logo

FX.co ★ ১৩ আগস্ট কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

১৩ আগস্ট কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:

GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

১৩ আগস্ট কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবার প্রত্যাশা অনুযায়ী GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের কোনো উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট দেখা যায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বাড়তে শুরু করে, কারণ এই প্রতিবেদনের ফলাফল অনুযায়ী ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার সম্ভাবনা কমে গিয়েছিল। তবে, মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেতে শুরু করে—যার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ব্যাখ্যা করা বেশ কঠিন। দিনের শেষে মার্কিন ডলারের দর সামান্য বৃদ্ধি পেলেও, একে প্রবণতার পরিবর্তন বা নিম্নমুখী প্রবণতা শুরুর ইঙ্গিত বলা যায় না। অবশ্য যে পর্যায়ে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য সহজেই বৃদ্ধি পাওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তা ঘটেনি। গত দুই সপ্তাহ ধরে এই পেয়ারের মূল্য খুব ধীরগতিতে বাড়ছে, তবে অ্যাসেন্ডিং চ্যানেলের বিন্যাস অনুযায়ী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এখনও বজায় রয়েছে। এই পেয়ারের মূল্য এই চ্যানেলের নিচে কনসলিডেট করলে তা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সমাপ্তি নির্দেশ করবে, কিন্তু ঠিক কী কারণে ভবিষ্যতে মার্কিন ডলারের দর আরও বাড়তে পারে, তা অস্পষ্ট। বর্তমানে মার্কিন ডলার ভূ-রাজনৈতিক, মৌলিক বা সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে কোনো সহায়তা পাচ্ছে না। অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য এখন প্রতিনিয়ত বা প্রতিদিনই বাড়তে থাকবে; তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন ডলারের ক্ষেত্রে কেবল কারেকশনেরই প্রত্যাশা করা যেতে পারে।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

১৩ আগস্ট কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। গতকাল নতুন ট্রেডাররা ট্রেডে এন্ট্রি করার মতো কোনো সুযোগ পায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 রেঞ্জের কাছাকাছি অবস্থান করছে, তাই দিনের মধ্যে এক বা একাধিক সিগন্যাল গঠিত হতে পারে। তবে, আজ আবারও মার্কেটে স্বল্পমাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। আমাদের মতে, স্থানীয় কারণগুলো পাউন্ডকে সহায়তা না করলেও এটির মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে গত মাস থেকেই এই পেয়ারের মূল্য কনসলিডেশন চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে আপার বাউন্ডারির দিকে উঠতে শুরু করেছে এবং এই মুভমেন্ট এখনও সম্পন্ন হয়নি। মার্কেটে সেপ্টেম্বরে ফেড কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা বিলীন হতে শুরু করেছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল দুর্বল ছিল। শুধু মাত্র ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে অ্যাসেন্ডিং চ্যানেলের নিচে এই পেয়ারের মূল্য কনসলিডেট করলে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যেতে পারে।

বৃহস্পতিবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456–1.3476 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3380–1.3386-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে, আজ যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3587–1.3598-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপি এবং জুন মাসের শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে 'প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স' (PPI) বা উৎপাদক মূল্য সূচক সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। আমাদের ধারণা, এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফলের প্রভাবে মার্কেটে দুর্বল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account