বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:
GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

বৃহস্পতিবার ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য আপওয়ার্ড চ্যানেলের মধ্যেই অবস্থান করছিল, তবে এই পেয়ারের মূল্যের মুভমেন্ট অত্যন্ত মন্থর ছিল। পাউন্ড স্টার্লিংয়ের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলেও, এটির মূল্য আরও উপরে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে। এর পেছনে যে সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। উদাহরণস্বরূপ, এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে টানা দ্বিতীয়বারের মতো মুদ্রাস্ফীতির হার কমে এসেছে (যদিও তা পূর্বাভাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল)। মুদ্রাস্ফীতি কমে গেলে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা কমে যায়—বিশেষ করে শ্রমবাজারের নাজুক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। তবে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির হার কমে আসায় ট্রেডাররা খুব একটা প্রভাবিত হননি; কারণ জ্বালানি তেলের (বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের) দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি $90-এ পৌঁছানোর আশঙ্কায় তারা আগস্ট মাসে এই সূচকটি আবারও বেড়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, জুলাই মাসে ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের তেলের দর কমে ব্যারেলপ্রতি $70-এ নেমে এসেছিল। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে এবং তেহরান ও ওয়াশিংটন একে অপরের বিরুদ্ধে নতুন নতুন দাবি ও আল্টিমেটাম দেওয়া ছাড়া আর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না; অর্থাৎ সংঘাত অবসানের কোনো আগ্রহই তাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া, বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনগুলোর ফলাফলও পাউন্ডের দর বৃদ্ধিতে সহায়তা করেনি।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

বৃহস্পতিবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। ইউরোপীয় সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.3456–1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করে এবং 25 পিপস বৃদ্ধি পায়। অবশ্য, এই পেয়ারের মূল্য নিকটতম লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি। মার্কেটে এখনও অত্যন্ত স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় রয়েছে।
শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। আমাদের মতে, স্থানীয় কারণগুলো পাউন্ডকে সহায়তা না করলেও এটির মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে গত মাস থেকেই এই পেয়ারের মূল্য কনসলিডেশন চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে আপার বাউন্ডারির দিকে উঠতে শুরু করেছে এবং এই মুভমেন্ট এখনও সম্পন্ন হয়নি। মার্কেটে সেপ্টেম্বরে ফেড কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা বিলীন হতে শুরু করেছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল দুর্বল ছিল। শুধু মাত্র ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে আপওয়ার্ড চ্যানেলের নিচে এই পেয়ারের মূল্য কনসলিডেট করলে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যেতে পারে।
শুক্রবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456–1.3476 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3380–1.3386-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে, আজ যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3587–1.3598-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175–1.3180, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641, এবং 1.3695। শুক্রবার যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রে রিটেইল সেলস ও কনজিউমার সেন্টিমেন্ট বিষয়ক তুলনামূলক স্বল্প গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। তাই, আজ আমরা মার্কেটে এই পেয়ারের মূল্যের শক্তিশালী মুভমেন্টের প্রত্যাশা করছি না।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
