logo

FX.co ★ টানা চতুর্থ দিনের মতো জ্বালানি তেলের দর বেড়েছে

টানা চতুর্থ দিনের মতো জ্বালানি তেলের দর বেড়েছে

টানা চতুর্থ দিনের মতো জ্বালানি তেলের দর বেড়েছে; এদিকে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের মাঝে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অগ্রগতির কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের দর ব্যারেলপ্রতি $92-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং ডব্লিউটিআই গ্রেডের দর $86-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে।

টানা চতুর্থ দিনের মতো জ্বালানি তেলের দর বেড়েছে

মূলত কূটনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে অচলাবস্থাই জ্বালানি তেলের এই মূল্য বৃদ্ধির মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তেহরানের সাথে কোনো আলোচনা হচ্ছে না, কারণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে। তাঁর মতে, কোনো আলোচনা না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে; এর লক্ষ্য হলো ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখার পাশাপাশি তেহরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করা। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট উল্লেখ করেছেন যে, এই সপ্তাহে কয়েক দফায় নতুন কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা করা হতে পারে।

জাহাজ চলাচলের বর্তমান পরিস্থিতি মূলত সার্বিক পরিস্থিতির গুরুত্বকেই তুলে ধরে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উৎপাদনকারীদের সাথে বিশ্ববাজারকে সংযুক্তকারী এই সমুদ্রপথে দৃশ্যমান জাহাজ চলাচল এখনো কম। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে, যার ফলে একজন হতাহত হয়েছেন। বুধবারের ট্র্যাকিং ডেটায় দেখা গেছে, চীনের সাথে সংশ্লিষ্ট দুটি সুপারট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে ফিরে গেছে।

সবচেয়ে নাটকীয় পরিস্থিতিটি কেবল অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে নয়, বরং তেলজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ডিজেল জ্বালানির বাজার এক বিশেষ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং মস্কো রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল থেকে ডিজেল উৎপাদনের মার্জিন ব্যারেলপ্রতি $100 ছাড়িয়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইউরোপেও জ্বালানির তেলের পাশাপাশি গ্যাস-অয়েলের দাম বেড়েছে; ফিউচারসের দর 0.7% বেড়ে টনপ্রতি $1,308-এ পৌঁছেছে। এ কারণেই অপরিশোধিত তেলের তুলনায় তেলজাত পণ্যের—বিশেষ করে ডিজেলের—দাম অনেক বেশি বেড়েছে, যা গাড়িচালক, ট্রাকচালক, কৃষক এবং শিল্প খাতের ওপর চাপ আরও তীব্র করেছে। অন্য কথায়, কমোডিটি মার্কেটে এখন খবরের ওপর ভিত্তি করে ট্রেডিং থেকে সরে এসে প্রকৃত ঘাটতির ওপর ভিত্তি করে ট্রেডিংয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মোড়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে; দেশটি তেহরানের সাথে সকল ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। অনেকেই একে 'আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি' হিসেবে অভিহিত করেছে। পারস্য উপসাগরের অপর প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায়শই—বিশেষ করে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে—হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। তাদের এই পদক্ষেপটি একদিকে যেমন উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রতিফলন, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরানি অর্থনীতি থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টাও বটে।

মজুদ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্তও জ্বালানি তেলের আরও মূল্য বৃদ্ধিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট গতকাল জানিয়েছে যে, ওকলাহোমার কুশিং হাবসহ জাতীয় পর্যায়ে অপরিশোধিত তেলের মজুদে সামান্য হ্রাস ঘটেছে। ডিজেলসহ অন্যান্য ডিস্টিলেট বা পরিশোধিত জ্বালানির মজুদও কমছে। আজ এ সংক্রান্ত সরকারি তথ্য প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।

টানা চতুর্থ দিনের মতো জ্বালানি তেলের দর বেড়েছে

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $86.60-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $89.60-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $92.56 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $84.40-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $81.50 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $78.70 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account