শুক্রবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:
EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

শুক্রবার স্থানীয় পর্যায়ে EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের দরপতন অব্যাহত ছিল, যার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছিল না। প্রথমত, অন্তত দেড় মাস ধরে মার্কেটে অত্যন্ত মন্থর মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা নির্দেশ করে যে ট্রেডারদের মধ্যে ট্রেডিংয়ের প্রতি কোনো আগ্রহই নেই। দ্বিতীয়ত, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকটির ফলাফলকে 'হকিশ' (কঠোর মুদ্রানীতির ইঙ্গিতবাহী) হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে; তাই এর ফলে ইউরোর দর অন্তত কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা ছিল। তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবেদনে জুলাই মাসের তুলনায় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি, যার অর্থ হলো—সেপ্টেম্বর মাসে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার বাড়ানোর জন্য আর কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। সব ট্রেডারই জানেন যে সেপ্টেম্বর মাসে মুদ্রাস্ফীতি আবারও বাড়বে, তবে আমরা নিশ্চিত নয় যে এর ফলে বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠেয় বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ মুদ্রানীতি কঠোর করবে কি না। তা সত্ত্বেও, সামগ্রিকভাবে ট্রেডাররা ফেড কর্তৃক মুদ্রানীতি কঠোর হওয়ার বিষয়ে আস্থাশীল, আর তাই গত সপ্তাহের শেষে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সপ্তাহেও মার্কিন ডলারের মূল্যের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ ট্রেডাররা ধারণা করছে যে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াবে। বুধবার সন্ধ্যায় আমরা জানতে পারব যে ট্রেডারদের এই ধারণা কতটা যৌক্তিক।
EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

শুক্রবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। মার্কিন সেশনের শুরুতে এই পেয়ারের মূল্য 1.1584–1.1594 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, যার ফলে নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ পান। তবে দিনের শেষ নাগাদ এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় এবং পুনরায় 1.1584–1.1594 এরিয়ায় ফিরে আসে।
সোমবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে পুনরায় EUR/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু রয়েছে। গত কয়েক মাসের বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা মনে করি স্থানীয় পর্যায়ে কোনো সহায়তা ছাড়াই ইউরোপীয় কারেন্সির মূল্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। বর্তমানে ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির ব্যাপারে ট্রেডারদের প্রায় অন্ধ বিশ্বাসের বাইরে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য তেমন কোনো কারণ নেই।
সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1584–1.1594 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1527–1.1531-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1584–1.1594 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1655–1.1665-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665, 1.1745–1.1754, 1.1830–1.1837। সোমবার ইউরোজোনে ক্রিস্টিন লাগার্ড আরেকটি বক্তব্য দেবেন, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তেমন কোনো অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না। ফলে, আজও মার্কেটে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকবে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
