গতকাল, মার্কিন ইক্যুইটি সূচকগুলোতে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সাথে লেনদেন শেষ হয়েছে। S&P 500 সূচক 1.06% বৃদ্ধি পেয়েছে, যখন নাসডাক 100 সূচক 1.40% বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক 1.18% বৃদ্ধি পেয়েছে।

আজ সকালে, আগস্ট মাসের কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে মার্কিন স্টক সূচক ও ট্রেজারি বন্ড মার্কেটে এক ধরণের স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে; কারণ প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনটির ফলাফল ফেডারেল রিজার্ভের সেপ্টেম্বর মাসের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। গত সেশনে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দৈনিক উত্থানের পর আজ S&P 500 সূচকের ফিউচারে খুব একটা পরিবর্তন দেখা যায়নি। ১০-বছর মেয়াদী ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ এক বেসিস পয়েন্ট কমে 4.76%-এ নেমে এসেছে, তবে বন্ড ইয়েল্ড কার্ভের অন্যান্য অংশের চিত্র ছিল মোটামুটি অপরিবর্তিত। ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি $95.50-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং মার্কিন ডলারের দরও স্থিতিশীল রয়েছে। বিভিন্ন ক্লাসের অ্যাসেটের ক্ষেত্রে মার্কেটে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রবণতা না থাকাটা বেশ লক্ষণীয়—এটি এমন এক বিরল মুহূর্ত যখন কেউই সবার আগে কোনো পজিশন ওপেন করতে চাইছে না।
জুলাই মাসে কর্মসংস্থানের হার অপ্রত্যাশিতভাবে কমে যাওয়ার পর, অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন যে এবার 'নন-ফার্ম পেরোল' প্রতিবেদনে কর্মসংস্থানের হার 55,000 বৃদ্ধি পাবে। এই ফলাফলটি চলতি বছরে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গড় হারের সাথে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, যা ইঙ্গিত দেয় যে শ্রমবাজার ধসে পড়ছে না, আবার অতিরিক্ত অস্থিতিশীলও হয়ে ওঠেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধির সম্ভাবনা মোটামুটি সমান সমান বলে মনে করা হচ্ছে; তাই এক্ষেত্রে পূর্বাভাসের তুলনায় ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত দেখা গেলে তার মাশুল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হতে পারে।
ফেডের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিতর্ক এই প্রতিবেদনটিকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। গত সপ্তাহে, ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ মূল্যস্ফীতির স্থিতিশীলতার ওপর ফেডের দৃঢ় মনোযোগের কথা তুলে ধরেছিলেন, কিন্তু কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল ফেড কমিটিকে বর্তমান নীতিমালা যথেষ্ট কঠোর কিনা তা যাচাই করার জন্য আরও সময় দিতে পারে। বাস্তবে, শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ফেডকে কঠোর আর্থিক নীতিমালা বজায় রেখে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সুযোগ করে দেবে। এই ফলাফল স্টক ও বন্ড মার্কেট উভয়ের জন্যই সহায়ক হবে, কিন্তু ফেডের সংকল্পের ওপর আস্থা কমিয়ে দেবে, কারণ মুদ্রাস্ফীতির হার যত বেশিদিন ধরে লক্ষ্যমাত্রার উপরে থাকবে, ফেডের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা ততটাই ক্ষুণ্ণ হবে।
ট্রেডাররা এমন একটি পেরোল প্রতিবেদন চাইছে যেটির ফলাফল কিছুটা দুর্বল হবে—অর্থাৎ সুদের হার বৃদ্ধিতে বিরতির বিষয়টি বিবেচনা করার মতো যথেষ্ট দুর্বল, কিন্তু মন্দার আশঙ্কা তীব্র হওয়ায় মতো অতটা দুর্বল নয়। এমনটা ঘটার সম্ভাবনা কতটা বাস্তবসম্মত? সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের সামগ্রিক চিত্র বিবেচনা করলে আমার মনে হয়, এই সম্ভাবনা ট্রেডারদের ধারণার চেয়েও কম। আগস্ট মাসে বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র 38,000—যা জানুয়ারি মাসের পর সর্বনিম্ন—এবং ISM সার্ভিস সেক্টরের কর্মসংস্থান সূচকটি 47.8-এ অবস্থান করে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো সংকোচনমূলক পর্যায়ে রয়েছে। এই দুটি সূচকই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নিয়োগের হার 55,000-এর যে সর্বসম্মত পূর্বাভাস রয়েছে, প্রকৃত ফলাফল তার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম হবে। একই সময়ে, ISM সার্ভিস সেক্টরের মূল্যস্ফীতি সূচক বেড়ে 72.6-এ পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের আগস্টের পর সর্বোচ্চ। নিয়োগের ধীরগতি এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির এই যুগপৎ পরিস্থিতি ফেডের নীতিনির্ধারক কমিটির জন্য কোনো স্বস্তিদায়ক বা সহজ পথ খোলা রাখছে না।
