logo

FX.co ★ ২ অক্টোবর কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

২ অক্টোবর কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

২ অক্টোবর কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বৃহস্পতিবারও EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল—যা টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো বজায় রয়েছে। মূলত, আমরা আগেও বহুবার বলেছি যে মার্কিন ডলারের মূল্যের এই উত্থান এখন আর ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি বা এ ব্যাপারে ট্রেডারদের প্রত্যাশার সাথে সম্পর্কিত নয়, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে কঠোর বা হকিশ অবস্থান গ্রহণের সম্ভাবনা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। একইভাবে, ইউরোর দরপতনের জন্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন বা ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও দায়ী নয়। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক কোনো প্রতিবেদন বা ঘটনা হয়তো একদিনের জন্য মার্কেটের মুভমেন্টে প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু টানা চার সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন এমনটা ঘটতে পারে না। তাই পরিস্থিতি ঠিক তেমনই, যেমনটা আমরা বলেছিলাম: মার্কিন ডলারের দর বাড়ছে কারণ এটি কেনা হচ্ছে, আর এটি কেনা হচ্ছে কারণ এটির দর বাড়ছে—এটি মূলত একটি মোমেন্টামভিত্তিক টেকনিক্যাল মুভমেন্ট। মার্কিন ডলার বিশ্বের প্রধান মুদ্রা হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে; তাই যেকোনো মার্কেট (যেমন বন্ড মার্কেট) থেকে মূলধন বেরিয়ে গেলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লিকুইডিটির চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে লিকুইডিটি কমে যায়, অর্থের ঘাটতি দেখা দেয় এবং সুদের হার বৃদ্ধি পায়। আর বর্তমানে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, বরং ইউরোজোন এবং যুক্তরাজ্যের বন্ড মার্কেটেও দরপতন ঘটছে।

EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

২ অক্টোবর কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বৃহস্পতিবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে বেশ কয়েকটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। তবে প্রথম সিগন্যালটি বুধবার 1.1366–1.1377 এরিয়ার কাছাকাছি গঠিত হয়েছিল। সেই সিগন্যালের সুবাদে ট্রেডাররা 1.1267–1.1275 এরিয়ার দিকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থেকে মুনাফা অর্জন করতে পেরেছিলেন। এই পেয়ারের মূল্য 1.1267–1.1275 এরিয়া থেকে বাউন্স করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ফলে লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু স্টপ-লস ব্যবহারের ফলে সেই ট্রেডগুলো ব্রেক-ইভেনে ক্লোজ হয়ে যায়। এরপর একটি নতুন সেল সিগন্যাল কিছুটা বাড়তি মুনাফা পাওয়া সম্ভব হয়, কারণ এই পেয়ারের মূল্য কমে 1.1198–1.1218 এরিয়ার দিকে নেমে গিয়েছিল। সর্বশেষ ওই এরিয়া থেকে বাউন্সের ফলে এই পেয়ারের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় আবারও লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ পাওয়া যায়।

শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায়, হঠাৎ করেই ইউরোর ব্যাপক দরপতন ঘটবে—এমনটা আমরা মনে করছি না; তবে ট্রেডাররা এখনও মার্কিন ডলার ক্রয় করে যাচ্ছে এবং যেকোনো ইভেন্ট ও প্রতিবেদন উপেক্ষা করে চলেছে।

শুক্রবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1267–1.1275 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে অথবা 1.1198–1.1218 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন। এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে।

5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1132–1.1140, 1.1198–1.1218, 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে নন-ফার্ম পেরোল ও বেকারত্বের হার সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং সেইসাথে ইউরোজোনে মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তাই আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন অপেক্ষা করছে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account