করেছে—এটি একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত যে পল অ্যাটকিন্সের নেতৃত্বাধীন কমিশন কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের বর্তমান এখতিয়ারের মধ্যেই স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে।
বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে একমাত্র বিষয়টি হলো নতুন কিছু নিয়মের প্রস্তাব আনা, যার মাধ্যমে ক্রিপ্টো-অ্যাসেট-সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট কিছু বিনিয়োগ চুক্তির জন্য একটি বিশেষায়িত অফারিং বা প্রস্তাবনা ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। নথিপত্রটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে "রেগুলেশন ক্রিপ্টো"। অ্যাটকিন্স চেয়ারম্যান হওয়ার পর এটিই এসইসি-র প্রথম আনুষ্ঠানিক নিয়মনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ; আর এই ধারণাটি গড়ে উঠেছে ডিসি ব্লকচেইন সামিটে দেওয়া তাঁর বক্তব্যের পর জনসমক্ষে তুলে ধরা কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে। প্রস্তাবটি তিনটি আইনি কৌশলের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে: স্টার্টআপের জন্য বিশেষ ছাড়, মূলধন সংগ্রহের ক্ষেত্রে বড় পরিসরে ছাড় এবং বিনিয়োগ চুক্তির জন্য এক ধরণের 'সেফ হারবার' বা সুরক্ষা ব্যবস্থা। এই সুরক্ষা ব্যবস্থার ফলে, কোনো প্রকল্প যখন সক্রিয়ভাবে নেটওয়ার্ক পরিচালনা বন্ধ করে দেয় এবং টোকেনটি কার্যত বিকেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে, তখন সেই প্রকল্পগুলো এসইসি-এর এখতিয়ার বা নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসার একটি স্পষ্ট পথ খুঁজে পাবে।
তিন সদস্যের এই কমিশনে (যার সবাই রিপাবলিকান) খসড়াটি জনমতের জন্য প্রকাশের অনুমোদন দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে—তবে এটি চূড়ান্ত কোনো বিধিমালা নয়। সাধারণত মতামত গ্রহণের জন্য দুই থেকে তিন মাস সময় এবং পরবর্তী সংশোধনী প্রক্রিয়ার কথা বিবেচনা করলে, ২০২৭ সালের আগে এর বাস্তব প্রয়োগের সম্ভাবনা কম।
আগস্টের অবকাশকালীন ছুটির আগে সিনেটে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় নিয়ন্ত্রণ কাঠামো সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দূর করতে সংস্থাটি যে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, এটি তারই প্রথম ধাপ। 'ক্ল্যারিটি অ্যাক্ট'-এর ওপর সিনেটের পরবর্তী ভোট ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে—যে দিনটিকে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর শেষ প্রকৃত সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা প্যাট্রিক উইট।
ট্রেডিংয়ের পরামর্শ

বিটকয়েন
ক্রেতারা বর্তমানে বিটকয়েনের মূল্যকে $65,000-এর লেভেলে ফেরানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার ফলে এটির মূল্য সরাসরি $66,000 পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে এবং $66,800-এ পৌঁছানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে; এই লেভেল ব্রেক করে মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হলে মার্কেটে পুনরায় বুলিশ প্রবণতা শুরু হয়েছে বলে সংকেত পাওয়া যাবে। দরপতনের ক্ষেত্রে বিটকয়েনের মূল্য $63,400-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতারা সক্রিয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে রয়েছে। বিটকয়েনের মূল্য ঐ এরিয়ার নিচে নেমে গেলে এটির মূল্য দ্রুত $62,300-এর দিকে নেমে যেতে পারে এবং পরবর্তীতে $60,600 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।

ইথেরিয়াম
ইথেরিয়ামের মূল্য $1,916-এর উপরে স্থিতিশীল হলে সরাসরি $1,974 পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। পরবর্তীতে ইথেরিয়ামের মূল্য $2,012-এর দিকে যেতে পারে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হলে সেটি বুলিশ প্রবণতা শক্তিশালী হওয়ার এবং ক্রেতাদের আগ্রহ ফিরে আসার সংকেত হিসেবে বিবেচিত হবে। দরপতনের ক্ষেত্রে মূল্য $1,868-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতারা সক্রিয় হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। ঐ এরিয়ার নিচে নেমে গেলে ETH-এর মূল্য দ্রুত $1,834-এর দিকে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তীতে $1,782 পর্যন্ত দরপতনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়।
চার্টে কী কী রয়েছে
- লাল লাইনগুলো সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেলগুলো নির্দেশ করে, যেখানে মূল্যের মুভমেন্ট থেমে যেতে পারে বা তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হতে পারে।
- সবুজ লাইনটি 50‑দিনের মুভিং এভারেজ নির্দেশ করে।
- নীল লাইনটি 100‑দিনের মুভিং এভারেজ নির্দেশ করে।
- লাইম লাইনটি 200‑দিনের মুভিং এভারেজ নির্দেশ করে।
- মূল্য এই মুভিং এভারেজগুলোর যেকোনোটি টেস্ট বা ক্রস করলে প্রায়শই মুভমেন্ট থেমে যায় বা মার্কেটে নতুন মুভমেন্ট শুরু হয়।
