logo

FX.co ★ ২৭ আগস্ট কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

২৭ আগস্ট কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

২৭ আগস্ট কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবারের ট্রেডিংয়ে EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের কোনো উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট দেখা যায়নি। সারাদিন ধরে সামান্য দরপতন হলেও, এই প্রবণতাটি গত কয়েক দিনের পরিস্থিতিরই প্রতিফলন ছিল। মার্কেটে খুবই স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক-অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরেও এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের মুভমেন্টে কার্যত কোনো প্রভাব পড়েনি। উল্লেখ্য যে, প্রকাশিত সব প্রতিবেদনেই এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যার ওপর ভিত্তি করে ট্রেডাররা তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারতেন। দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপির দ্বিতীয় প্রাক্কলনে সেই একই ফলাফল অর্থাৎ 1.5% জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার পরিলক্ষিত হয়েছে। পারসোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার (PCE) মূল্য সূচক সংক্রান্ত যে প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে, তা 0.2%-এ থেকে পূর্বাভাসের সাথে হুবহু সঙ্গতি প্রদর্শন করেছে। ফলে, ট্রেডাররা কেবল 'ডিউরেবল গুডস অর্ডার' সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিক্রিয়া জানাতে পেরেছিলেন; এতে 1.1% প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যেখানে পূর্বাভাস ছিল 0.5%। এই প্রতিবেদনটির কারণেই মার্কিন ডলারের দর কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছিল, তবে সব ট্রেডারই এটি বুঝেছেন যে 20-30 পিপসের এই মুভমেন্ট খুব একটা তাৎপর্যপূর্ণ নয়। ট্রেন্ডলাইন অনুযায়ী এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাট এখনো বজায় রয়েছে। আজও মার্কেটে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

২৭ আগস্ট কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, কিন্তু মার্কেটে অত্যন্ত স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকায় সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া অর্থহীন ছিল। শুরুতে এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য 1.1655-1.1665 এরিয়া থেকে বাউন্স করে এবং পরবর্তীতে এই রেঞ্জের নিচে অবস্থান নেয়। তাত্ত্বিকভাবে আজ এই পেয়ারের দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে, তবে মার্কেটে যে কার্যত কোনো মুভমেন্টই নেই, তা সকল ট্রেডারই দেখতে পাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে EUR/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। গত কয়েক মাসের বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা মনে করি ইউরোপীয় কারেন্সির মূল্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকবে, এমনকি স্থানীয় পর্যায়ে কোনো সহায়তা না থাকলেও। বর্তমানে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য তেমন কোনো কারণ নেই, তাই এখন আমরা এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা করছি।

বৃহস্পতিবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1655-1.1665 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1584-1.1594-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1655-1.1665 এরিয়ার উপর স্থিতিশীল হলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1745-1.1754-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1366-1.1377, 1.1461-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1665, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837। বৃহস্পতিবার জার্মানিতে কনজিউমার কনফিডেন্স সূচক এবং যুক্তরাষ্ট্রে আনএমপ্লয়মেন্ট ক্লেইমস সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। উভয় প্রতিবেদনের গুরুত্বই বেশ স্বল্প; তাই এগুলোর প্রভাবে মার্কেটে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account