আজ ইউরোপীয় স্টক মার্কেটের পরিস্থিতি বেশ ভিন্ন। স্টক্স 600 সূচকটি সামান্য ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং বড় ধরনের পুনর্গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পর ভক্সওয়াগেনের স্টকের দর 9.7% পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে, আঞ্চলিক বন্ড মার্কেটে দরপতন পরিলক্ষিত হয়েছে পিছিয়ে পড়েছে; বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের সরকারি বন্ডের (গিল্টস) পারফরম্যান্স সবচেয়ে দুর্বল ছিল। বাজেট-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সরকারি ঋণের ক্ষেত্রে যে ব্যাপক বন্ড বিক্রয়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, এটি তারই প্রতিফলন।
জাপানি ইয়েনের মুভমেন্টের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন: বৃহস্পতিবার 2%-এরও বেশি দর বৃদ্ধির পর কারেন্সিটি অর্জিত অধিকাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে এবং এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা মে মাস কিংবা মার্কেটে পূর্ববর্তী হস্তক্ষেপের পর আর দেখা যায়নি। অতীতের ঘটনাগুলোর তুলনায় এবারের পরিস্থিতি কাঠামোগতভাবে ভিন্ন। আগে ইয়েনের দর বৃদ্ধির পেছনে ছিল বিচ্ছিন্ন বা এককালীন হস্তক্ষেপের ভূমিকা; কিন্তু বর্তমান প্রবণতাটি মূলত 'ক্যারি ট্রেড' গুটিয়ে ফেলার প্রতিফলন—যা ব্যাংক অফ জাপানের আসন্ন বৈঠকের আগে ঘটছে। নীতিগত পদক্ষেপ হিসেবে এককালীন ক্রয়ের তুলনায় এই ধরনের পজিশনভিত্তিক সমন্বয় অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
আজকের নন-ফার্ম পেরোল প্রতিবেদনটি অন্তত তিনটি মার্কেটের—স্টক, বন্ড এবং ফরেক্স—জন্য একটি সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ADP এবং ISM থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ক্রমাগত দুর্বলতা পরিলক্ষিত হওয়ায়, আমার ধারণা অনুযায়ী প্রকৃত কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সংখ্যাটি সর্বসম্মত পূর্বাভাসের (55,000) চেয়ে কম—অর্থাৎ 20–40k-এর কাছাকাছি—থাকতে পারে। এমনটা ঘটলে বন্ডের ইয়েল্ড লভ্যাংশের কমে যাবে এবং তা ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটে বিনিয়োগের জন্য সহায়ক হবে; তবে এতে করে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পাবে না, কারণ ট্রেডাররা তখন ধরে নেবে যে ফেডারেল রিজার্ভ সেপ্টেম্বরে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। এই পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে প্রধান ঝুঁকিটি হলো জরিপ-ভিত্তিক সূচক এবং সরকারি তথ্যের মধ্যে সেই পরিচিত অসামঞ্জস্য বা পার্থক্য, যা জুলাই মাসে পূর্বাভাসদাতাদের অবাক করেছিল।

টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির মূল্যের 7,756-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এটি আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করবে এবং 7,774-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। সূচকটির দর 7,793-এর উপর ধরে রাখাও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যদি ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে গিয়ে দরপতন হয়, তাহলে সূচকটির দর 7,737-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। এই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য দ্রুত 7,718-এ নেমে যেতে পারে এবং 7,698 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।
