বুধবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:
EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

বুধবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য কারেকশনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার জোর চেষ্টা চালিয়েছিল, কিন্তু সেই প্রচেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়। ফেডারেল রিজার্ভের জন উইলিয়ামস যখন বললেন যে মূল সুদের হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই, কিংবা ২০২৬ সালে ফেড কর্তৃক মুদ্রানীতি করার প্রত্যাশা যখন অনেক কমে গেল, এমনকি আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের PCE সূচকে কোনো প্রবৃদ্ধি দেখা গেল না—তবুও ট্রেডাররা ইউরো ক্রয় এবং মার্কিন ডলার বিক্রির দিকে আগ্রহী হয়নি। এমনকি জার্মানির মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৩.৩%-এ পৌঁছালেও—যা ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক তৃতীয় দফায় মুদ্রানীতি করার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে—তাও মার্কেটের পরিস্থিতি বদলাতে পারল না। এর পরিবর্তে, ট্রেডাররা আবারও দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপির ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পেল, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার ছিল বার্ষিক ভিত্তিতে ২.২% (পূর্বাভাস ছিল ১.৫–১.৬%)। আবারও দেখা গেল, একটি প্রতিবেদন ডলারের পক্ষে রয়েছে আর চারটি প্রতিবেদনই এর বিপক্ষে রয়েছে; কিন্তু ট্রেডাররা সেই প্রতিবেদনটিকেই বেছে নিল যা থেকে ডলার ক্রয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। আর মাসিক ভিত্তিতে মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির ধরন সম্পর্কে আপনার এটুকুই জানা প্রয়োজন। এই পেয়ারের মূল্য ডিসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইনটি ব্রেক করেছে ঠিকই, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে নিম্নমুখী প্রবণতা শেষ হয়ে গেছে। ট্রেডাররা এখন অন্য যেকোনো বিষয় পুরোপুরিভাবে উপেক্ষা করছে।
EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

মঙ্গলবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল এবং আজ আরও একটি সিগন্যাল গঠিত হতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1366–1.1377-এর রেজিস্ট্যান্স এরিয়া থেকে বাউন্স করায় নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ পেয়েছেন। আজ এই কারেন্সি পেয়ারটির দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায়, হঠাৎ করেই ইউরোর ব্যাপক দরপতন ঘটবে—এমনটা আমরা মনে করছি না; তবে ট্রেডাররা এখনও মার্কিন ডলার ক্রয় করে যাচ্ছে এবং যেকোনো ইভেন্ট ও প্রতিবেদন উপেক্ষা করে চলেছে।
বুধবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1366–1.1377 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1267–1.1275-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1366–1.1377 এরিয়ার উপর কনসলিডেট করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1461–1.1474-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665, 1.1745–1.1754।বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে বেকারত্ব সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং ক্রিস্টিন লাগার্ড আরও একবার বক্তব্য দেবেন। আজ যুক্তরাষ্ট্রে আইএসএম ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাক্টিভিটি ইনডেক্স এবং জবলেস ক্লেইমস সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। আমাদের মতে, আইএসএম সূচকটির ওপর বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
