শুক্রবার 3 শতাংশেরও বেশি দরপতনের পর আজও স্বর্ণের দরপতন অব্যাহত ছিল; এক পর্যায়ে এটির দর 1.2 শতাংশ পর্যন্ত কমে প্রতি আউন্স প্রায় $4,400-এ নেমে আসে। এ সময় রুপার দর 0.4 শতাংশ কমে $66.12-এ দাঁড়ায় এবং প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মূল্যও হ্রাস পায়।

স্বর্ণের মূল্যের এই ধসের মূল কারণ ছিল জ্যাকসন হোল সিম্পোজিয়ামে কেভিন ওয়ার্শের দেওয়া মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি। ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান নিশ্চিত করেছেন যে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতিকে ২ শতাংশের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে আনবে এবং এই লক্ষ্যমাত্রাকে তিনি একটি সুদৃঢ় ও অটল মানদণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে মার্কেটে প্রত্যাশার চিত্র বদলে গেছে: এখন সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৬৫ শতাংশেরও বেশি বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে, অথচ ওই বক্তব্যের আগে এই সম্ভাবনা ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশের মতো।
ফেডের আরও হকিশ বা কঠোর অবস্থানের দিকে ঝুঁকে পড়ার এই বিষয়টি অনেক বিনিয়োগকারীকেই অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দিয়েছে, তাই স্বর্ণের ওপর স্বল্পমেয়াদী চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে স্বর্ণের মূল্য প্রতি আউন্স $4,200-$4,300-এর মধ্যেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে; তবে দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক।
তেলের মূল্যের আকস্মিক বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানে; যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ওই স্থাপনাগুলোতে হরমুজ প্রণালীতে মাইন (সমুদ্রগর্ভস্থ বিস্ফোরক) মোতায়েনের প্রস্তুতি মেয়া হচ্ছিল। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার নীতি গ্রহণ করেছেন, তারপর থেকে এটিই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক পদক্ষেপ। পুনরায় সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ায় তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
তা সত্ত্বেও, চলতি মাসজুড়ে স্বর্ণের মূল্য বেশ ভালোই বৃদ্ধি পেয়েছে। আগস্ট মাসে এই ধাতুটির মূল্য প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। জানুয়ারি মাসের পর থেকে এটিই মাসিক ভিত্তিতে স্বর্ণের সবচেয়ে মূল্য বৃদ্ধি হতে যাচ্ছে; আর এর মূল কারণ হলো মাসের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের বন্ড পুনঃক্রয় বাড়ানোর অপ্রত্যাশিত ঘোষণা।
এখানে একটি স্ববিরোধী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সরকারি সংস্থা স্বর্ণের উপর বিপরীতমুখী প্রভাব ফেলছে। ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—যার সরাসরি প্রভাব সুদ বা লভ্যাংশ প্রদান না করা সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের ওপর হতে যাচ্ছে—অন্যদিকে ট্রেজারি বিভাগ বন্ড কিনে নিচ্ছে, যা মার্কিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীলতা নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি করছে এবং মার্কিন ডলারের দরপতনের মাধ্যমে স্বর্ণকে সহায়তা করছে।

স্বর্ণের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $4,481-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে করে স্বর্ণের মূল্যের $4,540-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $4,609 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। দরপতনের ক্ষেত্রে স্বর্ণের মূল্য $4,432 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা সফল হয়, এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং স্বর্ণের মূল্য $4,372-এ নেমে যেতে পারে, ও পরবর্তীতে সম্ভবত $4,304 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।
