logo

FX.co ★ ১৩ আগস্ট কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত? নতুন ট্রেডারদের জন্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ

১৩ আগস্ট কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত? নতুন ট্রেডারদের জন্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ

সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ:

১৩ আগস্ট কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত? নতুন ট্রেডারদের জন্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ

বুধবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে; প্রকৃতপক্ষে, মাত্র একটি প্রতিবেদনই প্রকাশিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন নিয়ে ইতোমধ্যেই অনেক আলোচনা হয়েছে; জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির হার কতটা কমেছে বা বেড়েছে, তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ট্রেডাররা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না। আমাদের মতে, এই প্রতিবেদনটি ফেডারেল রিজার্ভের সেপ্টেম্বর মাসের বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করবে না। এর কারণ হলো—প্রথমত, নন-ফার্ম পেরোল প্রতিবেদনের হতাশাজনক ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার সম্ভাবনা এমনিতেই অত্যন্ত ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। এবং দ্বিতীয়ত, জুলাই মাসে মুদ্রাস্ফীতি কমলেও আগস্ট মাসে তা আবার বেড়ে যেতে পারে।

ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:

১৩ আগস্ট কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত? নতুন ট্রেডারদের জন্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ

বৃহস্পতিবারের গুরুত্বপূর্ণ ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি সংক্রান্ত কমিটির সদস্য থমাস বার্কিনের বক্তব্যটিই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ফেডের অন্যান্য প্রতিনিধির মতোই বার্কিনের মন্তব্যও স্বল্পমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কারণ মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে ট্রেডারদের ধারণা থাকা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার বিষয়ক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে মিশ্র চিত্র উঠে এসেছে; টানা দ্বিতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতি কমলেও তা এখনও বেশ উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। একদিকে মূল সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি কমছে এবং শ্রমবাজারও নানাবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন—এমন পরিস্থিতিতে সুদের হার বাড়ানো কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। ফেডের পক্ষ থেকে যত বেশি ডোভিশ বা নমনীয় অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত পাওয়া যাবে, মার্কিন ডলারের পরিস্থিতি ততই খারাপ হবে। আমাদের ধারণা, সেপ্টেম্বর মাসে ফেড মুদ্রানীতি কঠোর করবে না।

ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও সন্তোষজনক নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নিয়মিত পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে; বর্তমানে কোনো আলোচনা হচ্ছে না, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে, ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের ওপর অবরোধ বজায় রেখেছে এবং ওয়াশিংটন যদি আবারও চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে তবে বাব-এল-মান্দেব প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান। ট্রেডাররা ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের উপর আস্থা রাখতে পারছে না এবং ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে ওমানের সাথে আলোচনা করতেই বেশি আগ্রহী। তেহরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলীর একটি তালিকা ওয়াশিংটনের কাছে পেশ করেছে, তবে ট্রাম্প সেগুলো মেনে নেবেন সেই সম্ভাবনা কম।

উপসংহার:

চলতি সপ্তাহের শেষদিকের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের বেশ মন্থর ট্রেডিং দেখা যেতে পারে, কারণ এমনকি গতকাল প্রকাশিত মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদনও মার্কেটে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। আজ ইউরো 1.1527-1.1531 এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে ট্রেডিং করা যেতে পারে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account