বিটকয়েন এবং ইথেরিয়ামের মূল্য আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বুলিশ প্রবণতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ডিজিটাল অ্যাসেট মার্কেটে এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণগুলো এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কৌতূহলজাগানিয়া বিষয় হলো, ক্রিপ্টো জগতের সাম্প্রতিক দুটি বড় ঘটনাই নেতিবাচক ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো (বিশেষ করে ফেডারেল রিজার্ভ) মুদ্রানীতি কঠোর করতে শুরু করেছে, যার ফলে ব্যাংক আমানত ও সরকারি বন্ডের মতো নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজিটাল অ্যাসেটে বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আনা 'ক্ল্যারিটি অ্যাক্ট' বিলটি আবারও কংগ্রেসে পাস হতে ব্যর্থ হয়েছে। যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করলে, এমন পরিস্থিতিতে ক্রিপ্টো মার্কেটে ধস নামার কথা ছিল, অথচ এর পরিবর্তে এক নতুন ও ব্যাপক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম যে, এ ধরনের পাম্প বা মূল্যবৃদ্ধির জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা যৌক্তিকতার প্রয়োজন হয় না।
ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞরা হিসাব করে দেখেছেন যে, মোট ২১ মিলিয়ন বিটকয়েনের মধ্যে মাইনিংয়ের জন্য এখন ১০ লাখেরও কম বিটকয়েন অবশিষ্ট রয়েছে। তাদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, মাইনিংয়ের হার অপরিবর্তিত থাকলে শেষ ১০ লাখ বিটকয়েন মাইনিং করতে ১০০ বছরেরও বেশি সময় লাগবে। উল্লেখ্য যে, প্রতি চার বছর অন্তর মাইনারদের প্রাপ্ত রিওয়ার্ড কমিয়ে অর্ধেক করা হয়—এই প্রক্রিয়াটিকেই "হাভিং" বলা হয়। পরবর্তী হাভিং ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সময়ের সাথে সাথে মাইনিং রিওয়ার্ড এতটাই কমে যাবে যে অনেক মাইনারই এই মার্কেট থেকে সরে দাঁড়াবেন। প্রতিটি বিটকয়েনকে ১০ কোটি 'সাতোশি'-তে ভাগ করা সম্ভব; তাই আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর পর বিটকয়েনের সামান্য ভগ্নাংশ (যেমন—দশমিকের পরের কয়েকটি ঘর) মাইনিং করতে হলে এটির মূল্য বর্তমানের তুলনায় বহুগুণ বেশি হতে হবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, মাইনিং কার্যক্রমকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক বা টেকসই রাখতে হলে বিটকয়েনের মূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া প্রয়োজন।
যেহেতু অধিকাংশ বিটকয়েন ইতোমধ্যেই সার্কুলেট করা হয়েছে এবং বিটকয়েনের মূল্য প্রতি চার বছরে অন্তত দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা কম, তাই আমরা মনে করি মাইনিং কার্যক্রমের পরিমাণ ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে। বর্তমানেই এআই খাত কম্পিউটেশনাল সক্ষমতা ও বিদ্যুৎশক্তি ব্যবহারের বিনিময়ে অধিকতর স্পষ্ট ও স্থিতিশীল আয়ের সুযোগ দিচ্ছে। মাইনাররা অন্ততপক্ষে তাদের সক্ষমতাকে এআইভিত্তিক কাজ এবং বিটকয়েন মাইনিং—এই দুইয়ের মধ্যে ভাগ করে নিতে শুরু করেছেন। আমরা আশা করছি, সময়ের সাথে সাথে এই প্রক্রিয়াটি আরও জোরদার হবে। বিটকয়েনের জন্য এটি কি ভালো না কি খারাপ? একদিকে, প্রতি বছর নতুন কয়েনের সরবরাহ কমছে। অন্যদিকে, বিটকয়েনের মূল্য বৃদ্ধির জন্য এর চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া প্রয়োজন। আমাদের ধারণা, এই প্রক্রিয়াটি অনন্তকাল ধরে অব্যাহত থাকতে পারবে না।
