logo

FX.co ★ ২ সেপ্টেম্বর কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত? নতুন ট্রেডারদের জন্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ

২ সেপ্টেম্বর কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত? নতুন ট্রেডারদের জন্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ

সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ:

২ সেপ্টেম্বর কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত? নতুন ট্রেডারদের জন্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ

বুধবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের পরিবর্তন বিষয়ক এডিপি প্রতিবেদনকে বিবেচনা করা যায়; তবে বর্তমানে এই প্রতিবেদনের প্রতি খুব একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না—বিশেষ করে যখন গত শুক্রবারই বার্ষিক 'নন-ফার্ম পেরোল' প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে এবং আগামী শুক্রবার একই ধরনের আরেকটি মাসিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। ফলে, এক মাস ধরে চলা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর মার্কেটে এখন কিছুটা কারেকশন দেখা যাচ্ছে; তবে সামনের দিনগুলোতে শ্রমবাজার ও বেকারত্ব বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সব প্রতিবেদন প্রকাশের কথা থাকায় বিনিয়োগকারীরা কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে।

ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:

২ সেপ্টেম্বর কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত? নতুন ট্রেডারদের জন্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ

বুধবারের গুরুত্বপূর্ণ ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধি ক্লডিয়া বুচের বক্তব্য বেশ উল্লেখযোগ্য। ইউরোপীয় ইউনিয়নে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইসিবির ওপর কোনো চাপ না থাকার প্রেক্ষাপটে, ইসিবি এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো মুদ্রানীতি কঠোর করার পদক্ষেপ নিতে পারে। তাই, ইসিবির মুদ্রানীতি বিষয়ক কমিটির প্রতিনিধিদের আসন্ন বক্তব্যগুলো থেকে সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা আছে কি না, সে বিষয়ে ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত, ট্রেডাররা বর্তমানে ডলার, ফেডারেল রিজার্ভ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপরই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে এবং হয়তো আবারও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে শুরু করবে। ফলে, ইসিবি মুদ্রানীতি কঠোর করার মতো নতুন কোনো পদক্ষেপ নিলেও তা ইউরোর ওপর প্রত্যাশিত প্রভাব নাও ফেলতে পারে।

ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও তেমন সন্তোষজনক নয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আলোচনা হচ্ছে না; হরমুজ প্রণালী বন্ধ বা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কোণঠাসা করার লক্ষ্যে এক নজিরবিহীন অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ইরানের সাথে যেকোনো ধরনের সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ইরানকে অকার্যকর করার ব্যাপারে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে কেউ সমর্থন করেনি এবং এটি আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, তাও অনিশ্চিত। এদিকে জানা গেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থিত ইরানের ক্ষেপনাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে। ইরানও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

উপসংহার:

চলতি সপ্তাহের তৃতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে, উভয় কারেন্সি পেয়ারের আবারও কিছুটা মন্থর ট্রেডিং দেখা যেতে পারে। আজ ইউরো 1.1584-1.1594 রেঞ্জের মধ্যে এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3456-1.3476 এরিয়ার মধ্যে ট্রেডিং করা যেতে পারে। সামগ্রিকভাবে, আমরা আগামী দিনগুলোতেও দরপতন অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করছি, কারণ উভয় কারেন্সি পেয়ারের টেকনিক্যাল চার্ট অনুযায়ী এখন 'বিয়ারিশ' প্রবণতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account