logo

FX.co ★ কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয় ইতোমধ্যেই হাতছাড়া হয়ে গেছে

কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয় ইতোমধ্যেই হাতছাড়া হয়ে গেছে

কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয় ইতোমধ্যেই হাতছাড়া হয়ে গেছে

আমেরিকানরা উন্নত জীবনযাপন করতে পছন্দ করে এবং তারা এভাবেই জীবনযাপনে অভ্যস্ত। অবশ্য সব আমেরিকানরাই যে অঢেল অর্থ খরচ করে বা যা খুশি তাই কিনতে পারে, তা নয়। তবুও এই বিষয়টি কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে, জীবনযাত্রার মানের দিক থেকে আমেরিকানরা বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে। আমেরিকান জীবন মানেই মূলত অর্থ ও ঋণের ওপর নির্ভরতা। যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যের দাম বেশি, তাই কোনো পণ্যের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির ওপর। এ তো গেল ভূমিকা; এবার মূল আলোচনায় আসা যাক।

যুক্তরাষ্ট্রের 'এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন' জানিয়েছে যে, দেশটিতে ডিজেলের মজুদ সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ডিজেলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং শীঘ্রই তা সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যালনপ্রতি পেট্রোলের গড় দাম ৫.৮০ ডলারে পৌঁছেছে এবং অনেক বিশেষজ্ঞই আরও মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন। পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ থেকে ৪.৫ ডলারে উঠে যাওয়া নিয়ে মাসখানেক আগে যুক্তরাষ্ট্রে যে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, তা নিশ্চয়ই মনে আছে? তাহলে বর্তমানে আমেরিকান ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুটি কারণে জ্বালানির দাম ক্রমাগত বাড়ছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, যার ফলে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ রয়েছে এবং বিশ্ববাজারে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, জ্বালানি রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়ে হোয়াইট হাউসের গৃহীত নীতিমালা। এর ফলে বিশ্ববাজারে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের সরবরাহ কমছে এবং সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মজুদও হ্রাস পাচ্ছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রকে তেল ও জ্বালানির দ্বৈত সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আর এ কারণেই জ্বালানির মূল্য বাড়ছে।

এখন মূল প্রশ্ন হলো—এর জন্য দায়ী কে? এমনকি বাড়ির কাছের কোনো বেঞ্চে বসে থাকা বয়স্ক নারীদের কাছে জানতে চাইলেও হয়তো তাঁরা সঠিক উত্তরটি দিতে পারবেন। বিটকয়েন এখন আর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নেই; সবাই এখন ট্রাম্প ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিয়ে কথা বলছে। সম্ভবত মস্কো ও কিয়েভের মধ্যকার সংঘাতও বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, কারণ ইউক্রেনীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার অনেক তেল শোধনাগারের ক্ষতিসাধন করেছে। মস্কো জ্বালানি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং এমনকি নিজেরাও পেট্রোল আমদানি করতে শুরু করেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিস্থিতির কেবলই অবনতি ঘটছে। তাই জ্বালানির দর যে বাড়ছে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয় ইতোমধ্যেই হাতছাড়া হয়ে গেছে

তবে আমাদের কাছে আমেরিকা ও দেশটির সংকটগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মার্কিন ডলারের এক্সচেঞ্জ রেটে তার প্রতিফলন ঘটে। আমার মতে, তিন মাস আগেও কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জয়ের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ ছিল। আর এখন, যখন প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম প্রায় ৬ ডলারে পৌঁছেছে, তখন সেই সম্ভাবনা শূন্য বলেই ধরে নেওয়া যায়। রিপাবলিকানরা বড়জোর সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে...

EUR/USD-এর ওয়েভ বিশ্লেষণ:

EUR/USD-এর বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, একটি নতুন গ্লোবাল আপট্রেন্ডের প্রথম ওয়েভের অংশ হিসেবে এই কারেন্সি পেয়ারটি বর্তমানে ট্রেন্ডের লোকাল আপওয়ার্ড সেগমেন্টের মধ্যেই অবস্থান করছে। এটি উল্লেখ করা দরকার যে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শুরু হওয়া এই ট্রেন্ড সেগমেন্টটি A-B-C-D-E প্যাটার্ন গ্রহণ করতে পারে। যদি এই অনুমান সঠিক হয়, তবে এই পেয়ারের দরপতন অব্যাহত থাকবে এবং সেক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ওয়েভ C-এর লো—অর্থাৎ 1.1325-এর লেভেলে নিচে নির্ধারণ করা যায়। তবে, আমি এই পরিস্থিতিটিকে একটি বিকল্প সম্ভাবনা হিসেবেই বিবেচনা করছি। আমার মতে, জুন মাসে একটি নতুন আপওয়ার্ড ট্রেন্ড সেগমেন্টের সূচনা হয়েছে এবং এর ফলে ইউরোর মূল্য পুনরায় 1.20-এর লেভেলের দিকে ফিরে আসবে।

GBP/USD-এর ওয়েভ বিশ্লেষণ:

GBP/USD-এর ওয়েভ প্যাটার্ন বেশ স্পষ্ট হলেও তা কিছুটা জটিল রূপ ধারণ করতে পারে। চার্টে আমরা একটি স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ কারেকটিভ A-B-C স্ট্রাকচার দেখতে পাচ্ছি। তাই, আমি আপওয়ার্ড ওয়েভ সেট গঠনের প্রত্যাশা করছি। তবে, EUR/USD-এর বর্তমান ওয়েভ লেবেলিং নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। ইউরোর ক্ষেত্রে লেবেলিংটি ডাউনওয়ার্ড ফাইভ-ওয়েভের রূপ নিতে পারে এবং সেক্ষেত্রে GBP/USD পেয়ারের মূল্যও 1.31-এর কাছাকাছি এরিয়ায় নেমে আসতে পারে। এমনটা ঘটলে পাউন্ডের ওয়েভ লেবেলিং এবং স্ট্রাকচারের মধ্যেও কিছুটা ভিন্নতা আসবে। আপাতত, এটি একটি বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আমার বিশ্লেষণের মূল নীতিমালা:

  1. ওয়েভ বা স্ট্রাকচার সহজ ও বোধগম্য হওয়া উচিত। জটিল ওয়েভ নিয়ে ট্রেড করা কঠিন এবং এগুলোর ধরন প্রায়শই পরিবর্তিত হয়।
  2. মার্কেটে কী ঘটছে সে ব্যাপারে যদি আপনার ধারণা না থাকে, তাহলে মার্কেটে এন্ট্রি না করাই উচিত।
  3. ইন্সট্রুমেন্টের মূল্যের মুভমেন্টের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই লোকসান সুরক্ষিত থাকতে 'স্টপ-লস' অর্ডার সেট করতে ভুলে যাবেন না।
  4. ওয়েভ বিশ্লেষণকে অন্যান্য ধরনের বিশ্লেষণ এবং ট্রেডিং কৌশলের সাথে সমন্বয় করা যেতে পারে।
* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account