BTC/USD-এর ট্রেডিংয়ের পরামর্শ
বিটকয়েনের মূল্যের একটি নতুন বুলিশ বা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হওয়ার সকল সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। বরাবরের মতোই এই প্রবণতাটি এমন একটি পাম্প দিয়ে শুরু হচ্ছে যার কোনো সুনির্দিষ্ট বা স্পষ্ট কারণ নেই। ফেড সুদের হার কমানো শুরু করেনি এবং ক্ল্যারিটি অ্যাক্টও পাস হয়নি। স্বল্পমেয়াদে, দৈনিক টাইমফ্রেমে, বিয়ারিশ FVG-এর কাছাকাছি বিটকয়েনের মূল্যের প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হওয়ায় এটির দরপতন হতে পারে। আমরা ট্রেডারদের এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, দৈনিক কনসলিডেশন চ্যানেলের বাইরে বর্তমান ব্রেকআউটটি একটি ডেভিয়েশন হতে পারে — হ্যাঁ, একটি গভীর ডেভিয়েশন, কিন্তু তবুও এটি ডেভিয়েশন। যদি তাই ঘটে, তাহলে বিটকয়েনের মূল্য আবারও $57,500-এর দিকে পতনের শিকার হতে পারে। 4-ঘণ্টার টাইমফ্রেমে, লং পজিশন ও শর্ট পজিশন উভয়ই বিবেচনা করা যেতে পারে, তবে বর্তমানে বিয়ারিশ প্যাটার্নের প্রাসঙ্গিকতাই বেশি।
ETH/USD-এর ট্রেডিংয়ের পরামর্শ
দৈনিক টাইমফ্রেমে, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ইথারিয়ামের টেকনিক্যাল চিত্র নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। এখন ইথারের মূল্যের একটি নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হতে পারে। তবে, ট্রেডারদের প্রাথমিকভাবে সাপ্তাহিক চার্টের উপর ভিত্তি করে পজিশন ওপেন করা উচিত, যেখানে ইথারের মূল্য $4,800-এর দিকে যেতে পারে, যা পাঁচ বছরব্যাপী বিদ্যমান একটি সাইডওয়েজ চ্যানেলের আপার বাউন্ডারি। দৈনিক চার্টে, প্রথম বিয়ারিশ FVG-তে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়নি; তবে পরবর্তী FVG-এর ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। বিটকয়েনও দৈনিক চার্টে নিকটতম বিয়ারিশ FVG ফিল-আপ করেছে, তাই অদূর ভবিষ্যতে উভয় ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্যের হয়তো কারেকশন শুরু হতে পারে। উভয় ডিজিটাল অ্যাসেটের ক্ষেত্রেই সাম্প্রতিক এই মূল্যবৃদ্ধি মূলত এক ধরণের 'পাম্প' বা কৃত্রিম উত্থানের ফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে এই ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোর আরও মূল্যবৃদ্ধির চেয়ে দরপতনের মৌলিক কারণগুলোই বেশি শক্তিশালী।
চার্টের ব্যাখা
CHOCH—ট্রেন্ড স্ট্রাকচারের ব্রেক।
লিকুইডিটি—স্টপ লস এবং পেন্ডিং অর্ডার, যা মার্কেট মেকাররা তাদের পজিশন বিল্ড করার কাজে ব্যবহার করেন।
FVG—প্রাইস ইনএফিসিয়েন্সি এরিয়া, যার মধ্য দিয়ে মূল্য দ্রুত মুভমেন্ট প্রদর্শন যখন মার্কেটে বায়ার বা সেলার কোনো এক পক্ষ সক্রিয় না থাকে; মূল প্রবণতা বজায় রাখার স্বার্থে মূল্য প্রায়শই এই এরিয়ায় ফিরে আসে এবং সেখানে প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে।
IFVG—ইনভার্টেড ফেয়ার-ভ্যালু গ্যাপ। এই এরিয়ায় ফিরে আসার সময় মূল্য কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না, বরং জোরালো গতিতে তা ব্রেক করে বেরিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে বিপরীত দিক থেকে পুনরায় সেই লেভেলটি রিটেস্ট করে।
OB—অর্ডার ব্লক: এমন একটি ক্যান্ডেল যেখানে একজন মার্কেট মেকার লিকুইডিটি সংগ্রহ করতে এবং বিপরীত দিকে একটি পজিশন বিল্ড করতে মার্কেটে এন্ট্রি করেছিলেন।


