logo

FX.co ★ ১৮ সেপ্টেম্বর কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

১৮ সেপ্টেম্বর কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

 ১৮ সেপ্টেম্বর কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবার সন্ধ্যায় EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের অত্যন্ত তীব্র দরপতন ঘটেছে, তবে বৃহস্পতিবার এই পেয়ারের মূল্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল কোনোভাবে ইউরোকে সহায়তা করেছে—এমনটা বলাটা বাড়াবাড়ি হবে; অন্তত স্বল্পমেয়াদে আমরা বিষয়টিকে সেভাবে দেখছি না। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক দ্বিতীয় দফায় আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার বিষয়টিকে ট্রেডাররা যখন কার্যত উপেক্ষা করেছে, তখন ইউরোজোনের শিল্পোৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদনের প্রভাবে ইউরোর দর বৃদ্ধির আশা করাটা অবাস্তব। ফলে, ইউরোজোনের আগস্ট মাসের মুদ্রাস্ফীতির দ্বিতীয় প্রাক্কলন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাণ খাত সংক্রান্ত প্রতিবেদনও কার্যত উপেক্ষিত থেকেছে। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের বৈঠকও ইউরো বা ডলারের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি—যা যৌক্তিক, কারণ ইউরোর ওপর ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের প্রত্যক্ষ প্রভাব খুবই সামান্য। অনেক সময় এমন পরিস্থিতিতে ইউরো ও পাউন্ডের মূল্যের মুভমেন্ট একমুখী হয়, কিন্তু এবার তেমনটা ঘটেনি। এই পেয়ারের দরপতনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে; তবে আজ হয়তো কারেকশনের প্রভাবে এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা প্রদর্শন করতে পারে।

EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

 ১৮ সেপ্টেম্বর কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বৃহস্পতিবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। এশীয় ও ইউরোপীয় সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.1461–1.1474 এরিয়া থেকে উপরে ওঠার চেষ্টা করে এবং শেষ পর্যন্ত সফলও হয়। তবে, মার্কেটে অত্যন্ত স্বল্প মাত্রা অস্থিরতা বজায় থাকায় ইউরোর মূল্য কাঙ্ক্ষিত অভিমুখে মাত্র 15 পিপসের মতো অগ্রসর হতে পেরেছিল।

শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে এবং এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায়, হঠাৎ করেই ইউরোর ব্যাপক দরপতন ঘটবে —এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই; তবে ট্রেডাররা এখন মূলত ফেডারেল রিজার্ভের গৃহীত নীতিমালা ওপর মনোযোগ দিচ্ছে, যা এই সপ্তাহে মার্কিন ডলারের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে অনুকূল হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1461–1.1474 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1366–1.1377-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1461–1.1474 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1527–1.1531-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665, 1.1745–1.1754। শুক্রবার ইসিবির প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দ বক্তব্য রাখবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প-উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। আমরা এই দুটি প্রতিবেদনকেই স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন হিসেবে বিবেচনা করছি এবং আশা করছি যে, আজও মার্কেটে মন্থর মুভমেন্টই বজায় থাকবে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account