logo

FX.co ★ EUR/USD পেয়ারের বিশ্লেষণ। ইরান পরিস্থিতি এবং শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর

EUR/USD পেয়ারের বিশ্লেষণ। ইরান পরিস্থিতি এবং শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর

ইউরো-ডলার কারেন্সি পেয়ারের মূল্য তুলনামূলকভাবে একটি সংকীর্ণ রেঞ্জের মধ্যে ওঠানামা করছে এবং টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সাইডওয়েজ রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট বজায় রয়েছে। এই পেয়ারের মূল্য যখন 1.1440-এর সাপোর্ট লেভেলের (H4 চার্টে লোয়ার বলিংগার ব্যান্ড) কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে, তখন বিক্রেতারা মুনাফা তুলে নিচ্ছেন; অন্যদিকে, ক্রেতারা এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1500-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে (একই টাইমফ্রেমে আপার বলিঙ্গার ব্যান্ড) দিকে নিয়ে যেতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন।

EUR/USD পেয়ারের বিশ্লেষণ। ইরান পরিস্থিতি এবং শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর

চলতি সপ্তাহে কারেন্সি মার্কেটের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে কার্যত এমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়গুলো ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে; বাকি যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তা বর্তমান পরিস্থিতি খুব একটা বদলে দেবে বলে মনে হয় না। তাই EUR/USD-এর ট্রেডাররা মূলত বাহ্যিক মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর মনোযোগ দেবেন। এক্ষেত্রে প্রধান ঘটনাগুলো হলো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন আজ, ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে এবং সাধারণ বিতর্ক আগামী সোমবার পর্যন্ত চলবে। তবে ট্রেডাররা জাতিসংঘের আলোচ্যসূচির চেয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টির প্রতিই বেশি আগ্রহী। বিশেষ করে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট গত পরশু জানিয়েছেন যে তিনি উক্ত সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দেখা করতে প্রস্তুত—যদিও এ ধরনের বৈঠকের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি। চলমান সংঘাত এবং জ্বালানি তেল সরবরাহে অব্যাহত বিভ্রাটের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের যোগাযোগের সম্ভাবনা ট্রেডারদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মূলত, সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে মার্কেট এমন এক বিরল কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, যা ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বিষয়ক মূল্যায়নকে দ্রুত বদলে দিতে পারে।

ট্রেডাররা একটি সরাসরি কার্যকারণ সম্পর্কের মাধ্যমে আসন্ন আলোচনার সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ করছেন: কূটনৈতিক সমাধানে অগ্রগতি → জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস → ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে প্রত্যাশার পুনর্বিবেচনা → মার্কিন ডলারের দরপতন। বিষয়টি ফেডারেল রিজার্ভের সেপ্টেম্বর মাসের বৈঠকের প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ; সেই বৈঠকে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়েছিল এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকির ওপর জোর দিয়ে আর্থিক নীতিমালার ক্ষেত্রে হকিশ বা কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছিল। জ্বালানি তেলের মূল্য ধারাবাহিকভাবে কমলে তা মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার যৌক্তিকতাকে দুর্বল করে দেবে এবং ফলস্বরূপ মার্কিন ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এমন পরিস্থিতিতে, EUR/USD পেয়ারের মূল্য দ্রুত 1.15-এর লেভেলে ফিরে আসতে পারে এবং আরও মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে, "ইরান পরিস্থিতি" বিপরীত দিকেও মোড় নিতে পারে। আলোচনা ভেস্তে গেলে, উত্তপ্ত বার্তা বিনিময় বা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে জ্বালানি তেলের দর আবারও বেড়ে যেতে পারে, ফলে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যমের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে। সেক্ষেত্রে মার্কিন ডলার দ্বিগুণ সহায়তা পাবে—একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ ইয়েল্ড বা মুনাফার হার থেকে, এবং অন্যদিকে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা বাড়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে মার্কিন ডলারের প্রতি প্রথাগত চাহিদা থেকে। এই সপ্তাহের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক ঘটনা হলো ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শি জিনপিংয়ের রাষ্ট্রীয় সফর। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে বৃহস্পতিবার, যখন চীনা প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। আলোচ্যসূচির মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য শুল্ক, বিরল-মৃত্তিকা ধাতু রপ্তানি, মার্কিন কৃষি পণ্য ক্রয়, প্রযুক্তি এবং—কমোডিটি মার্কেট, কারেন্সি মার্কেট ও পরোক্ষভাবে ইরান-সংক্রান্ত বিষয়াবলীর ক্ষেত্রে এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উভয় পক্ষের প্রাথমিক বিবৃতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন অন্ততপক্ষে পারস্পরিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে এবং ১০ নভেম্বর শেষ হতে যাওয়া বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে আগ্রহী। এই বিষয়ের জটিল ইতিহাসের কথা বিবেচনা করলে, বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সীমিত কোনো সমঝোতাও বিশ্ববাজারে ইতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে এবং ইউরোসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পারে।

তবে এর বিপরীত পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে। বাণিজ্য শুল্ক, বিরল-মৃত্তিকা ধাতু এবং প্রযুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যদি কোনো সাধারণ ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে ট্রেডাররা আবারও নতুন করে বাণিজ্য উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকির দিকে মনোযোগ দেবে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন ডলার আবারও দুটি দিক থেকে লাভবান হতে পারে—নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির প্রত্যাশা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কারণে এটির চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে।

তাই, আগামী দিনগুলোতে EUR/USD-এর মূল্যের মুভমেন্ট সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের চেয়ে বরং দুটি ভূ-রাজনৈতিক ঘটনা—ইরান প্রসঙ্গ এবং ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যকার বৈঠকের—প্রভাব দ্বারা বেশি নির্ধারিত হবে। কূটনৈতিক সমাধানে অগ্রগতির কোনো সম্ভাবনা দেখা গেলে তা মার্কিন ডলারের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে এবং এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্যকে পুনরায় 1.1500-এর লক্ষ্যমাত্রার উপরে নিয়ে যেতে পারে; অন্যদিকে, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেলে এই পেয়ারের সেলারদের সুবিধাজনক অবস্থান বজায় থাকবে।

টেকনিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে, H4 টাইমফ্রেমে এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য বলিঙ্গার ব্যান্ডসের লোয়ার ও আপার ব্যান্ডের মধ্যবর্তী একটি চ্যানেলে—অর্থাৎ 1.1450–1.1550-এর লেভেলের মধ্যে—অবস্থান করছে। এই পেয়ারের মূল্য নিশ্চিতভাবে এই চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারির নিচে নেমে গেলে তা 1.14 লেভেল এবং দীর্ঘমেয়াদে 1.1350 লেভেলের (W1 টাইমফ্রেমে বলিঙ্গার ব্যান্ডের লোয়ার বাউন্ডারি) দিকে দরপতনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। অন্যদিকে, এই পেয়ারের মূল্য 1.1500 লেভেলের উপরে কনসোলিডেশন করলে 1.1570 লেভেলের দিকে (বলিঙ্গার ব্যান্ডের মিডিয়ান লাইন, যা D1 টাইমফ্রেমের কুমো ক্লাউডের আপার রেঞ্জের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ) যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

চলতি সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টগুলোর অপেক্ষায় থাকাকালীন সময়, এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য সম্ভবত নির্ধারিত রেঞ্জের মধ্যেই ওঠানামা অব্যাহত রাখবে। মার্কেটে ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা শুরু হয় না কি ঝুঁকি গ্রহণ না করার প্রবণতা বিরাজ করে তার উপর এই পেয়ারের মূল্যের পরবর্তী মুভমেন্ট নির্ভর করবে।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account